সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রসঙ্গ : ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক

73-1কমল সরকার ::

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর পাক-ভারত উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ভারতের পক্ষ থেকে এ হামলায় পাকিস্তানের একটি জঙ্গিগোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। তাদের মতে, পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদীরা ভারতে হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই হামলার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান আক্রমণের জন্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। পাকিস্তান বলেছে, হামলা হলে সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।

জাতিসংঘে দেশ দুটির মধ্যে কাশ্মীর ও জঙ্গি হামলা নিয়ে বাগযুদ্ধও হয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, পাকিস্তান নিজেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকার। ভারত কাউকে তোয়াক্কা না করে অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলছে। কাশ্মীরে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ভারত। অন্যদিকে, জাতিসংঘে ভারত প্রকাশ্যেই পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে পাকিস্তান ‘যুদ্ধাপরাধ’ করছে। এভাবে কাশ্মির ইস্যুতে পাক-ভারত উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আশংকা করা হচ্ছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটি যে কোনো মুহূর্তে ব্যাপক ধংসাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ছয় দশকে তিনটি বড় ধরনের যুদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া ছোটখাটো সংঘর্ষ প্রতিনিয়তই হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছে। সে হিসেবে ভারত-পাকিস্তান এ পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধের পর ও ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়েছে তারা। তবে প্রতিবারের যুদ্ধই হারজিতের পরিবর্তে সমঝোতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এখন চিরবৈরী দুই দেশের মধ্যে ফের কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় আশংকা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শক্তিধর দেশ দুটি যদি অবিবেচনা প্রসূত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার পরিণতি কী হবে। সহজ হিসেবটি হচ্ছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেশ দুটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আশপাশের দেশগুলোতেও বিস্তৃৃত হবে ধ্বংসযজ্ঞ। যুদ্ধের সূচনা হলে তা সহজেই পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হবে কল্পনাতীত।

যুদ্ধ বাঁধলে কোনো পক্ষই জিতবে না, কিন্তু ব্যাপক ক্ষতির শিকার হবে। তাই সব বিবেচনায় সর্বাত্মক যুদ্ধে না জড়ানোর ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত দু’দেশের নীতিনির্ধারকদের। দেশ দুটিকে শান্ত ও স্থির হতে হবে, যুদ্ধপরিস্থিতি এড়াতে সংযমী হতে হবে। পরস্পরের প্রতি দোষারোপের তীর না ছুঁড়ে আলাপ-আলোচনার টেবিলে বসে সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে উভয় দেশকেই পালন করতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, ‘সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার গন্তব্য হতে পারে না। পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে শান্তি চায়।’ উত্তেজনার মধ্যেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কূটনীতির ওপরই নির্ভর করছেন বলে জানা গেছে। প্রতিশোধ গ্রহণে তিনি অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে কূটনীতির ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি আশা জাগানিয়া সংবাদ। আমরা আশা করবো, পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব শুভবোধের পরিচয় দিয়ে যুদ্ধ নয়, শান্তির পথেই হাঁটবেন; সব ধরনের উস্কানি এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা চালাবেন।

লেখক : সংবাদ কর্মী

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: