সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচন : এখন থেকেই প্রচারণায় আ’লীগ-বিএনপি-জাপা প্রার্থীরা

sylhet-jela-porishod-daily-sylhet-fনিজস্ব প্রতিবেদক::
আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হয়নি এখনও। তবে এখন থেকেই সিলেট বিভাগজুড়ে বইছে জেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাপা থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। সিলেটে নির্বাচন নিয়ে বেশ সরব রয়েছে আওয়ামীলীগ। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন যোগাযোগ। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে নিজের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং স্বতন্ত্র একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে দলের পক্ষে নির্বাচন করবেন বলে অনেকেই প্রচারণায় নেমেছেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হবে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মতো দলীয়ভাবে হবে না। কোনো রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না। তবে দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া যাবে।

সরকার আগামী ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে ভোট দেবেন স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মেয়র, পৌর চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, দু’জন ভাইস চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা।

অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের ১৫টি ওয়ার্ডের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও নির্বাচকমন্ডলীর সদস্যদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক ওই তালিকা তৈরি করে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছেন। তালিকানুযায়ী, সিলেট জেলায় ১ হাজার ৪৬৭ জন নির্বাচকমন্ডলী (ভোটার) রয়েছেন। যারা প্রত্যেকেই জনপ্রতিনিধি। একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন পুরুষ সদস্য এবং ৫জন নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠন করা হবে। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদকে ১৫টি ওয়ার্ডে ভাগ করার কাজ শেষে সীমানা চূড়ান্ত তালিকা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। ২১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে ৫জন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন। সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ভোটার ৪ হাজার ৭৬৯ জন। এর মধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন, ১৩টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা ও ১০৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সিলেট জেলা পরিষদের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৪৬৭ জন।

সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা নির্বাচন করবেন বলে নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, দলটির জাতীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আ.ন.ম. শফিকুল হক, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাম্পাদক অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। তবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন তা দলের সভানেত্রী, দেশরত্ম শেখ হাসিনা নির্ধারণ করবেন। তিনি বলেন, নেত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর যেই প্রার্থী হন তাঁকে নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ বসবে এবং বিজয়ী করতে কাজ করবে।
জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জাপা’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও সিলেট জেলার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী।

দলের যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে কোনো প্রার্থী দেয়া হবে না। এরপরও দলের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ যে প্রার্থীর জন্য কাজ করার নির্দেশ দিবেন আমরা তাকে বিজয়ী করতে কাজ করব।

বিএনপি থেকে নির্বাচন করবেন বলে নাম শোনা যাচ্ছে, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের নাম। তবে তারা দু’জনই বলছেন, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে প্রার্থী দেবে, তাঁরা দলের প্রার্থীর জন্য কাজ করবেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন লালা ও শিক্ষানুরাগী এনামুল হক সরদারের নামও শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা পরিষদ আইন-২০০০, জেলা পরিষদ ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ বিধিমালা-২০১৬ অনুযায়ী এবং একই আইনের সংশোধিত ৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: জয়নাল আবেদীন কাজ শুরু করেছেন। এরই লক্ষ্যে গত ২ অক্টোবর সিলেট জেলা পরিষদের ওয়ার্ড সীমানা ও নির্বাচকমন্ডলীর সদস্যদের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জেলা পরিষদের মোট ওয়ার্ড ১৫টি ও মহিলা সদস্য ওয়ার্ড ৫টি। ভোটারদের মধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ জন, জেলার ১০৫ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ ১ হাজার ৩৬৫ জন, ১৩ উপজেলার চেয়ারম্যান, ৪ পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরসহ ৫২ জন রয়েছেন।
একনজরে সিলেট জেলা পরিষদ :: ১ নম্বর ওয়ার্ডের সীমানা রাখা হয়েছে সিটি কর্পোরেশন, সিলেট সদর উপজেলা ও উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ। এখানে মোট ভোটার রয়েছেন ৯০ জন। ২ নম্বর ওয়ার্ড করা হয়েছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ও উপজেলার ৮ ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ১০৫ জন। ৩ নম্বর ওয়ার্ড করা হয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ সুরমার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ৯২ জন। ৪ নম্বর ওয়ার্ড করা হয়েছে সিলেট সদরের ৪টি ইউনিয়ন, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ৯২ জন। ৫ নম্বর ওয়ার্ড করা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার ৬টি এবং পার্শবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ১০৫ জন। ৬ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৯২ জন। ৮ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ৯২ জন। ৯ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ১০৫ জন। ১০ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ৯২ জন। ১১ নম্বর ওয়ার্ড করা হয়েছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৫টি ও পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ১০৪ জন। ১২ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ১০৫জন। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার সংখ্যা ১০৫ জন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলার ২টি ইউনিয়ন ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ৯২ জন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে কানাইঘাট উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও জৈন্তাপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে। ভোটার রয়েছেন ১০৪ জন। এছাড়া ৫টি মহিলা ওয়ার্ড করা হয়ে সাধারণ ৩টি করে ওয়ার্ডের সমন্বয়ে।

উল্লেখ্য, জেলা পরিষদ ব্যবস্থা ব্রিটিশ আমল থেকেই চালু ছিল। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে জেলা পরিষদ কাঠামোকে কার্যকর কেে জেলা গভর্ণর পদ্ধতি চালু করেন। কিন্তু তা কার্যকর হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। এরপর জিয়াউর রহমান আবার জেলা পরিষদ গঠন করেন। ওই সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হতো। জেলা পরিষদের মাধ্যমে তখন মূলত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। জেনারেল এরশাদের আমলেও জেলা পরিষদ কার্যকর ছিল। ১৯৮৮ সালে ঠিক হয় সরকার মনোনীত ব্যক্তিরা নন, সংসদ সদস্যরা হবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। কিন্তু ১৯৯১ সালে গঠিত বিএনপি সরকারের সময় জেলা পরিষদ অকার্যকর হয়ে পড়ে। ওই সময় উপজেলা পরিষদও বিলুপ্ত করা হয়। মূলত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো নির্বাচন না দেয়ায় জেলা পরিষদ অকার্যকর হয়ে পড়ে। সরকারের উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়ে এ পরিষদ পরিচালনা শুরু হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জেলা পরিষদ কার্যকরের উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বর জেলা পরিষদ আইন-২০০০-এর ৮২ (১) ধারা অনুযায়ী দেশের তিনটি পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। তবে ওই আইনে জেলা পরিষদের নির্বাচন কবে হবে এবং প্রশাসক কতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, তার কোন সময়সীমার উল্লেখ নেই।

n

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: