সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমাদের সাংবাদিকতা এবং সংবাদ মান কোন পথে ?

14502863_162804077505749_7296437373212619760_nমুনশী ইকবাল ::
ইদানিং অনেকেই একটা প্রশ্ন করে থাকেন সংবাদের মান বা সাংবাদিকতার মান কোথায় যাচ্ছে। সংবাদপত্র সংশ্লিষ্টদের মাঝ থেকেই এ প্রশ্ন বেশি শুনা যায়। শনিবার (১লা অক্টোবর ২০১৬) সিলেট সফরে আসেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং সেনাপ্রধান, জাতীয়পার্টি চেয়ারম্যান লে.জেনারেল (অব.) হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। জেনারেল এরশাদের সিলেট আগমনে নগরীর রেজিস্টারী মাঠে এক জনসভার আয়োজন করে স্থানীয় জাতীয়পার্টি।

সেই জনসভার (একটি) আয়োজন ঘিরে একটি অনলাইন পোর্টালের অবাস্তব এবং অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশন দেখে শিরোনামের প্রশ্নটি মাথায় এলো। পেশাদারীত্বের কারণেই আমি ঐ জায়গাটি সরেজমিন দেখবার সুযোগ পেয়েছি এবং সংবাদটি যেভাবে পরিবেশিত হয়েছে এর সাথে বাস্তবতার মিল পাইনি।

একটি গোষ্ঠী বা একটি মতবাদের প্রতি কোনো গণমাধ্যমের ঝোঁক বা টান থাকতেই পারে। এটা আদর্শগত ভাবেই হোক বা কোনো (নৈতিক বা অনৈতিক) বিনিময়গত কারণেই হোক। সেই টানের কারণে সংবাদ রচনার বেলায় যৌক্তিকভাবে কিছুটা পক্ষপাতিত্ব দেখা যেতে পারে। কিন্তু অপ্রয়োজনীয়, অবান্তর বা অবাস্তব তথ্য পরিবেশন করে তারা সংবাদ মান, সংবাদ মাধ্যমের মান এবং সাংবাদিকতার মানকে নেকিবাচকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাথে সাথে যারা এটা পরিবেশন করে তাদের পেশাদারিত্ব, যোগ্যতা এবং সততা নিয়ে সহজভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়। দিনদিন এদের সংখ্যা এবং দাপট বাড়ছেই। মূলধারার সাংবাদিকদের অসাবধানতা, নমনীতা কিংবা উদারতা আর কতিপয়ের অনৈতিক খায়েশের কারণেই এটা হচ্ছে বলে মনে হয়। কখনো কখনো ঐক্যহীনতাও দায়ী হতে পারে।

একটি সাধারণ বিষয়ের মাঝে অসাধারণতা খোঁজা বা সুন্দর করে শৈল্পীকভাবে ফুটিয়ে তোলে সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিকতায় সৃজনশীলতার প্রকাশ। যেমন অনেকে শিশুশ্রম, শিক্ষা, অভাবনীয় প্রতিভা ইত্যাদি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে থাকেন। কিন্তু যে ঘটনা বা বিষয় স্বাভাবিক, সবার বেলায় সমান, যা সবসময় হয়ে থাকে তা কেবল একজনের বেলায় অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করা, যার মাঝে বাস্তবতার কোনো মিল নেই এটা কি সংবাদ হতে পারে না। এটা কোনো সৃজনশীলতা নয়। কঠিন ভাষায় সহজ করে বললে এটা অযোগ্যতার প্রকাশ। যারা সংবাদ উপাদান থেকে নিউজ বের করে আনতে জানেনা তারা অবাস্তব বা অবান্তর বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করে ফায়দা হাসিল করতে চায়। আর সংগত কারণেই এদের অবাদ বিচরণে সুষ্টু সাংবাদিকতা বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হয়।

অনেক সময় সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করে বসেন ওরা এই নিউজটি এতো বড়ো করে প্রকাশ করলো আর আপনারা ছোট করেও ধরালেন না। কখনো এটাও তারা বলেন, আমরা যে সংবাদটি (প্রেসরিলিজ) পাঠিয়েছি ওরা তো হুবহু আমরা যেভাবে দিয়েছি সেভাবেই ছেপে দিলো আর আপনার কেটে ছেটে একেবারে তিনলাইন করে দিলেন। এটা ঐ সাধারণ মানুষের জন্য বলা স্বাভাবিক। কেননা তারা তো আর নিউজ এডিটের বিষয় জানেন না বা জানবার দরকারও নেই। তারা যা দেখেন তাই বলবেন, এটাই তো নিয়ম। এতে করে মূল ধারার সাংবাদিকতা সাধারণের কাছে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। সংবাদপত্রে নিউজ সম্পাদনা বা এডিটিং একটি স্বাভাবিক বিষয়। যারা এডিটিং কি সেটাই বুঝে না তারা এডিটিং করবে কি? কিন্তু তারা সংবাদ তাদের মতো করে পরিবেশন করে যাচ্ছে এবং সাধারণদের বিভ্রান্ত করছে। তবে দুঃখজনক ভাবে হলেও সত্যি এখকার সময়ে এদের সংখ্যাই বেশি।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অনেকে মাঝেমধ্যে টিটকারী দিয়ে বলে থাকেন বাংলাদেশে এখন ঘাস লতাপাতা যতো তার চেয়ে বেশি সাংবাদিক। কেউ কেউ এজন্য যত্রতত্র গড়ে ওঠা অনলাইন গণমাধ্যমকে দায়ী করে থাকেন। যদিও বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় অনলাইন একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। দিন যতো যাচ্ছে অনলাইন গণমাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কিন্তু অনলাইনের নামে আমাদের সমাজে পোর্টালের আদলে যেগুলো গড়ে উঠছে তার সবগুলো আসলেই গণমাধ্যমে পড়ে কিনা তা একটি বড়ো প্রশ্ন। কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলেন ‘এখন আর কারো সাংবাদিক হতে হয় না এখন সরাসরি সম্পাদক হওয়া যায়।

অবস্থা দেখে মনে হয় এখন সাংবাদিকের চেয়ে সম্পাদকের সংখ্যা বেশি।’ মূলত যত্রতত্রভাবে অনলাইন পোর্টাল গড়ে উঠবার কারণেই এমনটা বলবার সুযোগ তারা পাচ্ছেন। কিন্তু এটাতো আসলে অনলাইনের সমস্যা না। অনলাইন একটি বাস্তবতা। অনেক জনপ্রিয় পত্রিকা তাদের অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করে থাকে। এটাতো অনলাইনের সফলতার কারণেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যারা অনলাইনের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে অসাধুভাবে ফায়দা নিতে চাইছে তাদের জন্য। এরা জনপ্রিয় একটি মাধ্যমকে কুলষিত করে দিচ্ছে। আর এর সবচেয়ে বেশি সুযোগ দিচ্ছেন আমাদের সাংবাদিক সমাজই। তাই মূল ধারার সাংবাদিকদের এজন্য অগ্রণী হওয়া প্রয়োজন।

নয়তো অসাধুদের দাপটের কারণে এখন যেভাবে অনেকে প্রেসরিলিজ এডিট নিয়ে প্রশ্ন করে ফেলেন, সামনে খুব একটা দেরি নেই মূল ধারার সাংবাদিকদের নিউজ তৈরী নিয়ে প্রশ্ন তুলবার সুযোগ তারা নেবে। এতে করে সাংবাদিকতার মান বাড়বে না কমবে তা ভাববার বিষয়। অসাধু বলা হোক আর যাই বলা হোক, এদের বাড় এমনি এমনি বাড়ছে না। আমাদের মাঝ থেকেই কেউ না কেউ এদের ছায়া দিচ্ছে। একটি সমাজে সবাই সাধু হয়না। কাজেই অসাধুরা অসাধুদের ছায়া দেবে এটাই স্বাভাবিক। এরা মূল ধারার সাংবাদিকতায় আশ্রিত আগাছা। মাঝে মাঝেই এসব আগাছা উসকে উঠে, এটা এদের স্বভাব। এদের যতো আসকারা দেয়া হবে এরা ততো মাথাচাড়া দেবে। আগাছার ধারাবাহিক মাথাচাড়া দিয়ে বেড়ে উঠা বড়ো গাছের জন্য ভালো খবর নয়। মূল ধারার সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হলে, তৎপর হলে আগাছা পয়ের তলায় পড়েই মরে যাবে। আলাদা করে নিড়ানী দিতে হবে না। আর তাই সংবাদ মান, সাংবাদিকতার মান উজ্জ্বল রাখতে সাংবাদিকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

( লেখক : সাংবাদিক, স্টাফ রির্পোটার দৈনিক জালালাবাদ, সদস্য সিলেট প্রেসক্লাব, নিউজ ইনচার্জ, জাগোসিলেট ডট নিউজ। )

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: