সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ব্যথায় কাতরাচ্ছেন খাদিজা, বাবার আর্তনাদ

thumb_717_522x341_0_0_cropডেইলি সিলেট ডেস্ক : সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসের শারীরিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথার অনুভূতি ফিরে আসছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক।
তিনি চোখ খুলছেন, ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন। এমনকি পরিচিতদের চিনতেও পারছেন। তবে শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম থাকায় ব্যথায় কাতরাচ্ছেন তিনি।
মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না বাবা মাসুক মিয়া।খাদিজার বাবা চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, খাদিজার দুই হাতে জখম রয়েছে। ডান হাতে জখমের ব্যথা সে অনুভব করতে পারছে। কান্নাকাটি করছে।
তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুরে যখন তাকে ডান হাতের অপারেশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমি দেখা করেছিলাম। তখন তাকে বলেছি আমি তোমার বাবা, আমাকে চিনতে পারছ? তখন সে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়েছে। পরে অপরিচিত একজনকে সামনে দাঁড় করিয়ে বলেছি তাকে চিনতে পারে কি না, তখন সে মাথা নাড়িয়ে না বলেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অপারেশনের পর হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) দেখতে যাই। তখন তার জ্ঞান ছিল। দেখলাম মেয়েটা আমার ব্যথায় কাতরাচ্ছে। ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলে আমাকে বলেন, খাদিজার শারীরিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথার অনুভূতি ফিরে আসছে।
খাদিজার সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য এটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন চীনে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত খাদিজার বড় ভাই শাহীন আহমেদ।তার দাবি, মস্তিষ্কের সিগন্যাল ছাড়া মানুষের শরীরের ব্যথা অনুভূত হয় না। তার মস্তিষ্ক যতটা কাজ করছে ততটাই শরীরে ব্যথা অনুভব করবে।তাকে নলের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে খাবার খাওয়ানো হবে। তারপর ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হবে।
মাসুক মিয়া বলেন, ‘চোখের সামনে মেয়ের এই কষ্ট বাবা হিসেবে কীভাবে সহ্য করব। কী অপরাধ ছিল আমার মেয়ের। বিনা অপরাধে সে এত কষ্ট সহ্য করছে। মেয়েটাকে দেখতে গেলে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।’খাদিজার বাবা বলেন, ‘দেশে এসে মেয়ের অবস্থা দেখে নিজেকে কীভাবে সামলে রাখব বুঝতে পারছিলাম না। মেয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, আমি কি মেয়ের নিরাপত্তা দিতে পারলাম না?’
সোমবার সন্ধ্যায় খাদিজার ডান হাতের সফল অস্ত্রোপচার শেষে স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক মেজবা উদ্দিন আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘খাদিজার বাঁ হাত অবশ থাকার কারণে শুধু ডান হাতেরই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। মাথার ডান পাশে আঘাত একটু গুরুতর হওয়ায় বাঁ হাত অবশ হয়েছে। তাকে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হবে। আশা করছি শিগগিরই তার বাঁ হাতের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হবে।’
এদিকে খাদিজার পায়েও কিছু জখম রয়েছে, তবে সেগুলো তেমন গুরুতর নয় বলে জানান চিকিৎসক মেজবা উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘যেসব কাজ আগে করা দরকার সেগুলোই আমরা গুরুত্ব দিয়ে আগে করছি। আমাদের প্রধান কাজ হলো তাকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা।’এদিকে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে খাদিজার বাবা জানিয়েছেন, খাদিজার অবস্থা ভালো পর্যায়ে আসতে আরো ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগবে।সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের মেয়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়েছে, এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। কারণ এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা আমার পক্ষে করানো সম্ভব নয়।’
স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি দেশে এসে আমার মেয়েকে দেখে প্রথমেই চিন্তা করেছি তাকে বাঁচাতে হবে। তবে এ কাজটি সহজ করে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আমার মেয়ের প্রতি তারা খুবই আন্তরিক। তারা নিজের মেয়ে মনে করে তার চিকিৎসা করছেন।’
গত ৩ অক্টোবর বিকেলে মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রথম দফা অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।৪ অক্টোবর স্কয়ার হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে ৯৬ ঘণ্টা পর খাদিজার অবস্থার উন্নতি হয় বলে জানান চিকিৎসকেরা। এখন তার অবস্থা উন্নতির দিকে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: