সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় ঐশী

resize58080নিউজ ডেস্ক:
বাবা ও মায়ের একমাত্র মেয়ে ছিল ঐশী। তার কোনো আবদারই অপূর্ণ রাখেনি পিতা-মাতা। তার আবদারেই মতিঝিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে তাকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করেছিলেন। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। স্কুলটিতে ভর্তি হওয়ার পরই ঐশীর সঙ্গে পরিচয় হয় পুরান ঢাকার এক ডিজে পার্টির সদস্য রনির। এরপর সে জড়িয়ে পড়ে অন্ধকার জগতে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নিতে থাকে। পরিবারের কারও কোনো কথা শুনতো না ঐশী। এরপরের ঘটনা নৃশংস, নির্মম। বাবা-মাকে হত্যার পর বেরিয়ে আসে তার নষ্ট জীবনের নানা কথা। সেসব ঘটনা দেশবাসীকে হতবাক করে দেয়। ভাবিয়ে তুলে অভিভাবকদের। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর নিম্ন আদালত ঐশীর সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। ওই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছে ঐশী। ঐশী এখন কাশিমপুর কারাগারে বন্দি। রমনা থানার চামেলীবাগের একটি বাসায় স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শিশু গৃহকর্মীকে নিয়ে থাকতেন পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান। ২০১৩ সালের ১৬ই আগস্ট ওই বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী সালমা বেগমের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে তাদের মেয়ে ঐশীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রমনা থানায় গিয়ে ঐশী আত্মসমর্পণ করে। ঐশী পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। সূত্র জানায়, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ঢাকা মহানগর আদালত ২০১৫ সালের ১২ই নভেম্বরে ঐশীকে ফাঁসির আদেশ দেন।

হত্যাকাণ্ডের পর ঐশীকে আশ্রয় দেয়ায় তার বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন ঐশীর আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি। ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে ঐশী। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ঐশী পরিকল্পিতভাবে, সময় নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। খুনের সময় সে সুস্থ স্বাভাবিক ছিল। ঘটনার সময় ঐশীর বসয় ১৯ বছর ছিল বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিশ্চিত করে।

ঐশীর আইনজীবী মো. মাহাবুব হাসান রনি জানান, নিম্ন আদালতে ঐশী ন্যায় বিচার পায়নি। নিম্ন আদালত ঐশীকে ফাঁসির রায় প্রদান করেছে। তিনি আরো জানান, ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঐশী উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। পুলিশ ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমানের আরো এক সন্তান রয়েছে ওহি। ঐশী তার বড় সন্তান। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে। সেখানকার নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন তার ভালো লাগেনি। তার চাপে বাবা ও মা তাকে ২০১১ সালে ধানমন্ডির ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অক্সফোর্ডে ভর্তি করেন। ভর্তির পর ব্যক্তিগত গাড়িতেই চলাচল করতো সে। মাঝে-মধ্যে রিকশায়ও যেতো। সূত্র জানায়, ওই স্কুলে ভর্তির পর থেকে ঐশীর আচরণ ও জীবনযাপনে পরিবর্তন ঘটতে থাকে। বেপরোয়া জীবনযাপনের জন্য তাকে তার বাবা ও মা বকাঝকা করতেন। রাত করে বাড়ি ফেরা, স্কুল ফাঁকি দিয়ে আড্ডা মারা ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। স্কুল যাতায়াতের মাঝে একপর্যায়ে ঐশীর সঙ্গে পরিচয় হয় রনি ও জনি নামে দুই যুবকের। রনিই মূলত তাকে ওই অন্ধকারে পথে নিয়ে যায়। এরমধ্যে পারভেজ নামে এক যুবকের সঙ্গেও তার পরিচয় হয়। পারভেজ পুলিশকে জানিয়েছে, ঐশীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার বেপরোয়া জীবনের কারণে ঐশীর কাছে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেন তার মা। ফলে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায় তার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা-মাকে হত্যা করে সে।

পুলিশ জানায়, ওই দিন রাত ১১টার দিকে ঐশী তার বাবা ও মাকে ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো কফি পান করতে দেয়। এরপর রাত ২টার দিকে ঐশী খঞ্জর টাইপের একটি ধারালো ছুরি দিয়ে বাবা ও মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ঐশী বাবা ও মায়ের নিথর দেহ বাথরুমের মধ্যে ফেলে রাখে। এরপর বাসা থেকে ঐশী তার ছোট ভাই ওহিকে নিয়ে চলে যায়। পরের দিন ঐশী রমনা থানায় গিয়ে আত্মসমপর্ণ করে। এ বিষয়ে পুলিশের এসি (প্রসিকিউশন) মো. মিরাস উদ্দিন জানান, বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ঐশীর সাজা হয়েছে। এখন উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: