সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ক্ষমা করুন হে শিক্ষক… (ভিডিওসহ)

14555626_1290955967594790_2144129682_nহাসান মো. শামীম::
২৬ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত সাইদুল ইসলাম। একজন ধর্ম শিক্ষক থেকে হয়েছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক এরপর ক্রমান্বয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক! তার হাত ধরে বড়লেখা দক্ষিন ভাগ এলাকার হাজারো শিক্ষার্থী পেয়েছে জ্ঞানের আলো… হয়েছে শিক্ষার আলোয় আলোকিত! সারা জীবন মানুষের সম্মান পেয়ে আসা সম্মানীয় সেই শিক্ষক এবার দেখলেন মুদ্রার উল্টো পিঠ! সন্তান সম ছাত্র দের হাতে হলেন বেদম প্রহারের শিকার!

২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের দ্বারা হামলার শিকার হন সাইদুল ইসলাম।দুষ্কৃতকারী দের বেদম প্রহারে তার মাথা ফেটে যায়! ঘটনার পরপরই তাকে আশংকা জনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।অদ্যাবধি তিনি সেখানেই ভর্তি আছেন।প্রাথমিক বিপদ কেটে গেলেও তার মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরন হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে সমস্যায় ভোগার আশংকা করছেন চিকিৎসকরা।

সাইদুল ইসলামে নিজস্ব জবান বন্দি থেকে জানা যায়… ২০০৫ সাল থেকে তিনি দক্ষিন ভাগ হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায় ২০০৮ সালের দিকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন। সাফল্যের সাথে তিনি দক্ষিন ভাগ স্কুলের সকল দায়িত্ব ও সম্পন্ন করছিলেন।গত সেপ্টেম্বর মাসে স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য নিয়োগ আহবান করলে জুড়ি উপজেলার হাজি ইনজাদ আলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুক উদ্দিন ওই পদে তার সিভি জমা করেন এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও পান। কিন্তু গোল বাধায় তার প্রাক্তন স্কুলের পরিচালনা কমিটির একটি অভিযোগ পত্র।

সাইদুল ইসলাম বরাবর প্রেরিত সেই অভিযোগ পত্রে লেখা হয়, মাসুক উদ্দিন স্কুল কমিটির কারো অনুমতির তোয়াক্কা না করে মিথ্যা অনাপত্তি পত্র দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছেন। ২০১৫ সালে নিয়োগ দেওয়ার পর স্কুলের সাথে মাসুক উদ্দিনের অন্তত ৫ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে থাকার চুক্তি থাকলেও তিনি তা ভঙ্গ করেছেন, উপরন্তু তাদের স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও নেই বলে তারা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন।পিএসসি,জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে হাজী ইনজাদ আলি হাই স্কুল মনোনিত থাকায় অভিভাবক শুন্য করে মাসুক উদ্দিনের চলে যাওয়া তারা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেননি। ফলে দক্ষিন ভাগ স্কুলে মাসুক উদ্দিন কে প্রধান শিক্ষক হিসেবে গ্রহন না করার জন্য সাইদুল ইসলামের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

ঘটনার সত্যতা জেনে সাইদুল ইসলাম ও মাসুক উদ্দিনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিপক্ষে কন্ঠ জোরদার করেন।হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি ডেইলি সিলেট কে বলেন সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুক উদ্দিনের অনুসারীরা এরপর আমার উপর আক্রমন চালায়। যদিও এ ব্যাপারে আমার বিন্দু বিসর্গ হাত নেই।এ কারনে দক্ষিন ভাগ স্কলের ক্ষুব্দ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রা মিলে বড়লেখায় একটি মানব বন্ধনের আয়োজন করেন।তাতে সাইদুল ইসলামের উপর হামলা কারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি জন্য জোর কন্ঠে আহবান জানান তারা।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুক উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি!

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: