সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্ব ক্ষুধা সূচক : ১১৮ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৯০তম

map1443678588ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
ক্ষুধা ও অপুষ্টির হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আট বছরে ধারাবাহিক উন্নতি অব্যাহত থাকলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখনও অনেকটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট গত সপ্তাহে যে ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক’ প্রকাশ করেছে, তাতে ১১৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯০ তম, যদিও স্কোরের দিক দিয়ে উন্নতি হয়েছে। এই সংস্থার ২০০৮ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদের স্কোর যেখানে ছিল ৩২ দশমিক ৪, এবার তা কমে ২৭ দশমিক ১ হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এই সূচকে ভারত (৯৭), পাকিস্তান (১০৭) ও আফগানিস্তানের (১১১) চেয়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে আছে নেপাল (৭২), মিয়ানমার (৭৫) ও শ্রীলংকার (৮৪) চেয়ে। অপুষ্টি, শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা এবং শিশুমৃত্যুর হার- এই পরিস্থিতি বিচার করে ১০০ পয়েন্টের এই সূচক তৈরি করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শিশুর প্রতিদিনের গ্রহণ করা খাদ্েযর পুষ্টিমান গড়ে ১৮০০ কিলোক্যালরির কম হলে বিষয়টিকে ক্ষুধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, গত ১৬ বছরে বিশ্বে ক্ষুধার সূচকে ভয়াবহতা ২৯ শতাংশ কমেছে, আর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কমেছে ২৭ শতাংশ। তারপরও বিশ্বের ৫২টি দেশে ক্ষুধার্তের সংখ্যা রয়েছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে।
ক্ষুধা সূচক বলছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ অপুষ্টির শিকার; পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৪ দশমিক ৩ শতাংশের উচ্চতার তুলনায় ওজন কম; ওই বয়সী শিশুদের ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুর ওজন বয়সের তুলনায় কম এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে ১৬টি দেশ, তাদের স্কোর ৫ এর কম। আর সবচেয়ে বাজে, ১১৮ নম্বর অবস্থানে থাকা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের স্কোর ৪৬ দশমিক ১। এদিকে,খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। খাদ্যের পরিমাণগত এবং গুণগত উভয় ক্ষেত্রেই এই ঝুঁকি রয়েছে। এক সময় খাদ্যের নিরাপত্তা বলতে শুধু খাদ্যের পর্যাপ্ততাকেই বুঝানো হতো। কিন্তু এখন খাদ্যের পর্যাপ্ততার সঙ্গে যোগ হয়েছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য। আমাদের দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়লেও জনসংখ্যা অনুপাতে তা যথেষ্ট নয়। বর্তমানে সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা দু’ধরনের, একটা হচ্ছে পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে কিনা আরেকটি হচ্ছে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকলেও খাদ্যটি নিরাপদ কিনা। এখন দু’ধরনের খাদ্য ঝুঁকিতেই আছে বাংলাদেশ। প্রথমত আমরা বার্ষিক যে খাদ্যশস্য উৎপাদন করি চাল, গম, ভুট্টা মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু চালই উৎপাদন করি ৩ কোটি টনের উপরে। বাকিটা গম আর ভুট্টা। চাহিদা অনুযায়ী যে পরিমাণ গম উৎপাদন করা প্রয়োজন তা আমরা করতে পারি না। খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করতে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ লাখ টন খাদ্য আমদানি করতে হয়। আমদানিকৃত খাদ্যের মধ্যে দুই ভাগ গম আর এক ভাগ চাল। এর অর্থ হচ্ছে আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন করতে পারছি না। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা এবং উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়ার কারণেও আমরা খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি। সম্প্রতি খাদ্যশস্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে বাজারে। চালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। এটাও তো খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি হুমকি। সরকার দশ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণ করছে। যখন সরকার কমমূল্যে চাল বিতরণ করে তখন চালের বাজার নেমে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখন চালের দাম কমছে না বরং বাড়ছে। এটার প্রধান কারণ সরকার যখন চালটা কিনছে তখন চাতাল মালিকের কাছ থেকে কিনছে। কারণ এখন তো কৃষকের কাছে ধান-চাল নেই। চাতাল মালিকরা কারসাজি করছে। তারা চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। যে পরিমাণে চাল বাজারে আসার কথা সে পরিমাণে আসছে না। এদিকে বর্তমানে বিশ্ববাজারে গমের দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমাদের প্রয়োজন ছিল প্রচুর পরিমাণে গম আমদানি করা। বর্তমান বিশ্ববাজার অনুযায়ী দেশে আটার কেজি বিশ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। সরকারের ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে। নীতিনির্ধারণগত দৈন্যতাও আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আরেকটি কারণ। দ্বিতীয়ত আমরা যে খাদ্য পাচ্ছি সেটা কতটা নিরাপদ? শাকসবজি থেকে শুরু করে ফলমূল কোনোটাই আজ নিরাপদ নয়। এখন যেন খাদ্যে ভেজাল দেয়া আমাদের অধিকার হয়ে গেছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শক্ত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। আর সরকারকেই এর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম হাফিজ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খাদ্য উৎপাদন যেমন গুরুত্বপূর্ণ সেই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। শুধু ধান উৎপাদন করেই বলা যাবে না যে, আমরা খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে আছি। কারণ আমাদের নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের দেশ খাদ্য নিরাপত্তা থেকে অনেক দূরে আছে। ধানে আমাদের উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা সেভাবে এগুতে পারিনি। সেই জন্য আমি মনে করি খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি আমাদের নিরাপদ খাদ্যের দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত। ভেজাল ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন তা না হলে আমরা বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে যাবো। আমাদের দেশে আমিষ খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে। মাছের উৎপাদন আগের চেয়ে বেড়েছে। জনসংখ্যা অনুপাতে ডিম, দুধ ও মাংসের উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। ডিমের ঘাটতি প্রায় ৩০ ভাগ এবং দুধ ও মাংসের ঘাটতি প্রায় ৫০ ভাগ। খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রাণিসম্পদ। কিন্তু এদিকটি বরাবরই অবহেলিত। সরকার যদি প্রাণিসম্পদের দিকে নজর না দেয় তবে আমাদের খাদ্যে আমিষের ঘাটতি রয়েই যাবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: