সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গভীর সমুদ্র বন্দর কিংবা তিস্তা চুক্তি নিয়ে কেউ কথা বলছে না

91948478_hasinamodiphoto-550x309নিউজ ডেস্ক : গত রোববার রাতে ব্রিকস ও বিমস্টেক আউটরিচের অবকাশে নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ঠিক কি মডেল অনুসরণ করছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে গোয়াতে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এ খবর দিয়ে বিবিসি বাংলা বলছে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বা সার্কের সম্মেলন করা যে এই মুহূর্তে অর্থহীন সে বিষয়েও দুদেশ একমত হয়েছে।

তবে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ বা তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য আসছে না।

গোয়ায় চব্বিশ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে বিমস্টেক আউটরিচে যোগ দিতে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটিই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। আর সেটি ছিল আয়োজক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে চলতি বছরে এটিই ছিল প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং প্রত্যাশিতভাবেই তাদের মধ্যে প্রায় সব দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলার পর এই প্রথম দুজনের মুখোমুখি বৈঠক হল এবং বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কি ধরনের নীতি অনুসরণ করছে প্রধানমন্ত্রী মোদি সে ব্যাপারে সাগ্রহে খোঁজখবর নিয়েছেন।
খুব সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রায় একই সঙ্গে। এরপর বাংলাদেশ সফরে আসেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করার পর বাংলাদেশে এধরনের গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তার ইস্যু করে তোলার পর এনিয়ে আর কোনো আলোচনাই তালিকায় স্থান পাচ্ছে না। বেশ কিছু উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক চুক্তি হয়েছে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কিন্তু গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে কেউ কোনো কথা তোলেনি।

এক সময় কথা ওঠে চীন নয় ভারতই বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করে দেবে। যদিও ভারতের এধরনের নির্মাণ কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আমদানি ও রফতানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি গভীর সমুদ্র নির্মাণের বিষয়টি ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার বলয়ে চাপা পড়েছে। এর পেছনে সায় নেই যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ চীন বিভিন্ন দেশে একের পর এক গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ বা অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে যে ‘মুক্তোর মালা’ গড়ে তুলেছে তাতে বাংলাদেশ সংযুক্ত হলে তা খুব একটা ভাল চোখে দেখবে না যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘাঁটি গড়তে চায় না। তবে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের বিষয়টি পাকিস্তান ও শ্রীলংকা যত কৌশলে নিজেদের স্বার্থে আদায় করে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ সেখানে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না।

এরই মাঝে সার্ক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার্কের বদলে বিমস্টেককেই ভারত বা বাংলাদেশ এখন বেশি গুরুত্ব দেবে বলে অনেক পর্যবেক্ষকও ধারণা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের গণমাধ্যম দি হিন্দুকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সার্ক বিমস্টেকের বিকল্প হতে পারে না।

এই প্রসঙ্গটিও দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে উঠেছিল বলে নিশ্চিত করেছেন শহীদুল হক।
এছাড়া অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কথা হলেও প্রসঙ্গটি ‘সেভাবে ওঠেনি’ বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারত তিস্তা চুক্তি নিয়ে আগের মতই পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে তা পরিস্কার।

আগামী ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে আসতে পারেন, সে ব্যাপারেও দুদেশের মধ্যে কথাবার্তা চলছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
দুই প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও একমত হয়েছেন তাদের মধ্যে আরও বেশি করে দ্বিপাক্ষিক সফর আয়োজন হওয়া দরকার, প্রয়োজনে প্রোটোকল ভেঙেও।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: