সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আয়ারল্যান্ডের দস্যুরাণীর গল্প

grace-omalley-house-550x309নিউজ ডেস্ক: গ্রেস ও’মেলি। ষোড়শ শতকের এক নারী। নাবিক, কেপ্টেন, ডাকাত, ভাড়াটে সৈনিক, বিদ্রোহী, জলদস্যু- নানা পরিচয় তার। ডাবলিনের পানশালায়, রেস্তোরাঁয় তার দুঃসাহসিক কাহিনী হর হামেশাই শোনা যায়। ও’মেলির গল্প জড়িয়ে আছে মায়ো কাউন্টির জনশ্রুতি ও উপকথার সঙ্গে। মায়ো কাউন্টি তখন ছিলো জলদস্যুদের স্বর্গরাজ্য।

ষোড়শ শতকের আয়ারর‌্যান্ডে নারীদের শিক্ষার কোন সুযোগ ছিলোনা। আর তখন শিক্ষার সুযোগও ছিলো সীমিত। তখন নারীরা সন্তান পালন আর ঘরকন্যায় সময় পার করে দিতো। পার করতো প্রায় পুরো জীবন। গ্রেস ও’মেলির জীবন ওই রকম ছিলোনা। তার জীবন ছিলো, নাবিক, ভাড়াটে সৈনিক, বিদ্রোহী ও জলদস্যুর জীবন। তার জীবনের অন্য পিঠও ছিলো। যেখানে বসবাস করতো এক প্রেমময়ী নারী ও মমতাময়ী মা।
তাকে নিয়ে কিছু গবেষণা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে এটা কেবল পানশালার গল্প নয়। এটা এলিজাবেথ পর্বের একটা অসাধারণ জীবন যুদ্ধের গল্পও।

ডাবলিন থেকে ট্রেনে চড়ে ৯০ মিনিট গেলে পৌঁছা যায় এথলন শহরে। পথে পড়বে শ্যানন নদী। এই অঞ্চলটা আয়ারল্যান্ডের হৃদয় বলে পরিচিত। কনট প্রদেশের অঞ্চল এটা। এ অঞ্চলে যেতে যেতে প্রথমে চোখে পড়বে ফসলের ক্ষেত, এরপর ক্রমাগত বন্য প্রকৃতি সামনে আসবে, অপূর্ব সুন্দর বনভূমি। এর পর দেখা যাবে ক্ষয়ে যাওয়া তৃণাবৃত মাটি এবং সব শেষে জলাভূমি। এথলন থেকে আরো ৯০ মিনিট গেলে পৌঁছা যাবে ওয়েস্ট পোস্ট শহরে। মায়ো কাউন্টির শহর। শহরের পাশের বেলাভুমি নেমে গেছে অতলান্তিকে। এ এক রহস্যময় সাগরবেলা। শত শত ছোট দ্বীপ ছড়িয়ে আছে চারপাশে। এগুলো শেষ বরফযুগের চিহ্ন। এ দ্বীপগুলো বসতিহীন। এখানকার শহর ও গ্রামের সবাই ্ও’মেলির গল্প জানে। এই সাগর বেলা একসময় নিয়ন্ত্রণ করতো ও’মেলির ক্ষমতাধর পরিবার। ওই সময় ওয়েস্টপোস্ট শহর প্রতিষ্ঠিত হয় নি। মেলি জন্মেছিলেন ক্লেয়ার দ্বীপে। এই দ্বীপটি সৈকত থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে। এখানেই শুরু হয় তার কিংবদন্তী তুল্য জীবন।

ও’মেলিকে নিয়ে এখন যে গল্প প্রচলিত আছে, এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল কম। তবে তার আকর্ষনীয় ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ জীবন ছিলো- এ বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। তার জীবন ছিলো দুরন্তপনায় ভরা, অশ্রদ্ধা ছিলো প্রচললিত সামাজিক আচারের প্রতি। কথিত আছে মেলি নেতৃত্ব দিতেন দু’শো দুর্ধষ্য যোদ্ধার দলকে। তার ছিলো একটা ছোট নৌবহর। যে বহর সব সময় যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতো। অন্যদিকে, মেলি কর আদায় করতো বাণিজ্য জাহাজ থেকে, বিনিময়ে নিশ্চিত করতো নিরাপদ সমুদ্রযাত্রা। কর না দিলে লুট করা হতো বানিজ্যপোত।
আয়ারল্যান্ডের এই উপকূল উষ্ণ।

ক্লেয়ার দ্বীপ এমন একটি দ্বীপমালার মধ্যে অবস্থিত যে, সেখানে জোয়ার-ভাটা বিবেচনায় রেখে, চোরাবালি পার হয়ে নীরবে পৌঁছা প্রায় অসম্ভব। আর এই জল-মাটিতে জন্ম নেয়ায় তার কাছে এ এলাকা ছিলো মায়ের আঁচলের মতো চেনা। এটাই ও’মেলিকে সুবিধা দিয়েছিলো। এই দ্বীপমালায় ও’মেলির একাধিক গোপন আস্তানা ছিলো। তার ওপর, তার জীবন ছিলো রহস্য ঘেরা।
ও’মেলির পরিবার ছিলো মেয়ো উপকূলের বংশপরম্পপরায় জমিদার। আজ পাঁচশ’ বছর পরও মেলির জন্মগৃহই এ এলাকার সবচেয়ে উঁচু দালান। ধারণা করা হয় ও’মেলি জন্মেছিলেন ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে।

শিশু বয়সেই এই রহস্যময়ী নারী শিখেছিলেন চামড়ার ছই লাগানো ডিঙি নৌকা চালাতে। এখনো এ অঞ্চলের বালক-বালিকার এই শিক্ষা গ্রহণ করে। জনশ্রুতি আছে, মেলি যখন বাড়ন্ত বালিকা তখন বাড়ির অনুমতি ছ্ড়াাই নানা দিক ঘরে বেড়াতো। অনুমতি ছাড়াই চুল কেটে বালকের সাজে সে অংশ নিয়েছিলো তার বাবার সমুদ্র যাত্রায়।
ও’মেলি বিয়ে করেছিলেন স্থানীয় কমান্ডার ও’প্লাহেরতিকে। তখন তার বয়স ১৫। এরপর তিনি জন্ম দেন তিন সন্তানের। খুব কম বয়সে তার স্বামী মারা যান। এরপর তিনি তার স্বামীর অনুচর ও নৌ-বহরের দায়িত্ব নেন। ও’প্লাহেরতি পশ্চিম উপকূলে বানিজ্য করতেন।
ও’প্লাহেরতির মৃত্যুর পর ও’মেলি চলে আসেন বাবার বাড়িতে, ক্লেয়ার দ্বীপে। তিনি শুরু করেন সমুদ্র যাত্র। মাছ, পশম ও চামড়ার ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে ইংরেজ জাহাজ লুট করা শুরু করেন।

ক্লেয়ার দ্বীপের কাছাকাছি শহর গ্যালওয়ে। ওটা তখন অন্যতম প্রধান বানিজ্য কেন্দ্র। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড থেকে জাহাজ চলাচল করতো এই উপকূল ধরে। এই বানিজ্য জাহাজের নাবিকেরাই প্রচার করে এখানকার দস্যুরাণীর খবর। ও’মেলি মারা যান ১৬০৩ সালে। তাকে কবর দেয়া হয় ১৫ বর্গমাইলের এক দ্বীপদেশে, দ্বাদশ শতকে নির্মিত এক গির্জা প্রঙ্গনে। ১৫৬৬ সালে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন ওমেলি। তার স্বামীর নাম ছিলো রিচর্ড ব্রুক। ওই বিয়ের পর থেকে এই গির্জার পাশেই গড়ে তুলেছিলেন তার মূল আস্তানা। এখানে আস্তানা গড়ার প্রধান করণ ছিলো দ্বীপের দুর্ভেদ্য অবস্থান। কথিত আছে রিচার্ড ব্রুক মারা যান ১৫৮৩ সালে। এর পর ও’মেলি ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। ইংলিশরা আক্রমন তীব্রতর করে। তার টিবোট ধরা পড়ে ইংরেজ সেনাদের হাতে। এর পর মেলি টেমস নদী ধরে সরাসরি চলে যান গ্রিনউইচ প্রাসাদে। দেখা করেন রাণী প্রথম এলিজাবেথ-এর সঙ্গে। এর পর ও’মেলি রাণীর শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শর্তে তার ছেলেকে মুক্ত করেন এবং নিজেও ক্ষমা পান।

১৬০৩ সালে রাণীর বাহিনী যুদ্ধ শুরু করে স্পেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্পেনীয় বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় আইরিশ বিদ্রোহীরা। আর, রানীর বাহিনীর পক্ষে যোগ দেন ও’মেলি ও তার সহযোগী যোদ্ধারা। আইরিশ ইতিহাসে ও’মেলিকে উপেক্ষা করা হয়। ইংরেজ পক্ষে যুদ্ধ করার জন্যই হয়তো এমন উপেক্ষা। এই উপেক্ষার পরও ক্লেয়ার উপকূলে গ্রেস ও’মেলি এক রহস্যময়ী বিদ্রোহী যোদ্ধা। তথ্যসূত্র বিবিসি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: