সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শরতের শারদ সম্ভাষণ

unnamedজীবন পাল:
শরৎ তার শারদ সম্ভাষণ দিয়ে ডাকছে আমাকে। প্রতি বছর সে আমাকে তার মায়াজালে আকড়ে রাখে কিছুটা সময়। তার তৃপ্তিটা কতটুকু জানিনা, তবে আমার মত অনেকের তৃপ্তিটা তাকে ঘিরেই । কারণ হয়তো একটাই, অপেক্ষা। দিন, মাস, বছরের পর হয়তো এবার সেই অপেক্ষার ছুটি হবার পালা। সকলের মনে মনে নামতার পাতা থেকে বার বার গুননাটা ঝালিয়ে নেওয়ার এ যেন ভিন্ন এক প্রতিযোগিতা। হয়তো জানার আড়ালেই একে অন্যকে অজানার বাক্যে এক প্রশ্ন নিয়েই ছুড়াছুড়ি করতে থাকে, আর কতদিন?

শরৎকে কালের রাণী বললাম। কেননা, রাণী দেখেই তো সকলের এই প্রতিক্ষা। অপেক্ষাকে বিরক্তির প্রধান একটি কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, এই অপেক্ষায় কারো মনে থাকেনা বিরক্তির কোন ছাপ। সকলে অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করে যায় এই দিনের।

তবুও, একটি প্রশ্ন নিয়েই ছোড়াছুড়ি, আর কতদিন?

দখিনাবাতাসে দোল খাওয়া প্রকৃতির দ্যুতি ছড়ানো কাঁশফুল মনটাকে করে তোলে আরো চঞ্চল। আরো উজ্জিবিত। শুরু হয়ে যায় প্রকৃতির সেই সৌন্দর্যতাকে বরণ করে নেওয়ার পালা। এ যেন আর এক প্রস্ততি। প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে কৃত্রিমতার মাধুরী মিশিয়ে চলে নিত্য নতুন সাজে চারপাশ সাজানোর উৎসব। এটাও যেন অন্য রকম এক প্রতিযোগিতা।

তবুও, একটি প্রশ্ন নিয়েই ছুড়াছুড়ি, আর কতদিন?

ভোর হতেই কানে ভেসে আসলো ঢাকের শব্দ। কেন জানি অপেক্ষমান মনটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। মনের কোঠরে আনন্দের একটা আভাস নিজের মত করেই আশ্রয় করে নিলো।

চারপাশ ইশারা দিয়ে বলে গেলো, মা এসেছেন। মুহুর্তের মধ্যে মনের অপেক্ষমান বানীগুলো আমাকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত হয়ে বিদায় নিলো। আর শরতের শারদ উৎসব আমাকে আকড়ে ধরলো। শরৎ তার আনন্দের এই উৎসবের আমেজে প্রকৃতির সাথে সাথে রাঙ্গিয়ে দিলো আমাকে। সেই সাথে চারপাশ।

ভোরের পর সকালের মুহুর্ত,তারপর দুপুর, সন্ধ্যা, রাত। দিবসের পুরোটা সময় কেমন জানি ভিন্ন এক ধারায় অতিবাহিত হতে থাকে। যার হিসাব খুজে পাওয়াটা ভাবনা চিন্তার অগোচরে বলা যায়।

তবু একটি প্রশ্ন নিয়েই ছুড়াছুড়ি, আর কতদিন?

চারপাশ এখন নিয়ন আলোয় আলোকিত। চাঁদের আলোকে হারমানানোর এ যেন অন্য রকম আর এক প্রতিযোগিতা। সাথে রাতের আধারকেও। আধার যেন নিয়ন আলোর এই কৃত্রিমতার ছায়ায় আবৃত। সবকিছুই আজ শরতের মহোৎসবে দিশেহারা। আনন্দের দখিনা বাতাস আজ সবার হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতি ও পৃথিবীর ব্যস্ততা আজ মাতৃ আরাধনায়। সকলের গন্তব্যে হয়ে গেছে আজ একটি জায়গাকে ঘিরেই।

তবুও, একটি প্রশ্ন নিয়েই ছুড়াছুড়ি, আর কতদিন।

ক্লান্তির অবসাদের ঠায় আজ এ দেহে নাই। এ দেহ আজ শরতের মহোৎসবের আনন্দে আত্মহারা। তাই আজকের দিবসে আমি অচেতন হতেও দ্বিধা করছিনা। আজ যে আমি উড়ন্ত পঙ্খিরাজ।

সকল বাধা আর বাধ্যকতার দেয়াল আজ আমার কাছে চূর্ণবিচুর্ণ। আজ আমি বাউন্ডুলে, নিশাচর। তাই দীর্ঘপথ পাড়ি দিতেও ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনা। ছুটছি তো ছুটছিই। আজ আমি ওদের মতই গন্তব্যহীন বালক। আজ আমি দিশেহারা, শরতের এই মহোৎসবে আত্মহারা।

তবুও, একটা প্রশ্ন নিয়েই ছুড়াছুড়ি, আর কতদিন।

চারপাশ কেন জানি হঠাৎ থমকে গেছে। দখিনা বাতাসও বইছে না। নিয়ন আলোর ঝলকানিও থেমে গেছে। শারদ উৎসবের বিদায় সম্বোধনের বার্তা যেন সকলের কানে পৌঁছে গেছে। তাই থমকে গেছে হৃদয়, থমকে গেছে প্রকৃতি। না চাইতেও প্রকৃতিকে মেনে নিয়ে মহাসমারোহে বিদায় জানাতে প্রস্তুত। জোর করে চোখের কোনে জমাট বাধা অশ্রুকে আটকে রাখার অভিনয়।

হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোকে মনের খাচায় বন্দি করে আবার সেই একটি প্রশ্ন নিয়েই ছোড়াছুড়ি, আর কতদিন?

লেখক: জীবন পাল, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধীকার কর্মী
jibon.cnews@gmail.com

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: