সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কাদের হাতে যাচ্ছে রাজত্ব?

250389_1-550x180নিউজ ডেস্ক:: কমিউনিস্ট রাজত্বের অবসানসহ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অনেক চমক আসছে। এমনকি সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন, ওয়াকিং কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় প্রজন্মের ঠাঁই, ঘটনাবহুল চমক হয়ে আর্বিভূত হতে পারে এই কাউন্সিল। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেন তার আভাস এখনো কেউ পাচ্ছেন না।
উপমহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় নেতৃত্ব দানকারী প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠেছে। কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়েছে। ২২-২৩ অক্টোবরের এই কাউন্সিল ঘিরে এখন প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুদৃশ্য মঞ্চ নির্মাণের কাজ ও তা তদারকি শুরু হয়েছে। মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটিই নয়; শৃঙ্খলা কমিটিও দিনের পর দিন বৈঠকের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সাফল্য ঘরে তুলতে শৃঙ্খলা রক্ষার রোডম্যাপ ও প্রস্তুতি নিয়েছে। অভ্যর্থনা কমিটি ব্যস্ত দেশি-বিদেশী মেহমান নিয়ে। মেহমানদের আপ্যায়ন, দেখভাল, থাকা-খাওয়ার সার্বিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। খাদ্য ও আপ্যায়ন উপকমিটি এখন ব্যস্ত প্রায় ৪০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের সুশৃঙ্খলভাবে খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিয়ে। গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংশোধনী উপকমিটি তাদের কাজ শেষ করেছে।
২২ অক্টোবর সকাল ১০ টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের ২০তম জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হবে। মধ্যাহ্নভোজের পর জেলা নেতাদের বক্তব্য শোনা হবে। ২৩ অক্টোবর বিকেলে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হবে কাউন্সিল অধিবেশনে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাতে পরিবার পরিজনসহ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে আওয়ামী লীগকে উৎখাত করাই হয়নি; রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনা হয়েছিল। সামরিক শাসন কবলিত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভাগ্যে বিয়োগান্তক জেলাহত্যা, কারাদহন, নির্বাসনসহ কঠিন বিপর্যয় নেমে এসেছিল। ১৯৮১ সালে ইডেন কাউন্সিলে নেতৃত্বের লড়াইয়ে দল যখন ভাঙনের মুখে, তখন দিল্লীতে নির্বাসিত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই কাউন্সিল রজনীতে ইডেন ঘিরে ছিলো সশস্ত্র দু,গ্রুপের কর্তৃত্ব প্রতিষ্টার মহড়া। অন্যদিকে সেনাশাসক জিয়াউর রহমান বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগের ভাঙনের খবর শুনতে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছিলেন। ভোরবেলা যখন খবর পেলেন দলের ভাঙনের বদলে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তখন জেনারেল জিয়া তার সামরিক সচিব জেনারেল মরহুম সাদেক আহমেদ চৌধুরীকে বলেছিলেন-‘দেশটা ইন্ডিয়া হয়ে গেলো।’ এমন মন্তব্য করে বাসভবনে রওনা দিয়েছিলেন ঘুমানোর জন্য।
আর সেই থেকে আজ পর্যন্ত নানা চড়াই উৎরাই, আন্দোলন, সংগ্রাম, দলের ভিতরে বাইরে নানা বাঁধা বিপত্তি, ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনা এবারের কাউন্সিল মিলিয়ে ৩৫ বছর ধরে দলের সভানেত্রী হিসেবে সংগঠনে তার একক নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছেন।

আজকের আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা নিজেই। এই উচ্চতায়, ইমেজ, ভাবমূর্তিতে, নেতৃত্বে, ব্যক্তিত্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কারণে তিনি যতবারই বলেছেন-নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা, ততবারই দলের লাখো কোটি কর্মী সমর্থকদের হয়ে হাজার হাজার কাউন্সিলর ডেলিগেটরা স্বতস্ফূর্তভাবে তাকেই সভানেত্রী নির্বাচিত করেছেন। বিগত কাউন্সিলের মতো এবারের কাউন্সিল অধিবেশনেও আওয়ামী লীগ তাকেই পুনরায় দলীয় সভানেত্রী পদে অভিষিক্ত করে সাধারণ সম্পাদকসহ ওয়াকিং কমিটির নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব তার ওপর হস্তান্তর করবেন এমনটি প্রায় নিশ্চিত।

এই দীর্ঘ ৩৫ বছরের তার রাজনৈতিক ইতিহাস কুসুমাস্তীর্ন ছিল না। কখনো মৃত্যুঝুঁকি, কখনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ তাকে মোকাবিলা করেই এই জায়গায় দলকে নিয়ে আসতে হয়েছে কণ্টকাকীর্ণ পথে। দলের ভিতরে যারা তার মতের বিরোধী ছিলেন, তাদের কেউ কেউ দলের বাইরে চলে গেলেও সাংগঠনিক বা গণসমর্থন নিয়ে দাঁড়াতে পারেননি। এমনকি যারা দলের ছায়ায় সরকারে বা সংসদে আছেন তারাও ২০০৯ সালের কাউন্সিলে ঘোষিত-‘ক্ষমা করেছি কিন্তু ভুলিনি’ এই নীতির করুণাসৃত হয়েই নিঃর্শত সমর্থন দিয়ে আছেন।

দলের অভ্যন্তরে যারা দলীয় নেতৃত্বে থাকলে সরকারের নেতৃত্বে নয় এমন জিগির তুলে সংস্কারের প্রস্তাব এনেছিলেন তারা পরাস্ত হয়েছেন। দলের সর্বত্র নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার। এমনকি দলের বাইরে যে শক্তি তাকে গ্রেনেড হামলায় উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল তারা এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও গণমাধ্যম থেকে সিভিল সোসাইটিতে শেখ হাসিনা কিভাবে নিজের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছ্নে, প্রতিপক্ষকে এখন তাই দেখে যেতে হচ্ছে। দলের বিতর্কিত অনেককেও ধাপে ধাপে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন।

শুধু তাই নয়; স্বাধীন বাংলাদেশে যারা বঙ্গবন্ধুর মতো বিশাল নেতৃত্বের সামনে দাঁড়িয়ে তার উদার গণতান্ত্রিক হৃদয়ের মহত্ত্বের সুযোগে বলেছিলেন, ‘ শেখ মুজিবের চামড়া দিয়ে জুতা বানাবেন, চামড়া দিয়ে ঢোল আর হাড্ডি দিয়ে ডুগডুগি বাজাবেন’ সেই তারাই এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে মুজিব কন্যার পায়ের জুতা নিজেদের রাজনৈতিক চামড়া দিয়ে পালিস করছেন। ৩৫ বছরের রাজনীতিতে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কাউকে ঘরের বিড়াল, কাউকে বা রাজপথের খোড়া ঘোড়া বা নখদন্তহীন বাঘ বানিয়ে রেখেছেন। এদের কেউ কেউ তার পিতার সঙ্গে ঔদ্বত্ব্য দেখিয়েছিল, কেউবা তাকে দেখিয়েছিলেন। কেউ আবার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। একাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসিতে ঝোলাচ্ছেন।

পাঁচ ধরণের বড় চ্যালেঞ্জের সাফল্য তাকে দেশের মধ্যেই নয়, আন্তজার্তিক দুনিয়াতেও প্রবল আতœবিশ্বাসের জায়গায় উঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-সামরিক শাসনের কবল থেকে গণতন্ত্র মুক্তি, আওয়ামী লীগকে ৩ দফা ক্ষমতায় আনা, বঙ্গবন্ধু ও মানবতাবিধীদের বিচার, ওয়ান -ইলেভেনের দুর্যোগ থেকে নিজেকে স্বমহিমায় নেতৃত্বের আসনে ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনই নয়, তা নিরঙ্কুশভাবে অব্যাহত রেখে বিশ্বনেতৃত্বের আস্থা অজর্ন।

এবারের কাউন্সিলে নেতারা বলেছেন, চমক আসছে। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন-এই কাউন্সিল থেকে ঐতিহাসিক ঘোষণা আসবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পিতা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম জেল হত্যাকাণ্ডে শহীদ হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সেই ভাগ্যবান যিনি ১৯৯৬ এর নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে কিশোরগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেখ হাসিনার প্রথম সরকারে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন। আব্দুল জলিল যখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তখন ওবায়দুল কাদের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। ওয়ান ইলেভেনে ওবায়দুল কাদের কারা নির্যাতনের শিকার হন। মরহুম আব্দুল জলিলও কারা নির্যাতন ভোগ করেন। আশরাফ তখন কৌশলের পথ নিয়ে লণ্ডন চলে যান। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দেশে ফিরেই ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন। মরহুম আব্দুল জলিল জীবিত থাকলেও আশরাফই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০০৯ সালের সম্মেলন পরিচালনা করেন। সেই সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফকে সাধারণ সম্পদক নির্বাচন করেন শেখ হাসিনা। বিগত কাউন্সিলে তিনি দ্বিতীয় দফা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দলে প্রচলিত আছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তাকে টেলিফোনে পান না। তিনি একজন আদর্শিক, সৎ ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে সকল মহলের গ্রহণযোগ্য হলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে তাকে পাওয়া যায় না। নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া, জেলা ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এমনকি দর্শনও দেননা। তবুও দলের সংস্কারপন্থীরাও তিনি সাধারণ সম্পাদক হলে খুশি।

এবারের কাউন্সিলে যখন চমকের কথা বলা হচ্ছে তখন প্রশ্ন উঠেছে-তাহলে কি আশরাফের জায়গায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন শেখ হাসিনা? ২০১৯ সালের নির্বাচন সামনে রেখে যখন এবারের কাউন্সিলে দলের ওয়াকিং কমিটি বা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো হচ্ছে তখন এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। ওবায়দুল কাদের ৬৯ এর ছাত্র আন্দোলন দিয়ে ধীরে ধীরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে উঠে আসা। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর কারাবন্দি অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। নিরবচ্ছিন্নভাবে রাজনীতিতে নিরন্তর সংগ্রামের পথ হাঁটা ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার প্রতি ১৯৮১ সাল থেকেই নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশের পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে আসছেন। শেখ হাসিনা দেশে আসার আগে দলে দু’টি ধারা থাকলেও তিনি নিজেকে কোনটিতেই জড়াননি। শেখ হাসিনার হয়ে এখনো তিনি ছাত্রলীগের অভিভাবক। জেলা ও মাঠ নেতাদের সঙ্গে তার রয়েছে নিয়মিত যোগাযোগ। তিনি সরকারেও সক্রিয়, দলেও সক্রিয়। পরিশ্রমী বলে সরকার ও দলে শেখ হাসিনার পরই তার নাম। আব্দুল জলিলের সময় দলীয় সভানেত্রীর পরামর্শে প্রার্থী হন, দলীয় সভানেত্রীর পরামর্শেই প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। তারপর এখন পর্যন্ত তিনি নিজেকে প্রার্থী মনে করেন না। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন,‘ আমি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী নই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। নেত্রী যাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেবেন, সবাই তাকেই মেনে নেবেন। ‘

দলের অনেকেই মনে করেন সৈয়দ আশরাফ একজন ভদ্র, সম্মানিত নেতা হিসেবে সবার কাছে থাকলেও সামনে রাজনীতি ও ভোটের ময়দানে যে লড়াই আসন্ন সেখানে বিকল্প চিন্তায় মাঠে ময়দানে কর্মঠ, পরিশ্রমী, কর্মীবান্ধব ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে তিনি দলকে শেখ হাসিনার হয়ে কিছু দিতে পারবেন। দলের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, পরিবর্তন হলে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সম্ভাবনা আছে। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা উচ্চশিক্ষিত, ক্লিন ইমেজের এই নেতা মন্ত্রী হিসেবে সফল ছিলেন এবং দলকে সময় দেন। বিগত মেয়র নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণের দায়িত্ব পালন করেছেন সফলভাবে। যেমন করে ওবায়দুল কাদের উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামলেছেন।
অনেকের প্রশ্ন-চমকের খাতায় বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা ও তার পুত্র রিদওয়ান সিদ্দিক ববি এবং শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবার ওয়াকিং কমিটিতে ঠাঁই পাচ্ছেন কিনা? অনেকে মনে করেন পাঁচজন না আসলেও অন্তত তাদের ২ সন্তান জয় ও ববির অভিষেক ঘটতে পারে ওয়াকিং কমিটিতে। পশ্চিমা শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত বঙ্গবন্ধুর দুই দৌহিত্র মেধাবী ও সৃজনশীলই নন, নিজেদের বিতর্কের বাইরে রেখে দলের কাঠামোর বাইরে থেকে সরকার ও মানুষের জন্য দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন। এর আগে এদের কেউই কাউন্সিলর হয়ে দলের জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেননি। এবারই প্রথম যোগ দিচ্ছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জেলহত্যায় শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদের পুত্র সোহেল তাজকেও কমিটিতে রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি না আসলে তার বোন ঠাঁই পাবেন। সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন না এলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রদের একজনের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের ওয়াকিং কমিটিতে যারা আছেন, তাদের কারো কারো ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকের পদোন্নতির দৌঁড়ঝাপ চলছে, সম্ভাবনাও রয়েছে। নতুনেরও আর্বিভাব ঘটবে। তরুণদের সমন্বয় ঘটতে যাচ্ছে প্রবীণদের সঙ্গে। চর্তুদিকে দৌঁড়ঝাপ চলছে।

দলের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে যারা নিয়মিত শেখ হাসিনার সঙ্গে সন্ধ্যার পর গণভবনে দেখা করছেন তাদের সঙ্গে আলাপ করে যতদূর জানা যায়, তারা কেউেই টের পাচ্ছেন না-দলীয় সভানেত্রী কি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন? বঙ্গবন্ধু কন্যা একদম চুপ হয়ে আছেন। এক নেতা বললেন, অনেক কথা বললেও আভাস কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক নেতা বললেন, মুড এখনো কাউন্সিল ঘিরে আসেনি। চীনের সফরকারী প্রেসিডেন্টকে ঘিরেই তার চিন্তা ভাবনা এখন। চিন্তা ভাবনা ১৬ অক্টোবর ভারতের গোয়ায় ব্রিকসের সম্মেলন ঘিরে। সেখানে রাশিয়ার নেতা পুতিনও আসছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ এবারের কাউন্সিলে ঐতিহাসিক ঘোষণা আসার যে বার্তা দিয়েছেন তা নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ চলছে পর্যবেক্ষক মহলে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেই স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল, অনেকে মনে করছেন এটা কি তবে অর্থনৈতিক মুক্তির রোডম্যাপের ঘোষণা হতে পারে? চীন, মায়ানমার ও ভারত মিলে সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশকে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আওয়ামী লীগ দিতে পারেন। যার ভিত্তি সরকারের ব্লু ইকোনমি।

এখন পর্যন্ত চমক দৃশ্যমান নয়। কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে চমকের জাগরণ ঘটাতে পরেছে দল। নেতাকর্মীরা উৎসবের পরিবেশে কর্মমুখর সংগঠিত হয়ে মাঠে নেমেছে। দিনরাত পরিশ্রম করছেন নেতাকর্মীরা। কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে কি চমক আসছে তা দেখার অপেক্ষা চলছে। আওয়ামী লীগের কাঠামোতে কমিউনিস্টদের আতœা যেভাবে ভর করেছিল, এবারের কাউন্সিলে তার কিছুটা অবসান ঘটতে পারে বলে যে আভাস দলে আলোচিত হচ্ছে সেটিকেও অনেকে চমকের তালিকায় রেখেছেন।
২০০৯ সালের কাউন্সিলে প্রেসিডিয়াম সদস্যা মতিয়া চৌধুরীর যে প্রভাব ও কর্তৃত্ব ছিল এবার সেটি নেই। তিনি হয়তো প্রেসিডিয়ামে ঠাঁই পাবেন কিন্তু প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না- এমন খবর দলে। প্রেসিডিয়াম সদস্য নুহুল আলম লেলিন এবার উপদেষ্টা পরিষদে যেতে পারেন। শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে কিছু আপত্তি জানাতে মতিয়া চৌধুরী শেখ হাসিনার কাছে গিয়েছিলেন গণভবনে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তাকে বলেছিলেন, ‘আপনি প্রেসিডিয়াম সদস্যা, ওটা জেলা নেতারা দেখবে। তাদের বলুন।’ ধাক্কা খেয়ে মতিয়া জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি সাধারণ সম্পাদককে বলেছি।’ উত্তরে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, ‘সাধারণ সম্পাদককে তো আমিই টেলিফোনে পাই না।’ পূর্বপশ্চিম, আমাদের সময়.কম

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: