সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির

lalmonirhat-moshjid-mondir-20161011211417নিউজ ডেস্ক:
প্রায় একশ বছর ধরে একই আঙিনায় গড়ে উঠা মসজিদ আর মন্দির। ধর্ম পালন করতে বিন্দুমাত্র সমস্যা হয়নি হিন্দু ও মুসলমানদের। সৃষ্টাকে খুশি করতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পালন করে আসছেন মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা। এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছের সীমান্তবর্তী উত্তরের জেলা লালমনিরহাট পৌর শহরে।

মসজিদে যেমন প্রতিদিন পাঁচ বার আজান হয়, মুসল্লিরা তাদের নামাজ আদায় করেন। তেমনি রোজ সকালে আর সন্ধ্যায় মসজিদের গাঁ ঘেঁষে থাকা মন্দিরেও হয় উল্লু ধ্বনি। এতে কারো কোনো দিন বিন্দুমাত্র সমস্যা হয়নি। আর তাই যুগ যুগ ধরে এভাবেই এক আঙিনার দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিজেদের ধর্ম পালন করে আসছেন দুই ধর্মের অনুসারীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাট শহরের পূরণ বাজার এলাকার ওই মন্দিরে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর গা ঘেঁষে থাকা মসজিদে যেমন নামাজ বন্দেগী পালন করে চলেছেন মুসল্লিরা। তবে নামাজ শেষে ঢাকা-ঢোল বাঁজিয়ে যথারীতি দুর্গাপূজা করে চলেছেন সনতান ধর্মের অনুসারীরা।

জানা গেছে, ১৯০০ সালে একটি নামাজ ঘর নির্মিত হয়। এ নামাজ ঘরটিই পরবর্তীতে পূরাণ বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর থেকে কোনো বিবাদ ও ঝামেলা ছাড়াই সম্প্রীতির সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।

এদিকে, একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দিরে নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠান পালন হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। মসজিদ-মন্দির সংলগ্ন খোলা জায়গাটিতে পূজা উপলক্ষ্যে যেমন সনাতন ধর্মের অনুসারীদের মেলা বসে, তেমনি মুসলমানদের ওয়াজ মাহফিল ও জানাজার নামাজও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে সেখানে। ফলে সম্প্রীতির এই স্থানটি দেখতে বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় অনেক দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন বলে জানা গেছে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা বলেন, আমরা মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যরা বসে ঠিক করে নেই, কখন এবং কিভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হবে।’ নামাজের সময়গুলোতে সকল প্রকার বাদ্য বাজনা বন্ধ রাখা হয় বলে জানান তিনি।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ্ব ফজল মিয়া বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। সেদিক থেকে লালমনিরহাটকে অনেক উপরে নিয়ে গেছে এই মসজিদ ও মন্দির। তাই এই ধর্মীয় সম্প্রীতি অনন্তকাল পর্যন্ত অটুট রাখতে সকলের সহযোহিতা কামনা করেন তিনি।

পূজা দেখতে আসা হাতীবান্ধার বাড়াইপাড়া গ্রামের তপন অধিকারী (৩৭) বলেন, আমাদের দেশ সত্যিই ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। লালমনিরহাট শহরের এই একই আঙিনায় গড়ে উঠা মসজিদ-মন্দির দুইটি তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: