সর্বশেষ আপডেট : ৩৮ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘সবাইকে ম্যানেজ করেছি, আপনাকেও টাকা দেব’

full_1477446390_1475911652নিউজ ডেস্ক: হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি চালের কর্মসূচি প্রকল্পে যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ প্রকল্পে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও।

তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থান যেন কানেই তুলছেন না বগুড়ার কতিপয় অসাধু ডিলার।
স্থানীয় কতিপয় অসাধু জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মৃত ব্যক্তিসহ এর আওতায় পড়েন না এমন মানুষকে হতদরিদ্র সাজিয়ে অবৈধভাবে এসব চাল উত্তোলন করছেন তারা।

অভিযোগ উঠেছে গত সেপ্টেম্বর মাসে এভাবেই পুরো মাসের বরাদ্দ ৩৩৬ মেট্রিকটন চাল মাত্র ২৪ ঘণ্টায় বিক্রি করেছেন ডিলাররা।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী, গাড়ীদহ ও ভবানীপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে এই অবস্থা চলার মাঝেই শুরু হয়েছে অক্টোবরের চাল বরাদ্দের প্রক্রিয়া। আর এ মাসেও লুটপাট করতে নিজেদের অসাধু তৎপরতা শুরু করেছেন কতিপয় ডিলার। সব পক্ষকে ম্যানেজ করতে ইতোমধ্যেই মোটা অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেছেন তারা। একাধিক গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের অনেকের হাতেই পৌঁছানো হয়েছে সেই টাকার ভাগ। ‍

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (০৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে ০১৭১২-৯১১৩৮৮ নম্বর থেকে ফোন আসে এই প্রতিবেদকের কাছে।কথোপকথনের পুরো অংশটি তুলে ধরা হলো।

প্রতিবেদক, ‘হ্যালো কে বলছিলেন। অপর প্রান্তে, ‘আমি আব্দুল মোমিন।’, প্রতিবেদক, ‘আপনে খামারকান্দির (ইউনিয়ন) মোমিন ভাই।’ অপরপ্রান্ত ‘হ্যাঁ’। প্রতিবেদক, ‘তা কি খবর ভাই বলেন।’ অপর প্রান্ত, ‘আপনার জন্য কিছু টাকা আছে।’ প্রতিবেদক, ‘কিসের টাকা।’, অপর প্রান্ত, ‘আমরা ২০ জন ডিলার মিলে কিছু টাকা উত্তোলন করেছি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও একাধিক সাংবাদিককে টাকা দিয়েছি। জানেনই তো এসব বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে ডিলারদের ওপর প্রচণ্ড চাপ আসে। এ জন্য সবাইকে ম্যানেজ করছি। আপনাকেও টাকা দেবো। কোথায় আছেন বলেন?’

প্রতিবেদক, ‘আমি তো দূরে আছি।’ অপর প্রান্ত, ‘তাহলে বিকাশ নম্বর দেন।’ প্রতিবেদক, ‘বিকাশ নম্বর নেই।’ অপর প্রান্ত, ‘তাহলে আপনার নম্বরে ফ্লেক্সিলোড করি।’ প্রতিবেদক, ‘প্রয়োজন নেই’। অপর প্রান্ত, ‘ভাই আমার কথায় কি মন খারাপ করলেন?’

ডিলার আব্দুল মোমিনের সঙ্গে প্রতিবেদকের এই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে চলতি মাসে ১০ টাকা কেজির চাল লুটপাটে ডিলারদের নীলনকশার বিষয়টি উঠে আসে।

শেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রির জন্য ২০ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের পাশাপাশি অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেও এসব ডিলারের থেকে ১০ টাকা কেজির চাল কিনতে পারবেন কার্ডধারী হতদরিদ্ররা। ডিলাররা সপ্তাহের শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার বিক্রি করবেন এই চাল। প্রায় ১২ হাজার কার্ডধারী হতদরিদ্র পরিবার ১০টাকা কেজির এই চাল কিনতে পারবেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালে তৈরিকৃত তালিকা অনুযায়ী ১০ টাকা কেজির এই চাল বিক্রি করা হচ্ছে। আর এ সুযোগকে নিজেদের পকেট ভরানোর কাজে লাগাচ্ছেন উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য, খাদ্য বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও ডিলাররা।

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারিতেও হুশ নেই তাদের। এমনকি মৃত ব্যক্তিদের নামেও ১০ টাকা কেজির সেই চাল ওঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবল বৌদ্ধ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, চলতি মাসে ৩৩৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়ার কাজ চলছে। এসব চাল বিক্রিতে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম সরোয়ার জাহানকে অবগত করা হলে তিনি জানান, ‘নতুনভাবে তালিকা যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদ ছাড়া অক্টোবর মাসে বরাদ্দকৃত চাল বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।’

তিনি আরও বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে চাল বিক্রিতে অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: বাংলানিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: