সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অপার সম্ভাবনার পর্যটন শিল্প ও সুন্দরবন

137011_1নিউজ ডেস্ক : ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’। প্রকৃতির লীলাক্ষেত্র আমাদের এ রূপসী বাংলাদেশ। আর রূপসী বাংলার এই অপর রূপকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করেছে পৃথিবীর একমাত্র ম্যানগ্রোফ ফরেস্ট সুন্দরবন। এদেশকে করে তুলেছে অপূর্ব রূপময়।

সুন্দরের রাণী সুন্দরবন ক্ষণে ক্ষণে তার রূপ বদলায়। খুব ভোরে এক রূপ, দুপুরে অন্যরকপ, পড়ন্ত বিকাল আর সন্ধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন রঙ্গে সজ্জিত হয়। মধ্য ও গভীর রাতে অন্য একরুপ। অমাবৎসায় ভয়াল সুন্দর আবার চাঁদনী রাতে নানান রূপ ধারণ করে সুন্দরী সুন্দরবন পর্যটকদের বিমহিত করে। বনের ভয়ংকরতা, বাঘের গর্জন, হরিণের চকিত চাহনি। বানর আর হরিণের বন্ধুত্ব, কুমিরের কান্না, পাখ পাখালির কলতান, শ্রবণ সুখ, বনের বিভিন্ন বৈচিত্র্য আর প্রকৃতিক সৌন্দর্য আর নৈস্বর্গিক দৃশ্য। আবার অশান্ত পানির বুকে উত্তাল ঢেউয়ের উন্মাদ নৃত্য অবলোকন করে পর্যটক উল্লাসিত, বিমোহিত ও আপ্লুত হয়।
যদিও দূরের পথ তবুও সুন্দরবন বেড়াতে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে শীর্ষে। কিছুটা ব্যয়বহুল, তারপরেও সারা বছর এখানে থাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা। যদিও বিশ্ব ঐতিহ্যে সুন্দরবনে পর্যটন বিকাশের পক্ষে বিপক্ষে রয়েছে নানা যুক্তি। তারপরেও অপর্যাপ্ত সুবিধা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা।

সুন্দরবনের সৌন্দর্য ছবি কিংবা ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে বর্ণনা করা সম্ভব না। বিশ্বের সবচেয়ে শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবন। যার বড় অংশই আমাদের। আর সেই গর্ব এদেশের সবার। তাইতো গভীর এ বনকে কাছে থেকে দেখতে সারা বছরই ভীর জমান পর্যটকরা। করমজল ছাড়াও পর্যটনরা যেতে পারেন হারবারিয়া, যাওয়া যায় সুন্দরবনের আরও দক্ষিণে কটকা, কচুখালি কিংবা নিউকমল।
বলা হয় সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা অপার। তবে সার্বিকভাবে পর্যটন বান্ধব পারিবেশ তৈরি হয়নি এখনো। পর্যটনের বিকাশ করতে গিয়ে সংরক্ষিত এ বন পরতে পারে হুমকির মুখে। তাই সুন্দরবনের বিকাশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের চিন্তা রয়েই গেছে। তারপরেও সুন্দরবনকে ঘিরে চলছে পর্যটন। ইতস্ততভাবে তা পরিচালনা করছে বন বিভাগ।

সুন্দরবনের ক্ষতি করে পর্যটন নয়, তাই এখানে এর বিকাশ কতটা যৌক্তিক তা নিয়েও ভাবনা শুরু হয়েছে।
দেশের অন্য পর্যটন কেন্দ্রেরগুলোর মত নয় শতভাগ পরিবেশ রক্ষা করে তবেই সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশ করতে হবে।
সুন্দরবন হতে পারে দেশ তথা বিশ্বের অন্যতম পর্যটন শিল্প। বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতি ও প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য নির্বাচনের পর থেকে সুন্দরবন নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীসহ বিশ্ববাসীর সুন্দরবন দেখার আগ্রহের শেষ নেই। যার ফলে দেশি, বিদেশী প্রকৃতি প্রেমীদের পদাচরণে মুখরিত হচ্ছে সুন্দরবন। এর ফলে সুন্দরবন হতে পারে বিশ্বের অন্যতম পরিবশে বান্ধব পর্যটন শিল্প।

বনের মোট আয়তন, ১০ হাজার ২শ’ ৮০ বর্গকিলোমিটার এর মধ্যে বাংলাদেশে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমটিার। দেশের মোট আয়তনের ৪.২ শতাংশ এবং বনাঞ্চলের ৪৪ শতাংশ। এই বনে রয়েছে সুন্দরী, পশুর, গেওয়া, কেওড়া, গরাণ, বাইনসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল এবং ১৩ প্রজাতির অর্কিড সুন্দরবনে আছে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতল হরিণ, বানর, শুকর, গুইসাপ, পাইথন ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপসহ ৩৭৫ প্রজাতির। এছাড়াও রয়েছে দেশি প্রজাতির বন্য প্রাণী যেমন- বন মোরগ, গাংচিল, মদনটাক, মাছাল সহ বিভিন্ন প্রজাতির ৩০০ এর বেশি পাখি। জালের মত বিছানো প্রায় ৪৫০টি ছোট বড় নদী ও খাল। এতে কুমির, হাঙ্গর, ডলপিন, ইলিশ, ভেটকি সহ প্রায় ২৯১ প্রজাতির মাছ আছে। প্রাণী ও বৃক্ষের বৈচিত্রময় সমাহারে এ বন বৈজ্ঞানিক নৃতত্বও প্রতœতাত্ত্বিক বিবেচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: