সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিশুদের জন্য বৈষম্যহীন সমাজ চাই :প্রধানমন্ত্রী

1475519014নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেড়ে ওঠার পথে শিশুদের যাতে বৈষম্যের শিকার হতে না হয় সেভাবেই সমাজকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, শিশুদের জন্য বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে কাজ করছে সরকার। আমরা চাই, ধনী, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক— যে শিশুই হোক, সকলের যেন সমান অধিকার থাকে। শিশু নির্যাতন রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে জানিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি শিশুও যেনো না খেয়ে, নিরক্ষরতার অন্ধকারে না থাকে সেজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল সোমবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। ‘থাকবে শিশু সবার মাঝে ভালো, দেশ-সমাজ, পরিবারে জ্বলবে আশার আলো’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০১৬ উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আজ খাদ্যের কোনো অভাব নেই। তাই কোথাও কোনো শিশুই যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। আমরা প্রত্যেকটা মানুষেরই খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু চাইতেন এদেশের কোনো মানুষ আর দরিদ্র থাকবে না। কোনো শিশুই মায়ের কোলে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে না। প্রত্যেকটা মানুষ তার জীবনের অধিকার পাবে। কাজেই তার সেই আদর্শ বুকে নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ বিত্তবানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বাড়ির আশপাশে যারা দরিদ্র শিশু আছে তারা কেমন আছে, সে লেখাপড়া করতে পারছে কি না, তার গায়ে কাপড় আছে কি না, তারা পেটভরে খেতে পারছে কি না, দয়া করে এ সব শিশুদের দিকে একটু নজর দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে আমরা আরো সুন্দর করে গড়ে তুলবো। আমাদের বর্তমানকে আমরা উত্সর্গ করবো আমাদের শিশুদের সুন্দর আগামীর জন্য। নিরাপদ ও সুন্দর জীবন যেন তারা পায়। তিনি বলেন, দরিদ্র হয়ে কেউ জন্মায় না, এটা তার ভাগ্য। একটা দরিদ্র পরিবারে জন্ম বলেই সে দরিদ্র। কিন্তু ঐ শিশুটি ধনীর ঘরে জন্মালে সেওতো ধনীই হত, কাজেই এই ব্যবধানটা যেন শিশুদের মাঝে কোনোমতেই না দেখা দেয়। এই বিষয়টা ছোট্টবেলা থেকেই শিশুদের শেখানো একান্তভাবেই দরকার। তিনি বলেন, শিশুরা পবিত্র। সে যেখানেই থাকুক সমাজে তার সমান অধিকার রয়েছে। কাজেই এই অধিকারটা যেন সে নিশ্চিতভাবে পায় তা সকলে দেখবেন, সেটাই আমি আশা করি। ১৬ কোটি মানুষের খাবার আমরা নিশ্চিত করছি, সেখানে আমার শিশুরা কেনো না খেতে পেয়ে কষ্ট পাবে?

বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে আমাদের যে সংবিধান দিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানেও শিশুদের বিষয়টি বাদ পড়েনি। তিনি শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে ১৯৭৪ সালে শিশু আইন করেন। তখনো জাতিসংঘ শিশু অধিকার আইন করেনি, তারা করেছে ১৯৮৯ সালে। তিনি বলেন, আমাদের শিশুরা যেনো যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সেজন্য তার সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বইয়ের বোঝা বইতে যেন না হয় সে জন্য আমরা ই-বুক করে দেব। বাচ্চারা ট্যাব নিয়ে স্কুলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। কোনো ছেলে-মেয়ে যেনো স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে সেদিকে আমরা বিশেষ নজর দিচ্ছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণে শিশুদের জন্য শেখ রাসেল ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের পরিবেশনায় ‘সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাও বাংলাদেশ’ শীর্ষক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এডুয়ার্ড বেইগবেডার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম, কোমলমতি শিশুদের পক্ষে শিশু বিকাশ কেন্দ্র গাজীপুর এবং আজিমপুরের দুই শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার মীম ও মুজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩১ তলা ভবনের ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ২০ অক্টোবর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩১ তলা ভবনের ভিস্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন আগামী ২০ অক্টোবর। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক পত্রের মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষকে এ কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক ঘণ্টা অবস্থান করবেন। ফলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের হাইরাইজ এই ভবনটির ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠান হবে ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত।

আগামী ২০ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৬২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনেই প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের নবনির্মিত ৩১ তলা ভবনে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। সেই অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ফিরতি চিঠির মাধ্যমে সোমবার তা নিশ্চিত করেছে। এ খবর পাওয়ার পর সোমবার দিনভর প্রেস ক্লাবে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। আগামী ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের ব্যস্ততার মাঝেও প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের গর্বের এই আধুনিক ভবনের ভিস্তি প্রস্তর স্থাপন করতে রাজি হওয়ায় দলমত নির্বিশেষে সাংবাদিকরা আনন্দ প্রকাশ করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান জানান, ‘প্রেস ক্লাবের ৩১ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের স্পেস হবে ২২ হাজার বর্গফুট। এ ভবনের ছাদে থাকবে একটি শক্তিশালী হেলিপ্যাড। যে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করতে চাইলে হেলিকপ্টারে এসে ছাদে নেমে বিশেষ লিফটের মাধ্যমে কনফারেন্স কক্ষে চলে যেতে পারবেন। ভিআইপিদের জন্য নতুন ভবনে থাকবে বিশেষ লিফট। গাড়িতে এসেও ওই লিফটে করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কনফারেন্স কক্ষে যেতে পারবেন বলে জানান শফিকুর রহমান।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: