সর্বশেষ আপডেট : ৪৯ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে কারণে ইসলামকে বেছে নিলেন তিন সুইস নারী

156652_1ডেইলি সিলেট ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডের একটি অংশে শুক্রবারে নারীদের বোরকা পরাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সেখানে বর্তমানে ইসলাম বিরোধী সেন্টিমেন্ট সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেখানে ইসলামের জয়যাত্রা অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম ইসলামে ধর্মান্তরিত তিন সুইস নারীর সাক্ষাৎকার নেয় এবং তাদের কাছে জানতে চান এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কেন তারা মুসলমান হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বারবারা ভেলজিজি

বারবারা ভেলজিজি

বারবারা ভেলজিজি তার খামারবাড়িতে স্বামীকে নিয়ে বসবাস করেন। তার স্বামী মূলত আলবেনিয়া থেকে আগত। তাদের তিন পুত্র, এক কন্যা এবং তার মাকে নিয়ে তারা খামার বাড়িটিতে  একসঙ্গেই থাকেন। ভেলজিজি ২৩ বছর বয়সে ১৯৯২ সালে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন।

ভেলজিজির তার সহজ ব্যাখ্যায় ইসলাম সম্পর্কে বলেন, ‘আমি মনে করি এটি একটি উত্তম বিশ্বাস।’

 

তিনি আল্লার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইসলামে আমি আমার প্রকৃত শান্তি খুঁজে পেয়েছি।’

গত নয় বছর ধরে তিনি মাথায় হিজাব পরেন এবং নিয়মিত নামাজ আদায় ও রোজা পালন করছেন এবং যতটা সম্ভব শুধু হালাল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন।

এছাড়াও তিনি তার নিজের এবং স্বামীর ভূমিকা পালনে একটি বাস্তবমুখী পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তিনিই মূলত পরিবারের জন্য উপার্জন করে থাকেন। তাদের সর্বশেষ বাচ্চার জন্মের পর থেকে তিনিই পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার স্বামী বাড়িতে পরিবারের অন্যদের দেখাশুনার কাজ করে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম ছাড়া এখন অন্য কোনো উপায় কল্পনাও করতে পারি না।’

নাটালিয়া ডারউয়িচ

নাটালিয়া ডারউয়িচ ছোটকাল থেকেই গভীর মনোযোগ দিয়ে ধর্ম চর্চা করতেন এবং সেন্ট্রাল সুইজারল্যান্ডে তার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন। যাইহোক, ৩০ বয়সে ক্যাথলিক চার্চ নিয়ে তার মনে নানা প্রশ্নের জন্ম নেয়।

একই সঙ্গে ঈশ্বর ও যীশুর কাছে প্রার্থনা করাকে তিনি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন নি। তিনি এটাকে অন্যায় বলে মনে করেন। এছাড়াও, তিনি ভ্যাটিকানের জাঁকজমককে এবং পাপ স্বীকারোক্তির ধারণাকে ছলনাপূর্ণ বলে মনে করেন। এসব কিছুই শুধু যাজকের চরিতার্থ করার জন্যই বলে তিনি মনে করেন।

একারণে তিনি চার্চ পরিত্যাগ করেন এবং আত্মিক শান্তির অনুসন্ধান করেন। তিনি কুরআনের সংস্পর্শে আসেন এবং অন্তত দুইবার কুরআনকে সম্পূর্ণভাবে পড়েন। কুরআন পাঠের মাধ্যমে তিনি ইসলামের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘কুরআন পড়ে আমি দেখতে পেলাম এখানে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবে।’

নাটালিয়া ডারউয়িচ ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বলেন,  ‘এটি ‘পুরো খ্রিস্টানিটির’ চেয়েও আরো বেশি কিছু।’

তিনি লেবানন বংশোদ্ভূত এক যুবককে বিয়ে করেন এবং শিয়া ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। নাটালিয়া ডারউয়িচ আট বছর আগে ৪০ বছর বয়সে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। গত ৩ বছর ধরে তিনি মাথায় হিজাব পরা শুরু করেন। সবসময় হিজাব পরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি তার চাকরিও ছেড়ে দেন।

নোরা ইলি

নোরা ইলি সুইজারল্যান্ডের জুরিখ প্রদেশের একজন সাধারণ যুবতী ছিলেন। তিনি একসময় পরীক্ষামূলকভাবে বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিরামিষ খাবার গ্রহণ করতেন। ইলি এখন সম্ভবত সুইজারল্যান্ডে ইসলামে ধর্মান্তরিত নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে সে তার মাথা এবং মুখ নেকাব দিয়ে ঢেকে নেন এবং যার মাধ্যমে তিনি ধর্মান্তরিত হন সেই মানুষটিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তিনি পাঁচ সন্তানের জননী। তিনি স্বামীদের বহুবিবাহের পক্ষে। এজন্য তিনি তার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণে কোনো অমত করেননি।

১৮ বছর বয়সে তিনি দুবাই ভ্রমণ করেন। সে মসয় মসজিদ থেকে ভেসে আসা মোয়াজ্জিনের সুমধুর আজানের সুর তাকে পুনর্জন্ম দেয়। ২০০২ সালে ইলি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। মাত্র দুই সপ্তাহ পরে তার প্রেমিকও ইসলাম গ্রহণ করেন। তারা দুজনেই এখন সুইজারল্যান্ডের র্যানডিকেল ইসলামী কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বর্তমানে সেখানে তাদের নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইলি বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণ করার আগে আমার কাছে মনে হতো  মুসলমানদের মধ্যে অনেক ধরনের কুসংস্কার রয়েছে এবং মুসলিম নারীরা নিপীড়নের শিকার।’

যাইহোক, পরে তিনি এই উপসংহারে আসেন যে, বৈষম্য হচ্ছে প্রায়ই একটি সাংস্কৃতিক বিষয় এবং এটি ইসলাম থেকে আসে নি। তিনি দাবি করেন, ইচ্ছে করলে নারীরা বাড়ির বাইরেও সক্রিয় হতে পারে এবং এতে কোনো বাধা নেই।

তিন নারীই কুরআনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গেও নিজেদের খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।

ভেলজিজি স্বীকার করেন যে, কোনো স্ত্রী অবাধ্য হলে সেই স্ত্রীকে প্রহার করতে পবিত্র কুরআনে স্বামীকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আঘাতকে সবসময় একটি চাপ বা বলপ্রয়োগ হিসেবে দেখা হয়। যদিও এর সঙ্গে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই এবং ওল্ড টেস্টামেন্ট গ্রন্থেও স্ত্রীকে পেটানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।’

তিন নারীকেই সুইস মূল্যবোধকে দৃঢ়ভাবে চিহ্নিত করতে দেখা যায়, বিশেষত মহিলাদের জন্য মুক্তির জন্য।

সুইচইনফো ডট সিএইচ অবলম্বনে

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: