সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বেহাল দশায় মৌলভীবাজারের একমাত্র রেলওয়ে চিকিৎসালয়টি!

mb-daily-sylhet-0-9-copyনিজস্ব প্রতিবেদক::
১৮টি রেলওয়ে স্টেশনের কয়েক হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণের ভরসাস্থল এই চিকিৎসালয়। কিন্তু নানা সমস্যা আর সংকটে এখন বেহাল দশায় প্রাচীনতম প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের অন্যতম এই চিকিৎসালয়টির স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম। সরেজমিনে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন চিকিৎসালয়টিতে গেলে স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপকালে জানা গেলো চিকিৎসালয়টির নানা দুর্দশা আর দুর্ভোগের কথা। দেখা গেলো, ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ কক্ষে সহ-সার্জন না থাকায় মিডওয়াইফ আছিয়া খাতুন রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। প্রতিদিনই ওরকম অন্তত ৩৫-৪০ জন রোগী ওখান থেকে বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসাপত্র নিয়ে থাকেন। আর এসব রোগীর চিকিৎসাপত্র আর ঔষধ প্রদান তিনি একাই সামাল দেন। তিনি জানান, আগে রোগীর সংখ্যা বেশী থাকলেও এখন নেই, সেই আগের অবস্থা। তাই কোনো জটিল রোগী ওখানে এলে তারা তাদের রেফার করছেন কুলাউড়া সদর কিংবা মৌলভীবাজার সরকারি হাসপাতালে।

এক সময় সিলেট বিভাগের মধ্যে চিকিৎসা সেবায় খ্যাতি পাওয়া জেলার একমাত্র কুলাউড়ার প্রাচীনতম রেলওয়ে জংশন স্টেশনের চিকিৎসালয়টি এখন নানা সমস্যা ও চিকিৎসক-সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দীর্ঘদিন থেকে সহ-সার্জন ওখানে না বসায় চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসা এখানকার ১৮টি স্টেশনের রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য ও রেলওয়ের যাত্রীরা। এছাড়া বহু আগের নির্মিত ওই চিকিৎসাকেন্দ্রটি জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালটির ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে চির-ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।এ কারণে বৃষ্টি হলেই ভবনজুড়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। এতে করে বিভিন্ন কক্ষে থাকা আসবাবপত্র, ঔষধসহ জরুরী জিনিসপত্র বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়। স্যাঁতসেঁতে এ ভবনের কক্ষে প্রবেশ করলে এটিকে চিকিৎসা কেন্দ্র বলে মনে হয় না। অথচ এ হাসপাতালটি একসময় ছিলো সিলেটের অন্যতম সুনাম ও খ্যাতিসম্পন্ন প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিনিয়তই এর আওতাধীন রেলওয়ে এলাকার সুবিধাভোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে।

সূত্র জানায়, ১৯৪৮ সালে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত কুলাউড়া রেলওয়ে চিকিৎসালয়ের আওতাধীন চিকিৎসা সেবা প্রদানের এলাকা ছিলো কুলাউড়াসহ শাহবাজপুর, মুড়াউল, বড়লেখা, কাঁঠালতলী, দক্ষিণভাগ, জুড়ী, ছকাপন, বরমচাল, ভাটেরা, লংলা, টিলাগাঁও, মনু, শমশেরনগর, ভানুগাছ, শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও ও রশিদপুর রেলওয়ে স্টেশন। হাসপাতালের ওই তিনদিকের ১৮টি স্টেশনের অন্তত এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের অন্তত ৫ হাজার লোকের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণের এটিই ছিলো একমাত্র চিকিৎসালয়। এছাড়া এসব রেলওয়ে স্টেশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসহ দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার কথা এই চিকিৎসালয় থেকে। কিন্তু বৃহৎ এলাকার রেলওয়ে একমাত্র এই চিকিৎসালয়টিতে বর্তমানে নেই কোনো চিকিৎসক। প্রতিদিনই রেলওয়ে এলাকা থেকে আসা ৪০-৫০ জন রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন ওই চিকিৎসালয়ে দায়িত্বরত মিডওয়াইফ। কিছুদিন আগে ফার্মাসিস্ট এই ব্যবস্থাপত্র দিলেও তিনি এখন অবসরে থাকায় এ দায়িত্ব পালন করছেন মিডওয়াইফ। এতে সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা।

এছাড়া চিকিৎসালয়টিতে ১জন চিকিৎসক, ১জন ফার্মাসিস্ট, ১জন ধাত্রী, ৩জন ওয়ার্ডবয়, ১জন ডিসপেনসারি ক্লিনার, ১জন চৌকিদার, ১জন জমাদার ও ১০জন সুইপারসহ ১৯টি পদের মধ্যে চিকিৎসকসহ (সহকারী সার্জন) ৭টি পদ শূন্য রয়েছে। ওই চিকিৎসালয়ের সহ-সার্জনের দায়িত্বে থাকা ডা: আইয়ুবুর রহমান খান জানান, এই চিকিৎসালয়সহ আরও প্রায় ১০টির দায়িত্ব একাই থাকে পালন করতে হচ্ছে। চিকিৎসা সেবা আর দাপ্তরিক কাজ দু’টোই সমন্বয় করতে গিয়ে পুরোপুরি চিকিৎসা সেবা চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত অনেকেই জানান, এই হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক না থাকায় তারা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া স্টেশন এলাকার নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা থাকার পরও হাসপাতালের গেটের সামনে প্রবেশপথ বন্ধ করে গাড়ি পার্কিং করা হয়। চিকিৎসালয়ে দায়িত্বরত মিডওয়াইফ আছিয়া খাতুন জানান, চিকিৎসালয়টিতে দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসক নেই। নিজ দায়িত্বের বাইরে প্রতিদিন তিনি ৩৫-৪০ জন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। এতে নিজ দায়িত্ব পালনে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: