সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হঠাৎ তিন উইকেট হারিয়ে চাপে টাইগাররা

155664_1খেলাধুলা ডেস্ক:: তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশের সামনে ৩১০ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দেয় সফরকারী ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে বড় লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরুটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। দারুণ শুরুর পরও টাইগারদের চাপের মুখে রেখেছিল ইংলিশরা। তবে ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দৃঢ়তায় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে টাইগাররা।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের করা ৩০৯ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস স্বাগতিকদের হয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন। এই দুজনের দৃঢ়তায় শুরুটা দারুণ করেছে টাইগাররা। তবে হঠাৎ মনোযোগ হারিয়ে তামিম উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসায় চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর ইমরুল ও সাব্বির রহমান মিলে ২৫ বলে ৩৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটকে আলোকিত করে তোলেন। তবে ডেভিড উইলির দুর্দান্ত এক ক্যাচে আউট হয়ে সাব্বির সাজঘরে ফেরে হতাশা নেমে আসে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে। তবে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেননি ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহ।
এই দুজনের ব্যাটে আশার আলো দেখছিল বাংলাদেশ। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের ফের চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। যদিও ইমরুল-সাকিবের জুটিতে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে জয় দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ ৪২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৭১ রান। ইমরুল ১০৮ ক্রিজে রয়েছেন। সাকিব ৭৯ রানে আউট হয়েছেন। এরপর ক্রিজে এসেছিলেনন মোসাদ্দেক। প্রথম বলেই বোল্ড। ইমরুলের সঙ্গে ৫০ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে ২৫ রান করে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ। তামিম ৩১ বলে ১৭ রানের মন্থর ইনিংস খেলে ফিরেছেন। সাব্বির ১১ বলে ১৮ রান করে আউট হন।

৩১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিস ওকসের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে দর্শনীয় এক ছক্কা হাঁকিয়ে মিরপুরের গ্যালারিতে উন্মাদনা এনে দেন ইমরুল। এরপর ওভারের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন তিনি। অবশ্য প্রথম ওভারের পরই কিছুটা ধীর হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

তবে অষ্টম ওভারে খোলস থেকে বেরিয়ে আসেন ইমরুল ও তামিম। ডেভিড উইলির করা অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে লেগ সাইড দিয়ে দারুণ ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের আনন্দে ভাসান ইমরুল। ওভারের শেষ বলে তামিম চার মেরে দর্শকদের উন্মাদনা ধরে রাখেন।

তবে দশম ওভারে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত জ্যাক বলের করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে তুলে মারতে গিয়ে কভারে জেমস ভিন্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম।

এরপর কোণঠাসা না হয়ে ইংলিশ শিবিরে পাল্টা আঘাত হানেন সাব্বির ও ইমরুল। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন এই দুজন। তবে জ্যাক বলের করা ১৪তম ওভারের শেষ বাউন্ডারি লাইনে উইলির দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হয়ে সাব্বির সাজঘরে ফেরায় ফের চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ডিপ মিড উইকেটে বাউন্ডারি লাইনের খুব কাছ থেকে শূন্যে লাফিয়ে সীমানা লাইনের বাইরে গিয়ে ফিরে এসে সেই বল লুফে নেন উইলি। ফলে সাজঘরের পথ ধরেন সাব্বির।

তবে সাব্বিরের বিদায়ের পরও বাংলাদেশকে চাপে পড়তে দেননি ইমরুল ও রিয়াদ। রিয়াদের সঙ্গে ৫০ রানের দারুণ এক জুটি গড়ার পথে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে দেন ইমরুল। তবে আদিল রশিদের করা ২৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটের বাউন্ডারি লাইনের কাছে ক্যাচ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।

কিছুক্ষণ পর দলীয় ১৫৩ রানের মাথায় মুশফিক ১২ রান করে ফিরে গেলে চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর অবশ্য সাকিব-ইমরুলের ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে মাশরাফির দল।

এর আগে বেন স্টোকসের সেঞ্চুরি এবং জস বাটলার ও বেন ডাকেটের হাফসেঞ্চুরির ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড। ৬৩ রানে তিন শীর্ষ ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর চতুর্থ উইকেটে অভিষিক্ত ডাকেটকে নিয়ে ১৫৩ রানের অনবদ্য জুটি গড়ে সফরকারীদের মজবুত ভিত এনে দেন স্টোকস্ সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলে ইংল্যান্ডকে ৩০৯ পর্যন্ত নিয়ে যান বাটলার।

ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করা স্টোকস ১০০ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ১০১ রান করেন। এছাড়া বাটলার ৩৮ বলে ৬৩ ও ডাকেট করেন ৭৮ বলে ৬০ রান। জেসন রয়ের ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৪১ রান।

বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান ও শফিউল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন। মোশাররফ হোসেন রুবেল ও তাসকিন আহমেদ উইকেটশূন্য থাকেন।

দুদলের মুখোমুখি দেখার সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে ইংলিশদের পরাজিত করার আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এদিন মাঠে নেমেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সেই তিনটি জয়ের দুটি আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পর গত বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপেও জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। সঙ্গে ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০টি ওয়ানডের ১৭টিতে জয়ের সুখস্মৃতিও সঙ্গী হচ্ছে টাইগার দলের। তবে শুক্রবার কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে মাশরাফিদের জন্য।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: