সর্বশেষ আপডেট : ৩৫ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফাহাদের লালকার্ডেই সর্বনাশ আবাহনীর : মোহামেডানের বিপক্ষে শেখ রাসেলের জয়

14435053_1743101005910485_6237471761544185685_oমোস্তাফিজ রোমান ::
সিলেট থেকে জয় নিয়ে ফেরা হলো না আবাহনীর। ঠিক আগের ম্যাচেই শেখ রাসেলের সঙ্গে ড্র করেছিল। কাল লীগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের সঙ্গে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ড্র করেছে ৩-৩ গোলে। দিনের অন্য ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানকে ১-০ গোলে হারিয়ে লীগে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে শেখ রাসেল।

শেখ জামাল ধানমন্ডি এবং ঢাকার জায়ান্ট আবাহনী শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে। সেবার ৬-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে শেখ জামালকে হারিয়ে স্বাধীনতার কাপের ফাইনালে উঠেছিল ঢাকা আবাহনী। তারও আগে ২০১০ সালের ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে শেখ জামাল কে হারিয়েছিল আবাহনী। প্রিমিয়ার লীগে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠার সাথে শেখ জামালের বিপক্ষে জয় ধরে রাখা লক্ষে আবাহনী এবং প্রতিশোধের পাশাপাশি লীগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানটা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামে শেখ জামাল। খেলার প্রথমার্ধেই লীগ সেরার তালিকায় থাকা ওয়েডসন এগিয়ে নিতে পারতেন শেখ জামালকে। তবে আবাহনীর গোলরক্ষক সুলতান তার পথের বাধা হয়ে পড়েন। পাল্টা আক্রমণে আবাহনীর হেমন্ত ভিনসেন্ট আর নাইজেরিয়ান সানডের দুর্বল শট শেখ জামালের গোলরক্ষক সহজেই তালুবন্দি করেন। খেলার ২৩ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ঢাকা আবাহনী। জুয়েল রানার শট থেকে তপুর হেড শেখ জামালের গোলরক্ষক মাকসুদুর রক্ষা করেন। অতিরিক্ত গরমের কারনে প্রথামার্ধে ৫ মিনিটের কুলিং ব্রেক দেওয়া হয়। ব্রেক শেষ হওয়ার পর খেলার ৪২ মিনিটে আবাহনীর ঘরে আক্রমণ চালায় লিগের শীর্ষে থাকা শেখ জামাল। প্রিমিয়ার লিগের ১৩৪ নম্বর আর নিজের ৮ম গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসেন ওয়েডসন। আবাহনীর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে শেখ জামালকে এগিয়ে নেন ওয়েডসন। গোল পরিশোধে শেষসময়ে বেশ কয়েকটি আক্রমন চালায় আবাহনী। অতিরিক্ত ৬ মিনিটের সুযোগ কাজে লাগায় ঢাকার জায়ান্টরা। অতিরিক্ত সময়ে ইমনের কর্নার থেকে ম্যাচে লালকার্ড পাওয়া ফাহাদ দলকে সমতায় ফেরান। ১-১ গোলে সমতায় খেলার শেষ সময়ে আবারো আক্রমণে আবাহনী। অতিরিক্ত সময়ের ৪ মিনিটে অবাহনীর হেমন্ত ভিনসেন্টের শট শেখ জামালের লিংকন হাত দিয়ে আটকিয়ে দেন। এর ফলে পেনাল্টি পায় আবাহনী। আবাহনীর ইংল্যান্ডে খেলোয়াড় লি টাকের জামালের গোলরক্ষক মাকসুদুর আটকে দেন। তবে পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারলেও পরের আক্রমণে লি টাক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। ২-১ এগিয়ে থেকে প্রথামার্ধ শেষ করে আকাশি নীলরা।

দ্বিতীয়ার্ধে দুদলের আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা বাড়ে খেলায়। খেলার ৩ মিনিটেইে আবাহনীর প্রথম গোলদাতা ফাহাদ ও শরীফ মাঠের মধ্যে বিতর্ক শুরু করেন। দুজন একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু করেন। রেফারি দুজনকেই হলুদ কার্ড দেন। কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে ফাহাদ রেফারির উদ্দেশে বাজে কথা বলায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান। দশজনের দলে পরিণত হয়েও আক্রমণে যায় আবাহনী। লাল কার্ড পাওয়া ফাহাদ ডেসিং রুমে যেতে না যেতেই ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। আবাহনীর জয়েল রানার ক্রস থেকে নিজের ৫ম গোল করে দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সানডে। ৩-১ পিছিয়ে খেলার ১১ মিনিটে আবাহনীর দুর্গে আঘাত হানে শেখ জামাল। ডান প্রান্ত থেকে ওয়াডসনের পাস থেকে গোল করে দলের ব্যবধান কমান ল্যাডিং। ২-৩ গোলে পিছিয়ে খেলার ৩১ মিনিটে ল্যাডিয়ের পাস থেকে খেলায় নিজের ২য় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ওয়াডসন। ৩-৩ গোলের সমতায় শেষ দিকে দুদলই বেশ কয়েকবার আক্রমণে যায় । কিন্তু গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই । এর ফলে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় শেখ জামাল এবং আবাহনীকে। এ ড্রয়ের ফলে লিগের পয়েন্ট টেবিলে রহমতগঞ্জকে টপকে দি¦তীয় স্থানে আবাহনী আর নিজেদের শীর্ষস্থানটা ধরে রাখলো শেখ জামাল ধানমন্ডি।

দিনের দ্বিতীয় খেলায় ৮ ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল লিগের সবচেয়ে বড় বাজেটের দল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। আর লিগের জয়টা অধরায় থাকল ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল সাদা কালো শিবিরের। খেলার ২৯ মিনিটে শেখ রাসেলের ডি বক্সের ভেতরে গোলের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন মোহামেডানের অধিনায়ক। দলীয় ইয়াইয়া সাইয়ের ডান প্রান্ত থেকে নেয়া শর্ট শেখ রাসেলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বাবলুর কাছে থেকে ফিরে মোহামেডানের অধিনায়ক সবুজের কাছে আসে। কিন্তু তার শর্টটি শেখ রাসেলের গোলপোস্ট থেকে ফিরে আসলে কপাল পুড়ে মোহামেডানের। এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা না পাওয়া মোহামেডানের জয়টা অধরায় থাকল। খেলার ৩৭ মিনিটের আবারো এগিয়ে যাওয়া সুযোগ পায় সাদা-কালোরা। কিন্ত স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় গোল থেকে বঞ্চিত হয় তারা। খেলার ১৯ ও৩১ মিনিটে আক্রমণে গিয়েছিল শেখ রাসেল। তবে মোহামেডানের ডি-বক্সেও সামনে গিয়ে থামে তাদেও আক্রমণ। প্রথমার্ধ গোল না পাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে দু দল। খেলার ৬ মিনিটের মাথায় ডি-বক্সের সম্মুখ থেকে শেখ রাসেলের রাজুর ফ্রি-কিকে মাথা বাড়িয়ে দিয়ে সিলেটের মাঠে লিগের প্রথম জয় সূচক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ক্যামেরুনের পল এ্যামিলি। গোল পরিশোধের জন্য বেশ কয়েকবার মোহামেডান আক্রমণে গেলেও স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় গোলের দেখা পায়নি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: