সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রহস্যময় আফ্রিকার বিচিত্র উপজাতি ‘সুরি’

5-1-550x366আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফ্রিকার ইথিওপিয়ান উপজাতি ‘সুরি’। কষ্টকর ধর্মীয় রীতিনীতি, লিপ প্লেট বসিয়ে সুন্দরী, গবাদি পশু উৎসর্গ এবং ভয়াভহ মারামারি তাদের ধর্মচর্চার অংশ। ‘সুরি’ গ্রামে ৪০-২৫০০ মানুষের বাস। গ্রামের সব সিদ্ধান্ত গ্রাম্য প্রধান ‘কোমুরু’ গ্রহন করেন। পশুপালনও মাদকদ্রব্য বিক্রি করে নারীরা অর্থ আয় করেন। গৃহস্থালি কাজও তারাই দেখাশুনা করেন।

গবাদিপশু সুরিদের জীবনের সাথে ওপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এর ওপর তাদের সামাজিক মর্যাদা নির্ভর করে। যখন কোন সুরি একে অপরের সাথে পরিচিত হয় প্রথমেই জিজ্ঞেস করে, কার কয়টা গরু আছে? এটি তাদের দুধ ও রক্তের উৎস। গরু জবাই করে মাংস নেয়ার পরিবর্তে সুরিদের কাছে গরুর রক্ত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রীষ্মকালে গরুর ওলানে যখন দুধ থাকে না তখন তাদের ঘাড়ের অংশ ছিদ্র করে রক্ত বের করে নেয়া হয়। তবে সুরিরা গবাদিপশু সচরাচর বিক্রি বা রক্ত ও মাংসের জন্য হত্যা করে না। নির্দিষ্ট কিছু উৎসবে তাদের উৎসর্গ করা হয়। প্রতিটি সুরির ৩০-৪০ টি গরু আছে। বিয়ে করার সময় সুরি পুরুষকে তার স্ত্রীর পরিবারকে ৬০টি গরু পণ দিতে হয়। এমনকি সুরি উপজাতিরা অন্য উপজাতির থেকে তাদের পশুকে রক্ষা করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকে। গরু মারা গেলে সুরিরা কান্না করে ও শোক প্রকাশ করে।
বর্তমানে ‘সুরি’ গ্রামে অনেক দর্শনার্থী ভ্রমণ করলেও সুরিদের ব্যবহার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য আসে নি। অবশ্য তাদের ব্যবহারের ব্যাপারে ভাল অভিজ্ঞতা কারোরই হয় নি। পর্যটকরা অনুমতি ছাড়া তাদের ছবি তুললে তার বিনিময়ে অর্থ দাবি করে বসে সুরি’রা।

3-3-550x357ঠোঁট কেটে ‘লিপপ্লেট’, শরীর কেটে ‘নকশা’
দাঁত ভেঙে, ঠোঁট কেটে তার মধ্যে লিপপ্লেট বসানো সুরি নারীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে কেউই বলতে পাওে না প্রথম ঠোঁটে লিপলেট কে লাগিয়েছিল। বয়ঃসন্ধিকালে এক অনুষ্ঠানে দাঁত ভেঙে তার মধ্যে ক্রিকেট ব্যাট বা থালার মত ডিস্ক ঠোঁটের চারপাশে বসানো হয়। প্রচন্ড ব্যথা লাগলেও মোটা অঙ্কের পণ পাওয়ার জন্য এটা করতে হয়। যে মেয়ের লিপ প্লেট যত বড় হবে, বিয়েতে তার বাবা-মা তত পণ পাবে। আর ছেলেরা বিবাহযোগ্য হওয়ার জন্য শরীরের ছুঁচের মাধ্যমে রঙ মাখে। সুরি নারী নাবালা বলেন, অনেক আগে আমার ঠোঁট কাটা হয়েছিল। আমার বাবা-ভাই এটি কেটে দেয়। কারণ এটি না কাটলে আমি বিয়ে করতে পারব না না আর আমার পরিবারও কোন পশু পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে ।

ঠোঁট কেটে লিপপ্লেট লাগানো ছাড়াও সুরি মেয়েরা তাদের দেহকে উৎসর্গ করে। ধারালো ব্লেড দিয়ে পুরো শরীর নকশায় অঙ্কিত করে তারা। এই উপজাতির ছেলেরা শত্রুকে মারার ক্ষমতা অর্জনের জন্য শরীরের ‘নকশা’ করে থাকে।

4-2-550x367ডোঙ্গা
‘ডোঙ্গা’ বা লাঠি দিয়ে মারামারি করা মার্শাল আর্টের একটি অংশ। তবে এটি সুরিদের কাছে ধর্মীয় রীতি ও আনন্দের উৎস। সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে ২০-৩০ জন সুরি যোদ্ধা এতে অংশগ্রহণ করে, লাঠি দিয়ে একজন আরেকজনকে রক্তাক্ত করে ফেলে, যে যতক্ষণ টিকে থাকতে পারে সেই হয় বিজয়ী। এই খেলায় যে কোন মূহুর্তে আপনি মারা যেতে পারেন।

এটি সুরি তরুণদের নিজেকে বিয়ের উপযোগি হিসেবে তুলে ধরার মাধ্যম। এই খেলায় যে ভাল করে সে শত্রু উপজাতি হতে নিজেদের রক্ষার ত্রাণকর্তা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সে তার পছন্দমত মেয়েকে বিয়ে করতে পারে।
সুরিদের ‘শত্রু’

উত্তর ইথিওপিয়ায় ১৫-১৬টির মত উপজাতি বাস করে এবং তারা একে অপরের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে লিপ্ত। গবাদি পশুকে আক্রমণ বা ছিনতাই সুরি’দের জীবনের দৈনন্দিন চিত্র। দীর্ঘকাল হতে ‘নায়ানগাতোম’ উপজাতি সুরিদের শত্রু। দশ বছর আগে সুরিদেরকে তাদের ঐতিহ্যগত ভূমি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। অন্য শত্রু ‘তপসা’ উপজাতি। সুদান সীমান্তে বাস করা এই উপজাতি নায়ানগোতোমদের সাথে হাত মিলিয়ে সুরিদের পশু আক্রমণ করে এবং তাদের চারণভূমি দখল করে।

সুরিদের ভবিষ্যত
গত ২০ বছরে সুরি’রা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে। আগে গ্রাম্যপ্রধান অন্যান্য উপজাতিও নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করত। অস্ত্র তাদের মধ্যে সহিংসতার সৃষ্টি করেছে। ১৯৮০ সালে তারা সুদান থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র চোরাচালান করে।

সুরি’রা ক্রমেই ইথিওপিয়ার অংশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আদ্দিস আবাবা সরকার তাদের ‘গোলযোগপূর্ণ’ উপজাতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সুরি’রা বঞ্চিত এবং বৈষম্য বোধ করছে। তারা বলছে, প্রতিবেশিরা তাদের আক্রমণ করা সত্ত্বেও সরকার তাদের লাঞ্চনা করছে। পশু আক্রমণ এবং লিপপ্লেট গ্রহণের মত সংঘাতপূর্ণ ও ক্ষতিকর নিয়মটি ইথিওপিয়া সরকার বন্ধ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।। ১৯৯৪ সালে ‘ডোঙ্গা’ নিষিদ্ধ করা হলেও এটি খুব কমই প্রভাব ফেলেছে। যদিও বর্তমানে তরুণ সুরিরা রক্তারক্তি এবং কষ্টকর ধর্মীয় রীতিনীতিকে প্রত্যাখান করেছে।

2-6সম্প্রতি ইইউ সুরিদের স্থান নির্ধারিত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে এবং সুরিদের বন্য জীবনের বৈচিত্রকে পর্যটনের অন্তভুর্ক্ত করতে কাচ করছে। আগে না হয় পরে কর্তৃপক্ষকে সুরিদের জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান এবং তাদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে কালের ¯্রােতে হারিয়ে যেতে পারে আফ্রিকার বৈচিত্রময় উপজাতি ‘সুরি’।- সূত্র: বিবিসি, ডেইলি মেইল, উইকিপিডিয়া

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: