সর্বশেষ আপডেট : ৩৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কি অপরাধ খাদিজার

1476892636আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের:: বসে বসে ভাবছি—কি অপরাধ ছিল সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজার? সে তো এম সি কলেজে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল, কারও ক্ষতি তো করতে যায় নি? তাহলে বদরুল তাকে নির্মমভাবে কোপাল কেন?

আসলে নারী হওয়াই খাদিজার অপরাধ!

বদরুলের মত বখাটেরা চায় তারা যখন খুশি তখন নারীদের উত্ত্যক্ত করবে। নারীরা মুখ বুঁজে সেই উত্ত্যক্ত সহ্য করে নিবে অথবা বখাটেদের অসাধু আহ্বানে সাড়া দিবে, তাহলে নারীরা খুব ভালো থাকবে। আর যদি খানিকটা প্রতিবাদ সে কিংবা তার পক্ষ হয়ে কেউ করে তাহলেই কেল্লাফতে।

এর আগেও বদরুল খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করেছিল। তখন খাদিজার পক্ষ নিয়ে কেউ কেউ বদরুলকে গণপিটুনি দিয়েছিল। সেই গণপিটুনির প্রতিশোধ নিতেই মনে হয় বদরুল খাদিজাকে নির্মমভাবে কুপিয়েছে।

কারণ এর আগে লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিসাকে ছুরিকাঘাত করেছিল যে দর্জি ছেলেটি, তাকে গ্রেফতারের পর জানা যায়—রিসার আম্মু তার নামে টেইলার্স মালিকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। রিসার আম্মুর অভিযোগের পর দর্জি ছেলেটির চাকরি চলে যায়। তার চাকরি কেন চলে গেল, তার নামে কেন অভিযোগ করা হলো এর প্রতিশোধ নিতেই সে নাকি রিসাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে!

খাদিজার ক্ষেত্রে মনে হয় সে রকমটাই ঘটেছে। কেন বদরুলকে খাদিজার সমর্থনে গণপিটুনি দেওয়া হলো?

কোন্ সমাজে আমরা বসবাস করছি। অপরাধীর অপরাধের বিচারও দেওয়া যাবে না! অপরাধীর অপরাধের প্রতিবাদও করা যাবে না! নালিশ দিলে বা প্রতিবাদ করলেই শুরু হয়ে যাবে চাপাতির কোপ বা ছুরির আঘাত!

খাদিজা ও রাইসার পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্কুলছাত্রী কনিকা ঘোষ ও মাদারীপুরের নিতু মণ্ডলদের উত্ত্যক্ত ও হত্যার ঘটনাও আমাদের সামনে এসেছে। এর আগেও এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে।

একের পর এক নারী উত্ত্যক্ততার ও আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমরা এক দুদিন চিল্লাচিল্লি করে থেমে যাই। অপরাধীরাও এক দুদিন চুপ থেকে আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে নারীদের উত্ত্যক্ত করলে বা আঘাত করলে এ দেশে কোনো কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না। কিছুদিন জেল খেটে তারপর আবার জামিন পাওয়া যাবে। অথবা কিছুদিন পলাতক থেকে অপরাধ ডিসমিস করে ফেলা যাবে। এজন্যই অপরাধীরা একের পর এক অপরাধ করেই চলেছে।

যদি অপরাধীদের ধরে ধরে জনসম্মুখে ফাঁসি দেওয়া হতো, তাহলে কেউ আর নারীদের উত্ত্যক্ত করার সাহস পেত না। নারীদের আঘাত করার বা কোপ মারার ধৃষ্টতা দেখাত না।

খাদিজাকে বদরুল কোপ মারার সময় অনেকে সেই দৃশ্য ভিডিও করেছে। দূর থেকে কেউ কেউ বদরুলকে থামানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এটা কি ভিডিও করার সময়? যারা ভিডিও করছিলেন এবং যারা দূর থেকে প্রতিবাদ করছিলেন তারা একজোট হলেই তো বদরুল খাদিজাকে এতগুলো কোপ মারার সময় পেত না। অপরাধীদের প্রতিবাদ করার জন্য আমাদের আরও সাহসী হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় অপরাধীরা আমাদের ভীতু ভেবে ঠাণ্ডা মাথায় অপরাধ করেই চলবে।

অপরাধের পর এম সি কলেজ ও সিলেট মহিলা কলেজের ভাইবোনরা প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আমি আপনাদের আহবান জানাচ্ছি—আল্লাহর দোহাই এবার যেন এ প্রতিবাদ থেমে না যায়। বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ার পরেই যেন আমরা প্রতিবাদের মাঠ থেকে ঘরে ফিরি।

এবার যদি বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, তাহলে আশা করি একটা লম্বা সময় আমাদের বোনরা নিরাপদ জীবন-যাপন করতে পারবেন। নিরাপদে স্কুল-কলেজ ও ভার্সিটিতে যেতে পারবেন। ঠাণ্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে পারবেন। অন্যদিকে বখাটেরাও কুকর্ম করার সাহস হারিয়ে ফেলবে।

লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, কুষ্টিয়া

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: