সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণ; আবারও আলোচনায় সিনারফ্লাক্স

14518668_1293509387327057_1399239598_n-696x392প্রবাস ডেস্ক:
অতি শীঘ্রই খুলছে মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার । আর এই শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সিনারফ্লাক্স কোম্পানি। বিতর্কিত এ কোম্পানির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)।

সিনারফ্লাক্স নামে এই মানবশক্তি কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশিদের নিয়ে মনোপলি ব্যবসা শুরু করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেসটিনেট বিতর্কিত হয়ে পড়ায় সিনারফ্লাকস কোম্পানির নামে এ ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে একটি নথি প্রেরণ করা হয়। যেখানে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিডাব্লিউএমএস) নামে নতুন একটি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি সিনারফ্লাক্স এসডিএন বিএইচডি নামে একটি কোম্পানির হাতে দেওয়া হয়। নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশি শ্রমিকদের বায়ো মেডিকেল চেক-আপ থেকে শুরু করে ভিসা প্রসেসিং, পাসপোর্ট তৈরি এবং নবায়নের বিষয়গুলো পর্যন্ত সিনারফ্লাক্স দেখভাল করবে। শ্রমিকদের নিয়োগ এবং নিবন্ধনের বিষয়টিও থাকবে এই কোম্পানির হাতে। বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ শ্রমিকদের দেশে ফেরত আনার কাজটি কাগজে কলমে করছে বেসটিনেট। তবে আদতে ইমিগ্রেশন বুথ থেকে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বাড়তি এক হাজার রিঙ্গিত নেওয়া ছাড়া কিছুই করছে না কোম্পানিটি। এক্ষেত্রে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনও অনেকটা অসহায় বলে জানিয়েছে সূত্র।

বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মালয়েশিয়ার বিষয়টি দেখতো বেসটিনেট। কিন্তু এবার ঢাকায় মালয়েশিয়ার দূতাবাসেও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে সিনারফ্লাক্স। এর ফলে বাংলাদেশিদের হাতে থাকবে না শ্রমিক নিয়োগ এবং শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। সিনারফ্লাক্সের এ অপকর্মের পেছনে পুরনো কোম্পানি বেসটিনেটকেই ইঙ্গিত করছে একটি সূত্র। আর এর মূলে রয়েছেন আমিনুর রশিদ নামে একজন বাংলাদেশি, যিনি বেসটিনেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বেসরকারি এই আইটি কোম্পানিটির একজন পরিচালক হচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রী আজমী খালিদ এবং শ্রম বিভাগের সাবেক পরিচালক দাতুক টেংকু ওমর টেংকু বট।

এ দিকে মালয়েশিয়ায় পুনরায় শ্রমবাজার খুলতে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি হাইকমিশনারের নেতৃত্বে দেশটির মানবসম্পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের বন্ধ শ্রমবাজার খুলে দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এখন অনলাইন ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম চলছে। অতি শীঘ্রই দেশটি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনা শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে হাই কমিশনার মো: শহিদুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, সম্ভাবনাময় এ বাজারটি যাতে চালু না হয় এ নিয়ে একটি মহল চক্রান্ত করছে। আর এ চক্রান্তে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এ সেক্টরের অভিবাসন বিশেষজ্ঞেরা।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: শহীদুল ইসলামের সাথে শনিবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আসার বাধা দূর হয়ে গেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে হাইকমিশনে দেয়া গত মাসের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ সোর্স কান্ট্রি দেশগুলো থেকে বিদেশী শ্রমিক নিয়োগে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি তুলে নিয়েছে।

‘জি টু জি প্লাস’ এবং পুরো সিস্টেমটি অনলাইন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ১ অক্টোবর থেকেই শ্রমিক আসুক। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিক আসতে শুরু করবে। এক প্রশ্নের উত্তরে হাই কমিশনার বলেন, আমাদের মার্কেটটি চালু হোক একটি কু চক্রী মহল চাচ্ছে না। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকার কথা জানান তিনি।

এ দিকে দীর্ঘ দিন থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়ার কথা শোনা গেলেও বায়রার একটি গ্রুপ সেটিতে বাধ সাধে। যার কারণে আজ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন বায়রার নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্টরা। অতীতে বিভিন্ন কেলেঙ্কারির কারণে মালয়েশিয়া সরকার নানা অভিযোগে তারা শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়। এখন থেকে এই সম্ভাবনাময় বাজারটি মনিটরিং না করতে পারলে যেকোনো সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মালয়েশিয়ায় ব্যবসা সবাই করতে পারবে। এর জন্য ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছে মালয়েশিয়ায়। তারা যাকে ইচ্ছে তাকে কাজ দেবে তাতে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার কোন পদ্ধতিতে খুলছে, কিভাবে শ্রমিক যাবে, অভিবাসন ব্যয় কত হবে সেটি এখন দেখার বিষয়। তাই এখনই আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছি না। তারা বলেন, খুশির খবর হলো মালয়েশিয়া সরকার আবার বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। এটা আমাদের সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। একই সাথে সবাই যাতে ব্যবসা করতে পারেন সেটিও মন্ত্রণালয়কে নিশ্চিত করতে হবে। তা নাহলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের দ্বার উন্মুক্ত নিয়ে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে অনেকের ধারনা।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে ‘জি টু জি’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। সে অনুযায়ী শুধু সরকারিভাবে মালয়েশিয়ার ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে শ্রমিক পাঠানো হয়েছিল। ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে কাজ করতে আগ্রহীর সংখ্যা কম হওয়ায় ওই উদ্যোগে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। পরে মালয়েশিয়ার জনশক্তির জন্য বাংলাদেশ ‘সোর্স কান্ট্রির’ তালিকায় এলে সেবা, উৎপাদন, নির্মাণসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মালয়েশিয়া সরকার তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে রাজি হওয়ার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: