সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্যানেল চেয়ারম্যান আলম হত্যাকাণ্ড: ক্ষোভে উত্তাল শাহবাজপুর

alom-hotta-daily-sylhetদেলোয়ার হোসাইন::
জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সদস্য, প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন আলম (৩৮) খুনের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল শাহবাজপুর। প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে এমন হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছেন না এলাকার সাধারণ মানুষ। আলমের হত্যাকারী কাজলের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন তাঁরা। দলমত নির্বিশেষে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখের আপনজন সদালাপী আবুল হোসেন আলমের এমন মৃত্যু কারো কাছে কাম্য ছিলনা।

এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা, স্ত্রীর হাহাকার, বোনের আর্তনাদ আর শোকে মুহ্যমান পাড়া প্রতিবেশিরা। গ্রামে গ্রামে চলছে শোক সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। আবুল হোসেন আলম স্মরণে স্থানীয় ইউনিয়ন অফিসে খোলা হয়েছে শোক বহি।

জানা যায়, আবুল হোসেন আলম গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পোনে এগারটার দিকে ইউনিয়নের আরেক সদস্য মাসুক আহমদকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে আলীমপুর গ্রামে একটি জানাযার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে ওঁৎপেতে প্রতিক্ষায় থাকা সায়পুর গ্রামের কাজল মিয়া চলন্ত মোটরসাইকেলরে পেছনে বসে আবুল হোসেন আলমের বাম হাতে কুপ দিয়ে মোটরসাইকেলসহ তাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে উপর্যুপুরী রামদা দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত বৈরাগি টিলার দিকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আলমকে উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আবুল হোসেন আলম সায়পুর গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র। তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক ছিলেন।

আলমের এমন মৃত্যু সংবাদ শুনে উত্তেজিত জনতা সায়পুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে কাজল মিয়ার বাড়ি ও বাড়ির সামনে দোকানঘর অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দিয়েছে। পরে বড়লেখা ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের সময় শাহবাজপুর স্কুল এ কলেজ প্রাঙ্গণে আলমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে মানুষের ঢল নামে। এর আগে সকাল ১১টার দিকে মৌলভীবাজার হাসপাতাললে ময়না তদন্ত শেষে থেকে লাশ বাড়ি নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নিহত আলমের চাচা এবং চাচাতো ভাইদের সাথে ঘাতক কাজলের পূর্ব বিরোধ ছিল। এর জের ধরে গত ১৫ অক্টোবর শনিবার আলমের চাচাতো ভাইয়েরা শাহবাজপুর বাজারে কাজলকে আটক করে মারপিট করার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে আলমকে দায়ী করে কাজল। তাই এলাকার অনেকেরই ধারনা পূর্ব বিরোধের জেরেই খুন হন আলম।

এদিকে আলম হত্যাকারী কাজলকে আটক করেছে জনতা। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফজরের নামাজ শেষে আতুয়া গ্রামের এক মুসল্লি কাজলকে যেতে দেখে সাথে সাথে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জুবায়ের লিটনকে জানালে তিনি কাজলকে অনুসরণ করার কথা বলে সবাইকে ফোন করে নিজেও বেরিয়ে পড়েন।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কাজল সাঁতরে সুনাই নদী পাড়ি দিতে গিয়ে আতুয়া ও পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার সারপার, নয়াগ্রাম এলাকার মানুষ ও বিজিবির সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।

এ সময় নয়াগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পে ঘাতক কাজলকে নিয়ে আসাল হলে সেখানে উত্তেজিত জনতা ভিড় জমান। পরে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একদল পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজলকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় কাজল ছাড়াও সায়পুরের ইয়াসিন আলী নামের আরেকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জুবায়ের লিটন ডেইলি সিলেটকে বলেন, এলাকাবাসী, বিজিবি ও সারপারবাসীর সহযোগিতায় আমরা আলমের খুনি কাজলকে আটক করতে পেরেছি। আমরা দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে আলম হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। তিনি বলেন, রোববার জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম শাহবাজপুরে আসার পর এ বিষয়ে উনার সাথে কথা বলেছি। তিনি আরো বলেন, আলম হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে আমি সেচ্ছায় চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করবো।
এদিকে নিহত আলমের বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে কাজলকে প্রধান এবং আরো কয়েক জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বড়লেখা থানায় মামলা করেছেন।

আলম হত্যা মামলায় ঘাতক কাজলকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারুক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আনোয়ার ডেইলি সিলেটকে বলেন, আলম হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। এ হত্যার পিছনে কোন ষড়যন্ত্র আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যায় ব্যবহৃত রামদা উদ্ধার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রামদা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: