সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জীবন যুদ্ধে হার মানে না এনামুলরা

full_402081944_1476113186ডেইলি সিলেট ডেস্ক: গ্রামের ছেলে এনামুল হক। খুলনা সরকারি বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান শেষ বর্ষের ছাত্র। জীবন সংগ্রামে লড়াকু এক যোদ্ধা। অভাব অনটন এর মধ্যে তার জন্ম। শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষা সংগ্রামে তিনি এখন সাহসী সৈনিক। ১৯৯৮ সালে তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট শহীদ খালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করেন। তখন থেকেই তার জীবন যুদ্ধ শুরু। কখনো বাদাম কখনো আখ বিক্রি করে টাকা আয়করে নিজের পড়াশুনার খরচ বহন করতেন।

সেই শিশুটি এখন খুলনা শহরে রিকসা চালিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস শেষ করে মার্স্টাসে পড়াশুনা করেন। নিজেরও ছোট ভাইয়ের পড়াশুনা, জটিল রোগে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে শুনিয়েছেন তার কষ্টের জীবনের কথা-

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের দিনমজুর ফজলুর রহমানের দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের মধ্যে এনামুল বড়। স্ত্রী ও তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে দরিদ্র ফজলুল হকের সংসার চালানোই ছিল দায়। তার পরে পড়াশুনার খরচ বহন করাতো দু:সাধ্য। কিন্ত শিশু এনামুল হক লেখাপড়ার প্রতি ছিল খুবই মনোযোগী। অভাবের কাছে হার না মেনে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র থাকাস্থায় পড়াশুনার ফাঁকে বাদাম বিক্রি করে যে টাকা আয় হতো তা দিয়ে স্কুলের খাতা কলম কিনতেন। এভাবে নিজের পড়াশুনার খরচ নিজেই বহন করতেন।

২০০৫ সালে অষ্টম শ্রেণী পড়া অবস্থায় গ্রাম্য রাস্তায় মাটির কাজ করে যে টাকা আয় করতেন তা দিয়েই নিজের বই খাতা ও স্কুলের খরচ বহন করতেন। তখন তার পিতা বলেন, এভাবে শুধু পড়াশুনা করলেই চলবে না সংসারের খরচও চালাতে হবে। তখন তিনি অভিমান করে গ্রাম থেকে খুলনায় এসে রিকসা চালিয়ে নিজের খরচ বহন করেন। এভাবেই তার জীবন চলতে থাকে।

২০০৮ সালে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১০ সালে কেশবপুর শহীদ লেফটেন্যান্ট মাসুদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। রিকসা চালিয়ে নিজের খরচ বহন করলেও মনোবল হারাননি এনামুল। ২০১১ সালে খুলনা সরকারি বিএল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সে ভর্তি হন। তখন পরিচয় হয় ব্যাংক কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন, স্কুল শিক্ষিকা শাহনাজ বেগমের সাথে। তাদের সহযোগিতায় রিকসা কেনেন এনামুল। এসময় তাকে মঙ্গলকোট ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেনও সহযোগিতা করেন।

২০১৫ সালে অনার্স শেষ করে তিনি এখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাষ্টার্সের ছাত্র। তার কলেজ রোল-১৪৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের-৯৭৪৩৮৫৬। শুধু নিজের নয়; তার ছোট ভাই আশরাফুল আলমেরও পড়াশুনার খরচও তার বহন করতে হয়। আশরাফুলকেও সরকারি বিএল কলেজে বিবিএ প্রথম বর্ষে ভর্তি করেছেন। ইতিমধ্যে তার মা শিউলী বেগম ডায়বেটিস ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

গত তিন বছরে তিন দফা খুলনা শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিডনি রোগ বিষেজ্ঞ প্রফেসর ডা. এনামুল করিমের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জটিল রোগে আক্রান্ত মায়ের ওষুধের জন্য প্রতিমাসে এখন পাঁচ হাজার টাকার মতো লাগে। লেখাপড়ার শেষ প্রান্তে এসে নিজের এবং ভাইয়ের পড়াশুনার খরচ এবং মায়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে দরিদ্র এই মেধাবী ছাত্র এনামুল হিমশিম খাচ্ছেন। মায়ের চিকিৎসা নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি। মেধাবী ছাত্রের পরিবারে সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। এনামুল হকের মোবাইল নং- ০১৯৯৩ ৫০৪৫১৬।

সারাদিন রিক্সা চালিয়ে ঘরে ফেরার পর এনামুল জানান, আমি সকাল ৯টা থেকে রাতে ৯টা পর্যন্ত রিক্সা চালিয়ে ৪ থেকে ৫ শত টাকা আয় করতে পারি। এটা দিয়েই আমার সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতে হয়।

ভবিষ্যতে কি করার স্বপ্ন জানতে চাইলেন এনামুল বলেন, এখন তো টাকা ছাড়া চাকরি হয় না কিন্তু আমার তো টাকা নেই। তবে এ বছরই বিসিএসের জন্য পড়ালেখা শুরু করবো। তাছাড়া বিসিএস না হলে বাংকার বা কলেজের শিক্ষক হতে চাই।

পরিক্ষার সময় আসলে ব্যাপক কষ্ট করতে হয় বলেও জানান তিনি। তাছাড়া সে সময় ধার দেনা করে চলতে হয় তার। সমাজের বিত্তবানদের কাছে তার দাবি, যদি কেউ তার দিকে সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিত তবে সে মন দিয়ে পড়ালেখা করতে পারতো।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: