সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের পূজোর একাল- সেকাল

1-daily-sylhet-0-8জীবন পাল::সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে শারদীয় দূর্গাপুজা। যা শরৎকালে উদযাপিত হয়ে থাকে। মহা সাড়ম্বরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শরৎকালে উদযাপন করে থাকেন এই শারদীয় দূগাপুজা। এক কথায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহোৎসব এটি। শরৎ আসার সাথে সাথে চারপাশ সেজে উঠে এই মহোৎসবের আমেজে। আর প্রকৃতির এই সাজসাজ আমেজের সাথে পাল্লা দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ এলাকার মন্ডপগুলোকে সাজিয়ে তুলতে থাকেন নিত্য-নতুন সাজে। এ যেন মহোৎসব পালনের তুমুল প্রতিযোগিতা।বর্তমানে যে প্রতিযোগিতা চলে প্রায় সকল মন্ডপে মন্ডপে। তবে এখনকার দিনের দূর্গাপুজো আর আগেকার দিনের দূর্গাপুজোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে আকাশ-পাতাল। সিলেটের মন্ডপ ঘুরে সে তথ্যই পাওয়া গেল আগেকার দিনের সেই সব প্রবীণদের কাছ থেকে।

প্রবীণদের মতে, সিলেট নগরীতে সবচেয়ে পুরনো পুজা মন্ডপ হচ্ছে নগরীর দাড়িয়াপাড়ার চৈতালী সংঘ আয়োজিত দুর্গাপুজা। যারা এখনো তাদের সেই আয়োজন যথারীতি করে যাচ্ছেন। দাড়িয়াপাড়ার শংকর পাল জানান, এখন যেভাবে পাড়ায় পাড়ায় মন্ডপ বানিয়ে শারদীয় দুর্গাপুজা করা হয়, আগে সেরকম হতনা।

তিনি জানান, আগে সিলেটে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটা পুজা হতো। যার মধ্যে, দাড়িয়াপাড়ার চৈতালী সংঘ, জল্লারপাড়ের সত্তম সংঘ, সাধুর বাড়ি, সুবীর বাবুর বাসা, রাখেশ বাবুর বাসা ও কালিঘাটের ব্যবসায়ীর বাসা ছিল উল্লেখ্যযোগ্য। এক কথায় আগেকার দিনে শারদীয় দুর্গাপুজার আয়োজন করতো সিলেটের অভিজাত পরিবারগুলো। সেই সব পুজো দেখার জন্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভীড় করতো। সেই ভীড়ে ধর্ম-বর্ণের কোন ভেদাভেদ থাকতোনা।

৪০ বয়সী এই ব্যক্তি আগের দিনের পুজোর স্মৃতিচারন করে বললেন, আগের দিনের পুজোটা ছিল একজনের আনন্দে আনন্দিত হওয়া। পুজোর সময় আনন্দটাই ছিল মূখ্য বিষয়। কিন্তু এখনকার দিনে পুজাটা হয়ে গেছে এক ধরনের ফ্যাশন। পুজোর আয়োজন করে নিজের এলাকা বা সংঘঠনের নাম ভাঙ্গানোটা যেন মূখ্য হয়ে দাড়িয়েছে।

তিনি নিজের অভিজ্ঞতার পাতা থেকে জানালেন, আগেকার দিনে নিরাপত্তা জিনিসটা যে কি তা তেমন একটা পরিচিত ছিলনা বললেই চলে। নিরাপত্তা বলতে আগেকার দিনে নিজ নিজ পাড়ার ছেলেরা শৃঙ্খলা বজায়ের কাজে নিয়োজিত থাকতো। যাদেরকে সেচ্ছাসেবক হিসেবে বলা হত। তখনকার দিনে পুলিশ রানিং মানে বিশাল ব্যাপার। কেননা, তখনকার দিনের মানুষের মনমানসিকতাটাই ছিল অন্য রকম। ধর্মবর্ণের মিলনমেলা যে কি, তা দেখা যেত তখন। আর এখনকার দিনে তো উৎসব মানেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। পুলিশি টহল বৃদ্ধি। প্রশাসনের নজরদারী বৃদ্ধি। আরো কত কি।

তাছাড়া এখনের উৎসবের আমেজটা যেন মার্কেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। কে কত দামের, কোন ডিজাইনের পোশাক কিনলো এটাতেই যেন আনন্দ। তাছাড়া, কোন পাড়ায় কত টাকার বাজেটে পুজা হচ্ছে, কার মন্ডপের অনুষ্ঠানের আয়োজন বড় এটাই যেন এখনের মূখ্য বিষয় হয়ে গেছে।

সবকিছু মিলিয়ে আগের দিনের পুজোর সাথে এখনের পুজোর আকাশ পাতাল তফাৎরয়েছে। শুধু পুজোর মধ্যেই যে তফাৎ তা কিন্তু নয়। এখনকার মানুষের, আয়োজকদের মনমানসিকতার মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। হয়তো সেই দিন আর ফিরে আসবেনা, তবে সেই মনমানসিকতাটা যেন ফিরে আসুক। তাহলেই পুজোর আনন্দটা তার প্রকৃত ধারায় ফিরে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতির অবসান হবে। শারদীয় দূর্গোৎসবের প্রতিটি মন্ডপের প্রতিটি দিন ধর্মবর্ণের মিলনমেলায় পরিনত হউক, এটাই কামনা আগেকার দিনের
সেই সব প্রবীণদের ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: