সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ক্ষেতলালের মামুদপুরে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা

pic-joypurhatনিউজ ডেস্ক : প্রতি বছর হিন্দু ধর্মবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপুজার দুদিন পরই মেলা বসে এ গ্রামে। তবে পূজার দুদিন পর শুক্রবার হওয়ায় আয়োজকরা এবার সেই আয়োজন করে গত শনিবার ।

শতবর্ষ আগে গ্রামের মুরব্বিদের উদ্যোগে আয়োজিত লাঠিখেলার প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের দেওগ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার মেলা।

মেলাকে কেন্দ্র করেই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে সেই অনাদিকাল থেকে চলে আসা স্বজনদের পদচারণার ব্যত্যয় ঘটেনি এবারও। মেয়ে-জামাইতো বটেই বাদ পড়েনি কাছের বা দূরের আত্মীয়রাও। মেলার দু’দিন আগে থেকেই শতবর্ষের ধারাবাহিকতায় গোটা গ্রামই যেন হয়ে যায় একটি পরিবার। আশপাশের কয়েক গ্রামের হাজার হাজার নারী-পুরুষ একদিনের জন্য মিলিত হয় সার্বজনীন এ মিলন মেলায়। গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ফলে এ পর্যন্ত মেলায় ঘটেনি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা। লাঠিখেলা হলেও একদিনের এ মেলা এলাকার সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন করেছে আরো দৃঢ়।

ষাটোর্ধ্ব বয়সের খেলোয়ার সামছদ্দিন জানান,‘দশ বছর বয়স থেকে তিনি এ মেলায় অনুষ্ঠিত লাঠিখেলার সাথে জড়িত। পুরস্কারও পেয়েছেন অনেক। কৈশোরে এ খেলা শেখার পর থেকে প্রতি বছর মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছেন। বয়সের কারণে খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর ছোট ভাই শহিদুল এখন তার জায়গা দখল করেছে।
মেলা কমিটির সম্পাদক ইউপি সদস্য মিলন রহমান জানান,‘প্রায় এক’শ বছর থেকে লাঠি খেলার এ মেলা চলে আসছে। গ্রামে এটা এখন রীতিমত বাৎসরিক তিথিতে পরিণত হয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করেই আশপাশের কয়েক গ্রামে স্বজনরা একত্রে মিলিত হন প্রতিবছর’।

মামুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানান, লাঠি খেলার এ মেলা আমাদের এই গ্রামের ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তিনি এবার লাঠি খেলোয়ারদের পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন।মেলা উপলক্ষে সকাল থেকে পাড়ায় পাড়ায় চলে লাঠিখেলা। অতিথিরা প্রাণভরে উপভোগ করে গ্রামবাংলার এই অতীত ঐতিহ্যকে লালন করার পুরস্কার হিসেবে খেলোয়ারদের নগদ টাকাও প্রদান করেন অনেকটা খুশি হয়েই।

একদিনের এই মেলায় মেয়েদের কসমেটিকস,প্রসাধনী সামগি, চুড়ি-ফিতা, বাচ্চাদের রঙ- বেরঙের খেলনা, প্রয়োজনীয় মাটির জিনিষপত্র, নানা জাতের মিঠাই মিষ্টান্নের দোকান বসে সারিবদ্ধভাবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: