সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

খাদিজাকে নির্মমভাবে কোপানো : ক্ষমতার নৃশংস বহি:প্রকাশ

dsc_0222ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে নির্মমভাবে কোপানোর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার নৃশংস প্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করেন অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানীরা। এরজন্য বিচারহীনতা এবং সামাজিক বৈকল্যকে দায়ী করেন তারা।
তারা মনে করেন, এই অবস্থা বাড়তে দেয়া যাবে না। বাড়তে দিলে সবাই একটি হৃদয়হীন সমাজ ব্যবস্থার বাসিন্দা হয়ে যাবো।

সোমবার বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজের মসজিদের পাশের রাস্তায় নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি)র ছাত্র, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। নার্গিস সিলেট মাহিলা কলেজের ছাত্রী। নার্গিসকে মৃত ভেবে পালিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা বদরুলকে আটক করে পুলিশে দেয়। বদরুল বুধবার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে হামলার কথা স্বীকার করে জানায়, আমাকে প্রত্যাখ্যান করায় হামলা চালাই। এবং হামলার জন্য আড়াইশ টাকায় চপাতি কিনি।

এদিকে নার্গিস এখন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মাথায় অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন বুধবার বলেন, ৭২ ঘণ্টা শেষ না হলে কিছু বলা সম্ভব না। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে আমরা এখনো আশাবাদী।

তিনি জানান, নার্গিসের মাথা এবং হাতে অসংখ্য চাপাতির কোপ। তারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমরাও হতভম্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জিয়া রাহমান বলেন, নার্গিসকে কোপানোর যে দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে, আমি তা দেখেছি। দেখে মনে হয়েছে এক উন্মত্ত এবং বিকারগ্রস্ত মানুষের কাজ। কয়েকটি কারণে বদরুল এই জঘণ্য কাজ করে থাকতে পারে। তারমধ্যে প্রধান কারণ বলে আমার কাছে মনে হয়েছে যে ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার কারণে সে ক্ষমতার প্রকাশ দেখাতে চেয়েছে। প্রত্যাখ্যাত হয়ে সে নির্মম ও পাশবিকতার মাধ্যমে শক্তি প্রকাশ করতে চেয়েছে। এটা ক্ষমতার নৃশংস প্রকাশ। তবে অন্য আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশও তাকে প্রভাবিত করতে পারে।

নার্গিসকে কোপানোর সময় অনেকেই দাঁড়িয়ে দেখেছেন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে না গিয়ে ভিডিও করেছেন, ছবি তুলেছেন। এই ঘটনার ব্যখ্যায় ড. জিয়া রহমান বলেন, সমাজের ট্রানজিশনাল স্টেজে আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত। তাই অন্যের বিপদে তাকে সহায়তা না করে আমরা নিজেরা নিরাপদ থাকতে চাই। উন্নত বিশ্বে কিন্তু অন্য ব্যবস্থা আছে, সেখানে সাথে সাথে পুলিশকে খবর দেয়া যায়। তারা দ্রুতই রেসপন্স করে। আমাদের দেশে তা-ও নেই। তবে আমাদের দেশে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আমরা একটা হৃদয়হীন সমাজের বাসিন্দা হয়ে যাবো।

আর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, বদরুল যা করেছে তাকে বলা হয় দানবীয় আচরণ। কোনো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে তার এই দানব হওয়ার পিছনে আছে ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতা।
তিনি আরো বলেন, ক্ষমতা তাকে দানব করেছে। নিয়ন্ত্রণহীন এবং বিচারহীনতা তার মধ্য থেকে মনুষ্যত্ববোধকে সরিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে এরকমই এক ক্ষমতাধর অপরাধীকে সাধারণ মানুষ আটক করার পর উলটো সাধারণ মানুষকেই মামলায় পড়তে হয়। এসব কারণেই ক্ষমতাধররা নির্মম ও নৃশংস আচরণ করতে একটুও ভীত হয় না।

ডা. তাজুল ইসলামের মতে, হয়ত এই কারণেই সাধারণ মানুষ নার্গিসকে রক্ষায় এগিয়ে যায়নি। কিন্তু সেটা আমার কাছে গ্রহলযোগ্য নয়। ওখানে অনেক লোক ছিল। আর বদরুল একা একটা চাপাতি দিয়ে নার্গিসকে কোপাচ্ছিল। দু’তিনজন এগিয়ে গেলেই হতো। কিন্তু কেউ যায়নি। তাহলে আমাদের মধ্য থেকে কি মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে?

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: