সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুই দিনে ৩৩,০০০ ইহুদিকে হত্যা করা হয় এখানে

154836_1নিউজ ডেস্ক: জায়গাটির নাম ‘বাবিন ইয়ার’। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে অবস্থিত এই জায়গায় মাত্র দুই দিনে ৩৩,৭৭১ জন ইহুদিকে গুলি করে হত্যা করে নাৎসি বাহিনী ও এসএস কমান্ডোরা।

১৯৪১ সালে জার্মানির নাৎসি নেতা আডল্ফ হিটলারের নেতৃত্বাধীন বাহিনী যোসেফ স্টালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল শুরুর কয়েক সপ্তাহ পর এই গণহত্যা ঘটে।

২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর- এই দুইদিন ধরে হত্যাযজ্ঞ চালায় জার্মান নাৎসিরা। প্রথমে কিয়েভে বসবাসরত সব ইহুদিকে বাবিন ইয়ারে যেতে বলা হয়। তারপর সেখানে তাদের নগ্ন হতে বলা হয়। তারপর গুলি করে হত্যা করা হয়। সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচতে সমর্থ হন মাত্র ২৯ জন।

চলতি বছর ওই নৃশংস গণহত্যার ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক।

তিনি বলেন, ‘বাবিন ইয়ারে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের প্রথমে নগ্ন হতে বলা হয়েছে। এরপর গুলি করে গর্তে ফেলে দেয়া হয়। নাৎসি বাহিনী এই একই ‘ভয়াবহ আতঙ্কের দৃশ্য’ রচনা করে পরবর্তীতে সিনটি, রোমা, সোভিয়েত যুদ্ধবন্দি, ইউক্রেনীয় এবং শারীরিকভাবে অসুস্থদেরও হত্যা করে। হত্যাযজ্ঞ চলে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত।’

সব মিলিয়ে বাবিন ইয়ারে প্রায় এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করে নাৎসি বাহিনী।

ইতিহাস অজানা ছিল

অনুষ্ঠানে কিয়েভের বর্তমান মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত ইউক্রেনের অনেকেই বাবিন ইয়ার সম্পর্কে জানতো না। ‘সোভিয়েত প্রচারণা’র কারণেই সেটি সম্ভব হয়নি বলে জার্মান ম্যাগাজিন ‘ফোকুস’কে জানিয়েছেন তিনি৷

ক্লিচকো বলেন, ১৯৭৬ সালে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও সেখানে যে ইহুদিদের হত্যা করা হয়েছিল, তা উল্লেখ না করে তাদের ‘সোভিয়েত নাগরিক’ বলা হয়েছিল৷ ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিয়েভের ইহুদিরা সেখানে নতুন একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেন।

ইউক্রেন স্বাধীন হওয়ার পর মূলত বাবিন ইয়ারে নিহতদের নিয়মিত স্মরণ করা হচ্ছে। নৃশংসতার ৬৫ ও ৭০ তম বার্ষিকী বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়েছিল। আর এবার ৭৫তম বার্ষিকীতে জার্মানিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও যোগ দিয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো বার্লিনে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

নাৎসি বাহিনীর নৃশংসতা সেদিন স্বচক্ষে দেখেছিলেন ভাসিলি মিখাইলোভস্কি।

সেদিনের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘নানি আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। গিয়ে দেখলাম মানুষ আর মানুষ। নাৎসি বাহিনীর সদস্যরা মানুষকে মারছিল, রাইফেলের বাট দিয়ে গুঁতোচ্ছিল। মানুষদের গরুর মতো করে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তারা। বাবিন ইয়ারে যাওয়ার রাস্তাটি যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানেই হত্যাযজ্ঞ চলছিল। আমরা যারা তখনো শেষপ্রান্তে পৌঁছতে পারিনি, তারা কান্না আর চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে সেসব শব্দ ঢাকার জন্য আকাশে খুব নীচু দিয়ে বিমান উড়ছিল। আর দূরে কোথাও গান বাজছিল।’

সূত্র: ডয়চে ভেলে

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: