সর্বশেষ আপডেট : ৪৭ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৯ মাসে ৩০৫ নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার

1476673286নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের ৯ মাসে দেশে ৩০৫ জন নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ২০৭ জনকে। এ সময় ১৪৯ জন নারী স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। আর স্বামীর পরিবারের সদস্যদের হাতে খুন হয়েছেন ৩৪ জন।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন ৩৯ জন নারী। এছাড়া পরিবারে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫৯জন নারী।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ডকুমেন্টেশন বিভাগে রক্ষিত জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত ঘটনা এর চেয়ে অনেক বেশি। এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ-২০১৫’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিবাহিত জীবনে কোনো না কোনো সময়ে আর্থিক, শারীরিক কিংবা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮০ দশমিক ২ ভাগ নারী। ২০১১ সালে এই হার ছিল ৮৭ ভাগ। বিজ্ঞজনেরা বলছেন, নারীর প্রতি পারিবারিক এই নির্যাতন আশঙ্কাজনক।

পরিবারেই কেন নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে এমন প্রশ্নের জবাবে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ নূর খান ইত্তেফাককে বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক অস্থিরতা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি, চাহিদার সঙ্গে যোগানের অমিল পারিবারিক অশান্তি বাড়াচ্ছে। দ্বিতীয়ত দেশের যে কোনো আইন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে শৈথিল্য বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারছে না। সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য প্রথমে সমঝোতা করলেও সে সমঝোতা বেশি দিন টেকে না। পারিবারিক মামলায় সাক্ষীর সুরক্ষা না থাকায় বিচার প্রাপ্তি সম্ভব হয় না। ফলে মানুষ মামলার বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে। আসামিপক্ষ সময়ক্ষেপণের সুযোগ পাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু ইত্তেফাককে বলেন, নারীর উপর নির্যাতন বন্ধে ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ২০১০ সালে পারিবারিক সহিংসতা ও সুরক্ষা আইন করা হয়েছে। তারপরও এই অবস্থা। এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। মানুষ হিসেবে নারীকে মেনে না নেওয়া একটা বড় কারণ। আবার আইন আছে কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা দরকার তাদের জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে। আরো একটি বিষয় হলো এখন পারিবারিক নির্যাতন আরো বেশি নৃশংস হচ্ছে। এটিও একটি আশঙ্কার বিষয়।

তিনি অবস্থা পরিবর্তনে দুটি বিষয়ে জোর দেন। প্রথমত-আইনগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে নারীর অধিকার সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে যে সকল বৈষম্যমূলক আইন আছে তা তুলে নিতে হবে। বিবাহ,তালাক ,উত্তরাধিকার আইনে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে নারী যোগ্য সম্মান পাবেন না। তাই এই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে সিডো সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি রাষ্ট্রকে বৈষম্য নিরসনে ভূমিকা পালনের আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা আছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এই অবস্থায় নারীর মানবাধিকার এভাবে লঙ্ঘিত হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি সংসদসহ সকল পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, বিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালের তুলনায় নারী নির্যাতনের হার ২০১৫ সালে কিছুটা কমে এসেছে। তার মানে এই নয় যে, এই তথ্যে আমরা সন্তুষ্ট। আমাদের লক্ষ্য হলো নারী নির্যাতন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। সরকার এর জন্য টোল ফ্রি হেল্পলাইন (১০৯২১) চালু করেছে। নম্বরটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে আগামী বছর পাঠ্যবইয়ের পেছনে এবং বাসের গায়ে লিখে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।-ইত্তেফাক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: