সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হরিণের জন্য অনিরাপদ স্থান এখন কমলগঞ্জের বনাঞ্চল

horin-daily-sylhet-news-copyনিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বনাঞ্চলগুলো এখন হরিণের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। উপজেলার রাজকান্দি বনরেঞ্জের অধীন কুরমা, আদমপুর ও রাজকান্দি বনাঞ্চলের হরিণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। বনাঞ্চলে অবাধে মানুষজনের প্রবেশে লোকালয়ে বেরিয়ে এসে হরিণ ধরা পড়ছে মানুষজনের হাতে। বিজিবি ও বনবিভাগ গত ২১ দিনে আহতাবস্থায় দু’টি মায়া হরিণ উদ্ধার করলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি মারা গেছে। সম্প্রতি কুরমা, আদমপুর ও রাজকান্দি বনাঞ্চল সংলগ্ন গ্রাম ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

উপজেলার কুরমা, আদমপুর ও রাজকান্দি বনাঞ্চলটি একসময় গভীর জঙ্গল ছিলো। বর্তমানে সেটি আর নেই। একেবারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বনাঞ্চলের সাথে এ বনটি সংযুক্ত রয়েছে। এই বনে হরিণ, বানরসহ নানা জাতের বন্যপ্রাণি রয়েছে। এই বনেই আবার প্রাকৃতিক জলপ্রপাত হামহাম আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে বনের ভিতর লোক চলাচল বেড়ে গেছে। বনাঞ্চলের বাঁশ ইজারা দেওয়ার ফলে বাঁশ শ্রমিক, গাছ চোরচক্রের সদস্য ও সুযোগসন্ধানী শিকারিদের অবাধ প্রবেশ করছে। এতে বনের মায়াহরিণ প্রায়ই লোকালয়ে বেরিয়ে এসে ধরা পড়ে। আলাপকালে আদমপুরের সমাজসেবক হাজী জয়নাল আবেদীন ও লেখক-সাংবাদিক শাব্বির এলাহী জানান, কুরমা, আদমপুর ও রাজকান্দি-এই তিনটি সংরক্ষিত বন থেকে শিকারিরা প্রায়ই হরিণ ধরে নিয়ে গিয়ে জবাই শেষে মাংস ভাগাভাগি করে নেয়। এমনকি গোপনে প্রতিকেজি এক হাজার টাকা দামে হরিণের মাংস বিক্রি করা হয়। বনের হরিণ শিকার প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে আদমপুর, নঈনারপার, কাঁঠালকান্দি ও রাজকান্দি বনাঞ্চল এলাকায় বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীর অনেকেই জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র হরিণ শিকারের সাথে যুক্ত। তাছাড়া প্রায় পাঁচ বছর আগে আদমপুর বনাঞ্চল থেকে একটি হরিণ কিনে জবাই করে মাইক্রোবাসযোগে নিয়ে যাবার সময় পৌরসভা এলাকার চন্ডিপুরে বন তল্লাশি চৌকিতে জবাইকৃত হরিণসহ মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়। তবে হরিণ ক্রয়কারী ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে জবাইকৃত হরিণটি উদ্ধার করে মাটিতে পুঁতে রেখেছিলো বনকর্মীরা। আর হরিণ পরিবহনের দায়ে ভাড়া করা মাইক্রেবাস মালিককে নগদ সাত হাজার টাকা জরিমানাও রাজস্ব আকারে আদায় করা হয়েছিলো। একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে এ ঘটনাটি সে সময় ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিলো।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ০৭ সেপ্টেম্বর ভোরে ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি বনাঞ্চল থেকে একটি মায়াহরিণ শাবক বেরিয়ে লোকালয়ে দুর্বৃত্তের হাতে ধরা পড়ে যায়। দুর্বৃত্তরা শাবকটিকে জবাই করার জন্য ছুরি ব্যবহার করলেও কাঠালকান্দি বিজিবি সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালালে হরিণটিকে ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বিজিবি’র মাধ্যমে আহতাবস্থায় এ হরিণটিকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গলস্থ বণ্যপ্রাণি সেবা ফাউন্ডেশনে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তবে পরদিন বৃহস্পতিবার হরিণটি মারা যায়। এ ঘটনার দুই সপ্তাহ পর গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুরমা গভীর বনাঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতার একটি মায়াহরিণ বেরিয়ে লোকালয়ে বেরিয়ে আসে। চাম্পারায় চা বাগানে সুযোগসন্ধানীরা হরিণটিকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। পরে আহতাবস্থায় হরিণটি ধরে পড়ে। দুর্বৃত্তরা হরিণটিকে ধরে বস্তায় ভরে নিয়ে যাবার খবর পেয়ে কুরমা বনিবট কর্মকর্তা চাম্পারায় চা বাগান থেকে হরিণটিকে উদ্ধার করা হয়। ওইদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় চিকিৎসার জন্য উদ্ধার হওয়া হরিণটিকে লাউয়াছড়া উদ্যানের জানকিছড়া বন্যপ্রাণি নিরাময় কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়।

রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর চৌধুরী জানান, তিনি নতুন এ রেঞ্জে যোগদান করেছেন। অফিস নথি না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। তবে কুরমা, আদমপুর ও রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের হরিণ নিরাপত্তাহীনতায় আছে বিষয়টিরর সত্যতা নিশ্চি করে তিনি জানান, হয়তো বনের বিতর তাড়া খেয়ে হরিণ লোকালয়ে এসে ধরা পড়ছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহ-অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, গত ০৭ সেপ্টেম্বর গুরুতরভাবে আহত হরিণ শাবকটিকে কাঁঠালকান্দি গ্রাম থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো। তবে শেষমেষ বাঁচানো যায়নি। পরে উপজেলা ভ্যাটেনারি সার্জন ময়না তদন্ত করে জানিয়েছিলেন, ছুরির আঘাতে হরিণ শাবকের গলার রগের বেশিরভাগ অংশ কেটে যায় ও পায়ে আঘাত বেশি ছিলো বলে সেটি মারা যায়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হক জানান, তিনিও সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছেন। এ বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: