সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গ্যাসের দাম বাড়ছে দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা

157572_186-550x330নিউজ ডেস্ক : লাভজনক গ্যাস খাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ বাড়ছে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। শিগগিরই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। বিইআরসির এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এ দিকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, শিল্পে ব্যবহার করা গ্যাসের (ক্যাপটিভ) দর বৃদ্ধির প্রস্তাবের পর অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের ল্েয বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। এ পরিস্থিতিতে দাম বৃদ্ধি করা হলে লাভজনক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবে। লোকসান গুনতে হবে অনেককেই। তাদের মতে, গ্যাস খাতের সব কোম্পানি লাভজনক। এর পরও দাম বাড়ানো কতটুকু যুক্তিসঙ্গত হবে তা ভেবে দেখা দরকার।

জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর পেট্রোবাংলার নিয়ন্ত্রণাধীন ৫টি বিতরণ কোম্পানি আলাদাভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে বিইআরসির কাছে। বর্তমানে আবাসিক খাতে দুই চুলার বিল ৪৫০ টাকা। তা সর্বোচ্চ ১২২ দশমিক ২২ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়। ৪০০ টাকার এক চুলার বিল বাড়িয়ে ৮৫০ টাকার প্রস্তাব করা হয়। আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে যারা মিটার ব্যবহার করেন, তাদেরেে ত্র প্রতি ইউনিট (হাজার ঘনফুট) গ্যাসের দাম বর্তমানে ১৪৬ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় ক্যাপটিভ পাওয়ারে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম। প্রতি ইউনিট ১১৮ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৪০ টাকা করার কথা বলা হয়।

গ্যাসের এ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গত আগস্টে সিরিজ গণশুনানি করে বিইআরসি। সিরিজ গণশুনানি শেষে তা বিশ্লেষণ করছে বিইআরসি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিতরণ কোম্পানিগুলো যে প্রস্তাব করেছে সে অনুযায়ী না বাড়লেও গ্যাসের দাম যে বাড়ছে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

লাভজনক গ্যাস খাতে দাম বাড়ানো কতটুকু যুক্তিসঙ্গত : পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সর্বশেষ গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল ২০০৯ সালে। এরপর থেকে গ্যাস ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভর্তুকি দিতে হয় না। লোকসানেও নেই পেট্রোবাংলা। বরং প্রতিবছরই রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করছে পেট্রোবাংলা। গত ৫ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯-১০ অর্থবছরে পেট্রোবাংলা দেশী-বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে গ্যাস কিনেছিল ৪ হাজার ৬৩১ কোটি টাকায় আর বিক্রি করেছিল ৮ হাজার ৮০৫ কোটি টাকায়। ওই বছরে লাভ করেছিল ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। অনুরূপভাবে পরের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১০-১১ অর্থবছরে পেট্রোবাংলা মুনাফা করেছিল ৪ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে মুনাফা করেছিল ৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মুনাফা করেছিল ৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গ্যাস খাতে কোনো লোকসান নেই। শুধু তাই নয়, গ্যাস উত্তোলন, পরিবহন ও সরবরাহ কাজে যেসব কোম্পানি আছে তারা সবাই লাভ করছে। বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে যে বেশি দামে গ্যাস কেনা হচ্ছে তাও নিজস্ব তহবিল থেকে শোধ করছে পেট্রোবাংলা। কিন্তু এর পরেও কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে তা ভোক্তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, সরকারি পেস্কেল ঘোষণার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর ৭৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করেছে মন্ত্রণালয়। আগেই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বেতন পেত। এর উপর প্রফিট বোনাস হিসেবে বাড়তি অর্থ আয় করেন তারা। এখন বেতন বৃদ্ধির ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন তা ভোক্তার পকেট থেকে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির নজির নেই।

দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা : কোম্পানিগুলোর মুনাফার জন্য গ্যাসের মূল্য বাড়ানো কতটুকু যৌক্তিক তার পক্ষে-বিপক্ষে নানা বক্তব্য থাকলেও এ মুহূর্তে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য শাখের করাতের মতো অবস্থা হবে তা অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য থেকে। তাদের মতে, এমনিতেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পার করছেন তারা। উচ্চ করের বোঝা, অবকাঠামো সুবিধার অভাব, টাকা ডলারের বিনিময় মূল্যে স্থবিরতা, সর্বোপরি চলমান পরিস্থিতি কোনোটাই ব্যবসাবাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক নয়। এর ওপর মাত্র এক বছরের মাথায় গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে ব্যবসাবাণিজ্যের চাকা হাজারো চেষ্টা করেও আর সচল রাখা যাবে না। আপনা-আপনিই বন্ধ হয়ে যাবে।

শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসভিত্তিক শিল্পে গ্যাসের দর বাড়ানোরেে ত্র সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা থাকা উচিত। এটি নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নেয়া সহজ হয়। তাদের বক্তব্য গ্যাসভিত্তিক কিছু শিল্পের জন্য প্রস্তাবিত মূল্য কার্যকর হলে তা হবে অস্বাভাবিক। এক বছরের মাথায় ত্রেবিশেষে তা ৪৬১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বস্ত্র খাতের অনেক শিল্পই টিকে থাকতে পারবে না। এর বিরূপ প্রভাব পড়বে গার্মেন্ট শিল্পের ওপরও। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, শিল্পে ব্যবহার করা গ্যাসের (ক্যাপটিভ) অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির প্রস্তাবের পর অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের ল্েয বড় অংকের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। তাদের মতে অনেক উদ্যোক্তা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ অর্থাৎ ক্যাপটিভ পাওয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত দর বৃদ্ধি কার্যকর হলে অনেকের জন্য সুতা কিংবা বস্ত্র উৎপাদন লাভজনক হবে না বরং লোকসান গুনতে হবে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, গ্যাসচালিত ক্যাপটিভ জেনারেটর দিয়ে স্পিনিং মিলে উৎপাদনেরেে ত্র প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়ে ৪ টাকা ২০ পয়সা। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর হলে দাম পড়বে সাড়ে ৯ টাকার বেশি। এতে প্রতি কেজি সুতার দাম ৪০ থেকে ৫০ সেন্ট বেড়ে যাবে।

শিল্প কারখানায় নীরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা ক্যাপটিভ পাওয়ারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালাচ্ছিলেন। কিন্তু ৭ মাসের মাথায় দ্বিতীয় দফায় ক্যাপটিভে গ্যাসের দাম ১৩০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের শামিল বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

করের বোঝা কমিয়ে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি থামানো যায় : জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্যাস খাত থেকে সরকার করের বোঝা কমালে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। কারণ, এ খাত থেকে সরকার বিভিন্ন নানা নামে ৮১ শতাংশ কর নিচ্ছে। এ কর হার কমালে গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে না। প্রসঙ্গত, গ্যাস বিক্রি থেকে সরকার যেসব নামে শুল্ক ও কর নিচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে সম্পূরক শুল্ক ৪০ শতাংশ। মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ১৫ শতাংশ। অগ্রিম আয়কর ৩ শতাংশ। গ্যাস বিক্রি থেকে কোম্পানিগুলোর মুনাফার ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ট, যা মোট রাজস্বের ২ শতাংশ। গ্যাসের ওপর যে সম্পদমূল্য আরোপ করা হয়েছে, তা থেকে ১৬ শতাংশ এবং গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) থেকে প্রায় ৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কোনো খাতে সরকার নিরুৎসাহিত করতে চাইলে ওই পণ্য বা খাতের ওপর সরকার সম্পূরক শুল্ক আরোপ করে থাকে। গ্যাস সেক্টর তো একটি অপরিহার্য খাত। তাই সরকার যদি ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক না নেয়, তাহলেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর দরকার হয় না।

নয়া দিগন্ত থেকে নেয়া

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: