সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রকাশ্যে কলেজ ছাত্রীকে কুপানো এই বদরুল কে

full_1433611683_1475732094ডেইলি সিলেট নিউজ: সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের হামলাকারী সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র বদরুল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। জড়িত ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই বেপরোয়াভাবে চলাফেরা শুরু করেন। বেপরোয়া চলাফেরার কারণেই মূলত তার উত্থান। তিনি ক্যাম্পাসে উগ্র মেজাজী ছাত্র হিসেবে পরিচিত।

শাবি সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার চেচানবাজারের সোনাইগাতি গ্রামের সৌদি প্রবাসী সাইদুর রহমানের ৪ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বদরুল দ্বিতীয়। পারিবারিক স্বচ্ছলতা তেমন নেই। ২০১১ সালে তার বাবা সাইদুর রহমান দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিশেহারা পরিবারের হাল ধরেন বদরুলের বড় ভাই। তিনি পেশায় দর্জি ব্যবসায়ী।

পরিবারের মেধাবী সন্তান হিসেবে বদরুল মূল্যায়িত হওয়ায় তাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। তার ছোট ভাই কৃষি কাজ করে। ছোট বোন ও আরেক ছোট ভাই লেখাপড়া করছে। এলাকায় তেমন একটা পরিচিতি ছিল না বদরুলের। শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সে নিজেকে পরিচিত করতে এলাকায় রাজনৈতিক সহযোগীদের নিয়ে যাতায়াত করত।এছাড়া পরিবারের হাল ধরতে তিনি আলহাজ আয়াজুর রহমান স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন।

ছাতকের নতুনবাজার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও গোবিন্দগঞ্জ আবদুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে অনার্স শেষ করে। তিনি শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আরো জানা গেছে, বছর চারেক আগে শাবির হলে দলবল নিয়ে হামলা চালায় বদরুল। এ সময় কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এর জের ধরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি সদর উপজেলার জাঙ্গাইল এলাকায় তার ওপর হামলা হয়। হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নেতা বনে যান বদরুল। শাবি ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় তিনি চলাফেরায় আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। কেউ তার বিরুদ্ধাচরণ করলেই তাকে মারধর করতেন।

সর্বশেষ গত সোমবার বিকেলে এমসি কলেজ মসজিদের পেছনে সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় বদরুল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ এবং হামলাকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করে।

শাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ জানান, বদরুল আলম শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। তিনি ২০০৮-০৯ সেশনে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মহিলা কলেজের ছাত্রীকে কোপানোর ঘটনায় বদরুল আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আহত কলেজছাত্রীর ভাই নূর আহমদ জানান, বদরুল একজন সন্ত্রাসী। সে বিভিন্ন সময়ে তার বোনকে উত্ত্যক্ত করত। খাদিজা প্রতিবাদ করায়ই সে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

সূত্রে জানা যায়, মনিরগাতি গ্রাম নিজ এলাকায় ভালো ছাত্র হওয়ায় বদরুলকে অনেকে ভালো জানত। কিন্তু সিলেটে সে যেসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তা গ্রামবাসী কিংবা স্বজনরা জানতেন না। তার মা, চাচা, ভাই, স্বজন কিংবা প্রতিবেশী- কেউ এ ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না। তবে লজ্জা, ভয় আর ঘৃণায় কেউ এখন পর্যন্ত বদরুলকে দেখতে হাসাপাতাল বা আদালতেও যাননি।

কলেজছাত্রী নার্গিসকে চাপাতির আঘাতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঠেলে দেওয়া এই ছাত্রলীগ নেতা বদরুল এর আগেও ২০১২ সালে নার্গিসকে উত্ত্যক্ত করে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল। পরে গণধোলাইয়ের ঘটনাকে জামায়াত-শিবিরের হামলা বলে প্রচারণা চালায় সে। কেবল তাই নয়, এ প্রচারণার সফলতা হিসেবে সে ওই সময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধাও নেয়।

মনিরাগাতিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদরুলের বেড়ে ওঠা দিনমজুর পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের বদরুল স্থানীয় আলহাজ আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক।

ওই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মখলেছুর রহমান বলেন, মনিরাগাতি থেকে বদরুল স্কুলে আসা-যাওয়া করতো। ঘটনার দিন স্কুল বন্ধ ছিল। ঘটনাটি জানার পর স্কুল থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট বদরুল আলম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। এতে উল্লেখ করে, ‘হৃদয়ের পার্লামেন্টে আজ স্পিকার নেই। মনের জনসভায় নেই কোনো বক্তা। অন্তরে হরতাল ডেকেছে বিরোধীদল। ভালবাসার ভোটকেন্দ্রে একটিমাত্র ভোট পেয়েছিলাম; তাও আবার জাল। হায়রে কপাল।’ ৩১ আগস্ট আরেকটি স্ট্যাটাসে ‘দূরে সরে গেছ, তাতে কী/ দু’জনে এক আকাশের নিচেই তো আছি’ উল্লেখ করে সে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: