সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা

1476500292নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদদ দেওয়া নিয়ে আমরা অনেকেই হতাশ। পাকিস্তানের পরিস্থিতির কারণে আমরা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কাশ্মিরের উরিতে সেনা ঘাঁটিতে হামলার জন্য ভারত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দিলেও বাংলাদেশের জন্য কারণটি একেবারেই ভিন্ন। ভারতের দৈনিক দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। দ্য হিন্দুর সুহাসিনী হায়দারকে দেওয়া সাক্ষাত্কারটি গতকাল শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। সাক্ষাত্কারে সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশের যোগদান, ভারত-পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান, সন্ত্রাসবাদ দমনসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ উঠে আসে।

বাংলাদেশ ১৯৮০ সালে গঠিত সার্কের প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু এ বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক সম্মেলন বর্জনকারী দেশগুলোরও একটি বাংলাদেশ। এর অর্থ কি সার্কের সমাপ্তি এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, না। আমরা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছি যে, সার্ক অঞ্চলে এখন যে পরিবেশ-পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা সার্ক সম্মেলন করার উপযোগী নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে পাকিস্তান অসন্তুষ্টি জানিয়েছে এবং তাদের পার্লামেন্টে ইস্যুটি উত্থাপিত হয়েছে। অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করার মাধ্যমে তারা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। এ প্রচেষ্টায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। এ ধরনের আচরণের কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য আমার ওপর চাপ রয়েছে। কিন্তু আমি বলেছি, সম্পর্ক থাকবে এবং আমাদেরকে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।

পাকিস্তান থেকে উত্সরিত সন্ত্রাসবাদ কী আপনার জন্য প্রধান ইস্যু নয়? বাস্তবতা হলো, উরি হামলার পর একই সময়ে বাংলাদেশ, ভুটান, আফগানিস্তান ও ভারতের সার্ক সম্মেলন বর্জনকে সমন্বিত সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তানকে একঘরে করতে এমনটা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আমরা সার্ক সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সন্ত্রাসবাদের কারণে সেখানকার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ওই সন্ত্রাসবাদ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ কারণে আমরা অনেকে পাকিস্তানের ওপর হতাশ হয়েছি। ভারত-পাকিস্তানেরও দ্বিপাক্ষিক সমস্যা রয়েছে এবং আমি সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না। উরির হামলার কারণে ভারত সার্ক বর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কারণটা ভিন্ন।

প্রতিটি দেশের সীমান্ত ও এর নিয়ন্ত্রণ রেখা অবশ্যই মেনে চলা উচিত।

সন্ত্রাসীদের হত্যার জন্য সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতের সেনাবাহিনীর অভিযান চালানোর ব্যাপারে ভারতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি দুই দেশেরই নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) এর গুরুত্ব মেনে চলা উচিত এবং এর মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশেও একই ধরনের অভিযান আপনি সমর্থন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এই প্রশ্নটি আপনার দেশের (ভারতের) সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে করা উচিত। আমি বিশ্বাস করি, সীমান্ত ও এর নিয়ন্ত্রণ রেখা পুরোপুরি মেনে চলা উচিত। প্রতিবেশী দুই দেশকে সংঘাত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কোনো রকম সংঘাত, উত্তেজনা আমরা কখনো চাই না। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় থাকুক। এই অঞ্চলের এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের সংঘাত হলে বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি।

ভারত বিরোধী সন্ত্রাসীদের দমন ও শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসীদেরকে ধরে ভারতের কাছে হস্তান্তর দুই দেশের সম্পর্কের মূল চালিকা শক্তি। সন্ত্রাসবিরোধী পারস্পরিক সহযোগিতার এখন অর্থ কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদেরকে শেকড় গাড়তে দেয়া হবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। অন্য দেশে জঙ্গি হামলা চালাতে কোনো গোষ্ঠীকে আমরা আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেব না। বাংলাদেশ এখন আর সন্ত্রাসবাদের উত্পত্তির দেশ নয় বা আগের মতো অস্ত্র পাচারের সিল্ক রুটও নয়।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসবাদবিরোদী যুদ্ধ চালানোর কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমর্থন হারাচ্ছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এমন অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভুক্তভোগীদের চেয়ে অপরাধীদের অধিকারের পক্ষেই বেশি সোচ্চার। হলি আর্টিজানে হামলার পর সরকার বলেছে জড়িতরা আইএস সদস্য নয়, স্থানীয়। কিন্তু আইএস দায় স্বীকার করেছে এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হতে পারে হামলাকারীদের কেউ কেউ আইএস দ্বারা প্রভাবিত। তবে এখানে আইএসের কোনো সাংগঠনিক অস্তিত্ব নেই। আমরা হামলাকারীদের শনাক্ত করেছি। তারা স্থানীয়।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সফর ও বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনের চেয়ে ভারতের পিছিয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সত্যিকার অর্থে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেক বেড়েছে, বিশেষ করে ভারত আমাদেরকে শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত সুবিধা (২০০৭-০৮) দেওয়ার পর সে বাণিজ্য জোরালো হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক ভালো এবং তা ক্রমাগত বাড়বে।’

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপিকে ফিরিয়ে আনবেন কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নিজেদের সিদ্ধান্তে নির্বাচন বয়কট করে। আমি নিজে খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছি কিন্তু তিনি ধরেননি। তিনি তার দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ ও সহিংসতা চালাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্বাচন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ভুল করেছেন। তবে আমি আশা করি আগামীতে তিনি একই ধরনের ভুল করবেন না। তবে আমি তার অপকর্মের জন্য গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলতে দেব না।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: