সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঝিনাইদহের ইলা মিত্রের জন্মদিন আজ, অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে পৈত্রিক ভিটা বাড়ি !

unnamedজাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহ : আজ ১৮ অক্টোবর তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী, নাচলের রানী ইলা মিত্রের জন্মদিন। ১৯২৫ সালের এই দিনে ভারতের কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় তার পিতা নগেন্দ্র সেন চাকুরী সূত্রে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজলোর বাগুটিয়ার রায়পাড়াতে ইলা মিত্রের পৈত্রিক বাড়ি। অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে ভিটা বাড়িটি। তার স্মৃতি সংরক্ষণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি তেমন কোন উদ্যোগ। এমনকি তার জন্ম অথবা মৃত্যু দিবসে তাকে নিয়ে তেমন কোন অনুষ্ঠান করা হয়নি। যা থেকে নতুন প্রজন্ম ইলা মিত্র ও তেভাগা আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারে।

এদিকে ইলা মিত্রের পৈত্রিক ভিটা উদ্ধার ও স্মৃতি সংরক্ষনে ঝিনাইদহে “ইলামিত্র স্মৃতি সংরক্ষন পরিষদ” নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আজ ঝিনাইদহ পায়রা চত্বরে মানববন্ধন , আলোচনা ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করবে বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম জানান, এটি সংরক্ষন করা হলে দর্শনার্থীদের জন্য পর্যটন স্থান হতে পারে। রক্ষা পাবে বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব। সল্পসময়ের মধ্যে বাড়িটির সংরক্ষনের কাজ শুরু হবে বলে সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসির।

ইলা মিত্রের সংক্ষিপ্ত জীবনি ও তার পৈত্রিক বাড়ি
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা সদর থেকে দক্ষিনে ১৩ কি.মি দুরে বাগুটিয়ার রায়পাড়াতে কাঁচা রাস্তার পাশে নানা শিল্প কর্মের স্বাক্ষী হয়ে এখনো দাড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী এ দ্বিতল বাড়িটি। চুন-সুড়কি দিয়ে গাঁথা ৯ কক্ষ বিশিষ্ট এ দালানটি ইতিহাসের স্বাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে থাকলেও তা রয়েছে অন্যের দখলে। ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ইটের গাথুনি ও ভীতগুলো।

বাব নগেন্দ্র সেনের চাকুরী সূত্রে ইলা সেনের জম্ম কোলকাতায়। ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন বেঙ্গলডিপুটি একাউন্টেন্ট জেনারেল। মা মনোরমা সেন গৃহিনী। ঝিনাইদহের শৈলকুপার ১২নং নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামে তার পৈত্রিক নিবাস। ইলা মিত্রের জন্ম কোলকাতায় হলেও ছোট বেলায় বহুবার তিনি বাগুটিয়া বাবার বাড়িতে এসেছেন।

১৯৪৫ সালে চাপাইনবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুর জমিদার বাড়ির রমেন্দ্রনাথ মিত্রের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তার নাম হয় ইলা মিত্র। বিয়ের পর ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত চাপাইনবাবগঞ্জে তেভাগা আনোদলনের নেতৃত্ব দেন তিনি।

অভিযোগ আছে শুধু বাড়িই না দখল করা হয়েছে ইলা মিত্রের বাবা নগেন্দ্র সেনের রেখে যাওয়া শত শত বিঘা জমি। সরকারি খাতায় এগুলো ভিপি তালিকাভূক্ত হলেও দখলকারীদের দাবি বিনিময় সুত্রে খরিদ করে তারা ইলা মিত্রের বাবার এ সম্পদ ভোগ করছেন।

এ বাড়িতে বসবাসকারী হাজী কিয়াম উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর বলেন, তারা বাড়িসহ ৮৪ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন বলে তাদের দাবি।

বাগুটিয়া গ্রামের ১১৬ নং মৌজার ২৩৪৫ দাগের উপর বাড়িটি যে তেভাগা আনোদালনের নেত্রী, সংগ্রামী নারী, নাচলের রানী ইলা মিত্রের পৈত্রিক ভিটা বাড়ি তা এখনো সকলের কাছে অজানা। তবে প্রত্নতত্ত বিভাগ, সংস্কৃমিন্ত্রণালয় বাড়িটি সংরক্ষনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান উপজেলা প্রশাসন। ইলা মিত্রের পৈত্রিক বাড়িটি প্রত্নতত্ত বিভাগ সংরক্ষনের নিমিত্তে বিজ্ঞপ্তি জারির চিঠি দিয়েছে বলে জানা যায়। তবে কাজ এখনো শুরু হয়নি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: