সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

লাউয়াছড়ায় অর্ধশতাধিক প্রাণীর মৃত্যু

unnamed-4মো. মোস্তাফিজুর রহমান::
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বন্য প্রানীর নিরাপদ আবাস্থল হলেও নানা কারনে এখন এসব প্রাণীদের জীবন হয়ে উঠেছে অনিরাপদ। বনের ভিতরের রেললাইন, সড়কপথ ও বিদ্যুৎ লাইন পশুপাখিদের মৃত্যুর কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বছরে গাড়ির নিচে, ট্রেনে কাটা পড়ে ও বিদ্যুত লাইনে পৃষ্ট হয়ে প্রায় অধশতাধিক বন্যপ্রাণী গেছে। মৃত প্রাণীর সঠিক পরিসংখ্যান বনবিভাগে না থকালেও বছরে কয়েক শত প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। ফলে লাউয়াছড়ায় একসময় বন্যপ্রাণীহীন হয়ে পড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার ১২৫০ হেক্টও জায়গা জুড়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অবস্থান। এই জাতীয় পার্কের ভেতর দিয়েই ঢাকা-সিলেট রেলপথ এবং শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কপথ প্রবাহিত হয়েছে। প্রতিদিন কমলগঞ্জ টু শ্রীমঙ্গল সড়কপথে কয়েক শত যানবাহন এবং রেলপথে আঠারো থেকে বিশটি ট্রেন আসা যাওয়া করছে। বেল ও সড়ক পথ ছাড়াও লাউয়াছড়া বনের ভিতরে শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ ৩৩ হাজার কেভি প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চলন লাইন রয়েছে। রেললাইন ও সড়কের উভয় পাশেই বিস্তৃত উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। রাস্তা ও রেলপথ থাকার কারনে বন্য প্রাণীরা প্রতিদিন এপার হতে ওপারে ছুটাছুটি ও লাফালাফি করে। এতে কওে লাফালাফি করার সময় প্রায়ই সাপ, হরিন বিভিন্ন ধরনের প্রাণী গাড়ির চাকার নিচে অথবা ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে কিংবা আঘাত পেয়ে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। এছাড়া একইভাবে ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ লাইনে পিষ্টও বিভিন্ন সময়ে হরিণ, বানর ও সাপসহ অন্যান্য প্রাণিরাও মারা যাচ্ছে। তবে রাতের বেলা চলাচল করে বলে বন্যপ্রাণীরা রাতেই বেশি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া এসব প্রাণীর অনেকগুলোরই হিসাব নেই। তাৎক্ষণিকভাবে দিনের বেলা সড়কপথে মারা যাওয়া প্রাণীর যেগুলো চোখে পড়ে, কিংবা লোক মাধ্যমে খবর পেলে বন্যপ্রাণী বিভাগ সেগুলোরই কিছু হিসাব রাখে। আর রেলপথে মানুষের চলাচল কম বলে সেখানে কাটা পড়ে কি পরিমাণ প্রাণী মারা যাচ্ছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই কিংবা কেউ বলতেও পারচ্ছেন না।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ লাউয়াছড়া বনবিট অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৬ মার্চ একটি গ্রিনফ্যান থ্রোপ্যাড লেজার্ড, ২১ মার্চ একটি চশমাপরা হনুমান, ৩১ মার্চ একটি হলুদ ফোঁটা ঘর গিন্নি সাপ, ১০ মে একটি হলুদ ফণীমনসা, ২৩ জুলাই একটি কিং কোবরা ও একটি সোনালি শিয়াল, ১৭ আগস্ট একটি চশমা পরা হনুমান, ২৪ আগস্ট একটি সাপ,৩০ সেপ্টেম্বও ২টি বিরল প্রজাতির শঙ্গিনী, দাঁড়াশ সাপ,এবং ৮ সেপ্টেম্ব^র একটি সাপ মারা গেছে। ওই বিভাগ গত মার্চ মাস থেকে শুধু সড়কপথে মারা যাওয়া নয়টি প্রাণীর হিসাব সংরক্ষণ করেছে। তবে বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন দুর্বলতার কারনে নিয়মিত তালিকা সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মারা যাওয়া প্রাণী সমুহের সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পাইথন প্রকল্পের উদ্যোগে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যানবাহনের চাকায় পিষ্ট ও আঘাতে কী পরিমাণ বন্য প্রাণী মারা যায়, তার ওপর একটি জরিপ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, এই সময়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কের হিড বাংলাদেশের কার্যালয় এলাকা থেকে জানকী ছড়া মোড় পর্যন্ত সাত কিলোমিটারে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০০ মৃত সাপ পাওয়া গেছে। এগুলো কোনো না কোনোভাবে যানবাহনের আঘাতে মারা গেছে। এর মধ্যে কোবরা, কিং কোবরা, অজগরসহ অনেক বিপন্ন প্রজাতির সাপ ছিল। জুলাই মাসের দিকে অজগরের বাচ্চা হয়। তখন বাচ্চাগুলো ছোটাছুটি করে। সেই সময়ে রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে বাচ্চাগুলোই বেশি মারা পড়ে। এর বাইরে চিতা বিড়াল, প্যাঁচা, বানর, ব্যাঙ ইত্যাদিও মৃত পাওয়া গেছে। বৃষ্টির সময় ব্যাঙ বেশি ছোটাছুটি করে।

বাংলাদেশ পাইথন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সাপ ও কচ্ছপ গবেষক এবং ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের একটি সূত্র জানায়, পাখিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর জন্য লাউয়াছড়া দেশে-বিদেশে বিখ্যাত। প্রাণীই যদি না থাকে, তাহলে এই উদ্যানের আকর্ষণই থাকবে না। সংস্থার পক্ষ থেকে সার্ভের সময় প্রায় প্রতিদিনই মৃত সাপ পাওয়া গেছে। কোনোভাবে রাস্তা বন্ধ করলে লাউয়াছড়ার প্রকৃতিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে।

বন বিভাগ জানায়,পাইথন প্রকল্পের ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স গবেষকদের তথ্যে গত কয়েক বছর ধরে পাইথন ও কচ্ছপ নিয়ে গবেষণা করে একটি হিসেব প্রদান করেছে তাতে বছরে ৪০ থেকে ৪৫টি বন্যপ্রাণি মারা যাচ্ছে বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে। সেখানে সাপসহ বিরল প্রজাতির কথাও উল্লেক্য রয়েছে।

যোগাযোগ করলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, মৃত বন্যপ্রাণীর হিসাব পুরোপুরি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। প্রায় ৮কি. মি. রেলপথে চলাচল সম্ভব হয় না। তবে জনবল সংকটের কারনে এসব বিষয়ে সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: