সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে শিক্ষক বদলি বানিজ্য, নিয়োগসহ নানা অপকর্মের প্রতিকার চেয়ে শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ

2-daily-sylhet-666কমলগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
মৌলভীবাজারের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও তার সহযোগী কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীকে নিয়ে কটাক্ষ, বঙ্গবন্ধুর এতিহাসিক ৭ মাচের ভাষনকে বিকৃত, শিক্ষক হয়রানী, শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য, বদলী, পেনশন ভাতাসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই দুই কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন কমলগঞ্জ উপজেলার শিক্ষক সমাজ। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হাত থেকে রক্ষার জন্য অনিয়ম ও দুনীর্তি তুলে ধরে ২৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষকরা প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় এর সচিব বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন। যার অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ জানা যায়, মৌলভীবাজারের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম ও কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ যোগদানের পর থেকে অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে হাত করে এ উপজেলা শিক্ষকদের নানা ভাবে হয়রানীসহ অনিয়মের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেন। বিশেষ করে শিক্ষক বদলীর জন্য অর্থ বানিজ্য শুরু করেন। মুন্সিবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুন্যমান প্রধান শিক্ষক পদে সিনিয়র(রামানন্দ্র সিংহ)কে জুনিয়র শিক্ষক( সালাহ উদ্দিন)কে বদলী করাকে কেন্দ্র করে বিপুল অংকের টাকা লেনদেন করেন। এছাড়া বদলী নীতিমালা অনুয়ায়ী জনস্বার্থে বদলীর একমাত্র ক্ষমতা প্রাথমিক গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কাছে থাকলেও এই নীতি ভঙ্গ করে বেআইনীভাবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে উপজেলার ৩জন সহকারী শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে অন্যত্র বদলীর আদেশ জারী করেন। শুধু বদলী নয় ২০১৪ সালে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের অভিযোগে বরখাস্ত শিক্ষক প্রসেনজিত চন্দ্রকে অর্থের বিনিময়ে পুর্নরায় স্বপদে শিক্ষকের চাকুরী ফিরিয়ে দেন এবং বরখাস্তকালীন সময়ের বকেয়া প্রদান করেন।

কোর্টের আদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত জাতীয়করণ বিদ্যালয়ের নিয়োগকালীন পোষ্টিং কে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমান অর্থ বানিজ্য করেছেন। শুধু মাত্র জাতীয়করণ স্কুলে নয় প্রাক প্রাথমিক নিয়োগেও একই ভাবে অর্থ বানিজ্য করেছেন। নিয়োগকালে শিক্ষক তপন কুমার পালকে বাড়ির পাশের স্কুল রামেশ্বরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পোষ্টিং না দিয়ে হাটখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শিক্ষক অভিজিত মজুমদারকে হাটখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পোষ্টিং না দিয়ে রামেস্বপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পোষ্টিং দেওয়া হয়। এই দুই শিক্ষক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তাদের কাছে উৎকোচ দাবী করেন। এছাড়া গত ৮ সেপ্টেম্বর ডেপুটেশনকৃত বিদ্যালয়ে যোগদান না করার অপরাধে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আদেশে তপন দেবনাথ নামে এক সহকারী শিক্ষককে বিনাঅপরাধে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু যে তারিখে শিক্ষক তপন দেবনাথকে বরখাস্ত করা হয় সে সময় তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিদের্শে শিক্ষা অফিসে ডিআর প্রস্তুত কাজে নিয়োজিত ছিলেন। একজন শিক্ষককে কাজে রেখে একই তারিখে বরখাস্ত বিষয়টি শিক্ষক সমাজে ক্ষোভে সৃষ্টি হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষা অফিসকে দুনীর্তিও আখড়ায় পরিনত করেছেন। তিনি সপ্তাহে ২দিনও অফিস করেন না। পেনশনকৃত শিক্ষকরা নানা হয়রানীর শিকার হন। বিশেষ করে অফিসসহকারী ফাইল টাকা ছাড়া ছাড়েন না।

মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা যোগদানের পর বিভিন্ন উপজেলায় ক্রস ভিজিট এর নামে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয় হতে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে কমলগঞ্জে ৬০টি স্কুলে ক্রস ভিজিট অনুষ্টিত হয়। এই ভিজিটকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের কাছ প্রায় লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয়। এবং বিদ্যালয়গুলোর ভবনের সরকারী নিদিষ্ট রং মুছে বাড়ি ঘরের মতো বিভিন্ন রঙ্গের মিশ্রন ঘটেয়ে বিল্ডিং কোড অমান্য করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের স্লিপ এর টাকা হতে রং এর খরচ মিটানো হয়েছে। যা প্রাথমিক শিক্ষার মানউন্নয়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিভাকরা মনে করছেন। বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সমসেরনগরে সুইচভেলি নামক স্থানে পর্যালেচনা অনুষ্টানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদ মিনার স্থাপনের একটি প্রস্তাবের জবাবে সনাতন ধর্মালর্ম্বীদের পবিত্র গনেষ দেবতা নিয়ে কটাক্ষ করেন। শুধু তাই নয় জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের ভাষনের একটি উক্তি ব্যঙ্গ করে বলেন যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শহীদ মিনার তৈরী কর বলে অট্রহাসিতে ফেটে পড়েন। যা উপস্থিত কর্মকর্তাদেও হতবাক হয়ে যান।
ফলে এই দুই কর্মকর্তার নানা অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন কমলগঞ্জ তথা জেলার শিক্ষকরা। সম্প্রতি কমলগঞ্জের শতাধিক শিক্ষকরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় এর সচিব বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন। যার অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম মুঠো ফোনে (০১৭২০৯৯৪৭৩৫) বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য। তবে আমার যোগদানের যারা বাধা দিয়েছেন তারাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। বঙ্গবন্ধু ভাষন বিকৃতি বিষয়ে বলেন, আমি সেভাবে বলিনি। কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ (০১৭১৬১৭৪৪১১)তার বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

উল্লেখ্য যে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম মৌলভীবাজারের যোগদানের আগে পুর্বের কর্মস্থলে নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকায় মৌলবীবাজার জেলা শিক্ষক নেতৃবৃন্দ প্রায় ১৪দিন ধরে জেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান ধর্মঘট করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান এর মধ্যস্থতায় এ জেলায় কোন ধরনে অনিয়মে জড়িত হবেন না বলে আশ্বস্ত করলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন শিক্ষক সমাজ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: