সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতের যে গ্রামে শিশু জন্মায় না

156306_1অনলাইন ডেস্ক:
অন্ধ বিশ্বাসের ফলে ভারতের মধ্য প্রদেশিও রাজধানী ভোপাল থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামের মানুষ পড়ে রয়েছেন কয়েকশো বছর পিছনে।

গ্রামটি দুর্গম নয়, কিংবা শহর থেকে বেশি দুরেও নয়। কিন্তু গ্রামটিতে গত বহু দশক ধরে কোনো শিশু জন্ম নেয়নি।

সেখানকার মানুষ বিশ্বাস করেন যে, গ্রামে কোনো শিশু জন্ম নিলে হয় তার মৃত্যু হবে, অথবা বাচ্চাটি পঙ্গু হয়ে যাবে।
আর এ কারনেই গর্ভবতী নারীদের গ্রামের বাইরে গিয়ে সন্তানের জন্ম দিতে হয়। গ্রামের বাইরে একটি প্রসূতি ঘর তৈরি করা আছে, সেখানেই বেশীরভাগ মা সন্তানদের জন্ম দেন।

আজকাল কেউ অবশ্য স্থানীয় হাসপাতালেও যান প্রসবের জন্য। তবে গ্রামের ভেতরে সন্তান প্রসব কখনোই হয় না।

প্রদেশটির রাজগড় জেলায় নরসিংগড় মহকুমার অধীন সাঁকা জাগীর নামের এই গ্রামটিতে প্রায় ১২০০ মানুষ বসবাস করেন। বেশীরভাগই গুর্জর সম্প্রদায়ের মানুষ। গ্রামে আছে একটি সুপ্রাচীন মন্দিরও।

নরসিংগড়ের তহশীলদার অমিতা সিং তোমর বলছিলেন, অন্ধ বিশ্বাসের কারণেই ওই গ্রামের বাইরে গিয়ে শিশুদের জন্ম দেন মায়েরা। তবে এক যুবক নতুন সরপঞ্চ (পঞ্চায়েত প্রধান) হয়েছেন।

তিনি চেষ্টা করছেন গ্রামের মানুষদের এই বিশ্বাস ভাঙ্গতে। আমি নিজেও দিন কয়েকের মধ্যে ওখানে যাব ঠিক করেছি।

গ্রামের নতুন সরপঞ্চ নরেন্দ্র সিং ও তার আট ভাইয়েরও জন্ম হয়েছে গ্রামের বাইরেই।

নরেন্দ্র সিং বলেছেন, গ্রামের ভেতরে কোনো শিশু জন্ম নেয় না ঠিকই। এটা কয়েক শো বছরের পুরণো প্রথা। কিন্তু কোনো শিশু জন্ম নিলেই যে সে মারা যাবে বা পঙ্গু হয়ে যাবে, এটা একটা অন্ধ বিশ্বাস। অনেকেই মনে করেন আমাদের গ্রামের ওপরে কোনো অভিশাপ আছে। ব্যাপারটা তা নয়।

তিনি বলেন, আসলে গ্রামের মধ্যেই যে শ্যামজী মন্দির রয়েছে, সেটা প্রসবের সময়ে অপরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে বলেই প্রাচীন কালে এরকম একটা প্রথা চালু হয়েছিল। তবে বছর কুড়ি আগে গ্রামের ঠিক বাইরে একটা প্রসূতি ঘর তৈরি করা হয়, যেখানে মায়েরা সন্তান প্রসবের কয়েকদিন আগে থেকে গিয়ে থাকতেন।

এখন সেটার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন অনেকেই নরসিংগড়ের হাসপাতালে যান সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য।

তিনি আরো বলেন, তার বাবা মাঙ্গীরাম কয়েক দশক গ্রামের সরপঞ্চ ছিলেন। এখন দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে শুরু করেছেন যে গ্রামের ওপরে কোনো অভিশাপ নেই, সন্তান প্রসব করলেই যে সে মারা যাবে বা পঙ্গু হয়ে যাবে, এই ধারণাও ভুল।

সাঁকা জাগীর গ্রাম থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, যদিও সেখানে সন্তান প্রসবের কোনো ব্যবস্থা নেই।

মহকুমা শাসক ঋষি গর্গ অবশ্য জানতেন না যে তার এলাকায় এরকম কোনো গ্রাম আছে, যেখানে বহু দশক ধরে কোনো শিশু জন্ম নেয়নি।

বিবিসি অবলম্বনে

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: