সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে কারণে দেশের বাজার চীনা পণ্যের দখলে

156241_1নিউজ ডেস্ক: গত বছরের হিসেব অনুযায়ি বাংলাদেশ ও চীনের ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মোট পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

যেখানে বাংলাদেশে চীনের পণ্য রপ্তানির মোট পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বাংলাদেশ থেকে চীনে পন্য রপ্তানির হার এক বিলিয়নেরও কম।

পরিসংখ্যান দেখে বলা যায় বাংলাদেশের বাজারে চীনা পণ্যের ব্যবসা এতটাই রমরমা। আর এটা এতোটাই রমরমা যে তাকে মোটামুটিভাবে চীনের দখলে বললেও ভুল হবে না।
কিন্তু বাংলাদেশ চীনের বাজার ধরতেই পারছে না নিজেদের দেশেও তারা চীনা পণ্যের তুলনায় বহু অংশে পিছিয়ে আছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ অবস্থা কেন?

মোবাইল ফোনসেট ও এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বিক্রি হয় যেসব দোকানে ছুটির দিনের দুপুরে সেখানে ছিল বেশ ব্যস্ততা।

মোবাইল ফোনসেট ও সেটের কাভার কিনতে এসেছেন কেউ। কেউ কিনছেন পেন ড্রাইভ। এমনই একজন মোবাইল সেটের গ্লাস প্রটেক্টর কিনলেন।

দোকানিরা বলছেন, এখানকার প্রডাক্ট বেশিরভাগই চীনের তৈরি। একজন বিক্রেতা জানান,ক্রেতারা এ ধরনের জিনিসের পেছনে খুব একটা অর্থ ব্যয় করতে চান না। তাই চীনের পণ্যই চলে বেশি।

শুধু তাই নয়। আসবাবপত্রের বাজারের একটি বড় অংশই চীনের পণ্যের দখলে। ঢাকার পান্থপথ এলাকার আসবাবপত্রের দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা মিলল একই চিত্রের।

এস আর ফরেন ফার্নিচারের বিক্রয়কর্মী সৈয়দ নুর বলেন, এখানে আমাদের যা কিছু আছে অফিস ফার্নিচার, ডাইনিং টেবিল, সেন্টার টেবিল, টিভি ট্রলি, কাউন্টার টেবিল এসব আসবাবই চীনের তৈরি।

দেশে এসব আসবাব তৈরি করা যায় কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে কিছু কিছু হয় কিন্তু ফিনিশিং ভালো হয় না, যার কারণে ক্রেতা ধরে রাখা সম্বব হয়না।

দেশে যে পরিমান পণ্য আমদানি করে আনা হয় তার তুলনায় খুব সামান্যই রপ্তানি হয় চীনে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, আমদানি প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বিপরীতে রপ্তানি এক বিলিয়নও নয়।

অথচ বাংলাদেশের বাজার চীনের পন্যে সয়লাব বললে ভুল হবে না। আসবাব থেকে প্রযুক্তি পণ্য, পোশাক থেকে গহনা, শিশুদের খেলনা থেকে জুতা সবকিছুই চীনের বাজার থেকে চলে আসছে বাংলাদেশের বাজারে।

পোশাকের বাজারেও যেসব বিদেশি কাপড়ের পোশাক বেশি বিক্রি হয় তার মধ্য্য চীনের পোশাকেরও রয়েছে আদিপত্য।

মূলত চাকচিক্যময় ও নকশাদার হওয়ায় এগুলোর কদর বেশি। কোনো কোনো বিক্রেতা জানালেন, এসব পোশাকের ফেব্রিক্সও তুলনামূলক ভালো।

দেশে মেয়েদের ব্যাগ, বিভিন্ন ধরনার জুয়েলারিও আসছে চীন থেকে। থাইল্যান্ড ও ভারতের সাথেই চীনের এসব পণ্যের প্রতিযোগিতা। সেখানে দেশিয় পণ্য এগোতে পারছে না খুব একটা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের মূল সমস্যা দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব। সেইসাথে অবকাঠামোগত অসুবিধার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যার কারণে ‌এই বিশাল ভারসাম্যহীনতা।

তিনি বলেন, চীনে এখন শ্রমের মূল্য বাড়ছে। ফলে তারা বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসছে বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে। বাংলাদেশের এই সুযোগটি কাজে লাগানো দরকার।

নিজ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি পোশাক পণ্য উৎপাদন থেকে সরে আসছে চীন। সেখানেও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মুস্তাফিজুর রহমান।

যেহেতু দেশের মোটামুটি সব পণ্যেই চীন শুন্য শুল্ক সুবিধা দিয়ে আসছে, তাই চামড়াজাত শিল্প এবং জুতার বাজার ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য চীনে একটি লাভজনক ক্ষেত্র হতে পারে।

বিবিসি অবলম্বনে

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: