সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পর্যটকদের কাছে টানছে ভোলাগঞ্জের মায়াবী রূপ

1-daily-sylhet-0-1কোম্পানীগঞ্জ সংবাদদাতা: ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, স্বচ্ছ জলরাশি, সবুজ পাহাড় ও নির্জনতা কাছে টানছে পর্যটকদের। দিন দিন বাড়ছে এখানে পর্যটকের সংখ্যা। পর্যটকরাও মুগ্ধ, ভোলাগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে। সীমান্তে হাঁটুপানির নদীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথর, দেখলে মনে হবে যেন ছবির মত সুন্দর। মুখ থেকে বেরিয়ে আসবে একটিই শব্দ ‘অসাধারণ’। দুরের পাহাড়গুলোর উপর মেঘের ছড়াছড়ি, সাথে একটা দুটো ঝর্না। নদীর টলমলে হাটু পানির তলায় বালুর গালিচা। চিকমিক বালু আর ছোট বড় পাথর মিলে এখানে যেন তৈরি হয়েছে পাথরের রাজ্য। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে কিংবা ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি-অবসাদ দূর করতে অনেকেই এখন ছুটছেন ভোলাগঞ্জে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসছেন ভোলাগঞ্জে। অন্যদের কাছে শুনে অথবা ফেসবুকে ছবি দেখে বেশিরভাগ পর্যটক এখানে আসেন। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র ফাহিম জানান, ইউনিভার্সিটির বড় ভাইদের কাছে শুনে তিনি এসেছেন। এর আগে কয়েকবার জাফলং ঘুরে গেলেও এই প্রথম ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য তাকে বিমোহিত করেছে বলে জানালেন ফাহিম।

022-600x360অপরদিকে, সুনামগঞ্জের ভ্রমন পিয়াসী তাজুল, নাহিন, আফজল ও সজিব এসেছে ফেসবুকে ছবি দেখে। তাদের ধারণা মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলে এখানে পর্যটকদের ঢল নামবে। স্থানীয় অটোচালক রুবেল মিয়া বলেন, ভোলাগঞ্জ মানুষকে আনন্দ দিতে পারে বলে তারা খুশি। তবে, ভোলাগঞ্জের যাতায়াত সুবিধা নিয়ে অনুযোগ আছে পর্যটকদের। এই সমস্যা দূর হলে এলাকাটিতে বেড়ানো আরো উপভোগ্য হবে বলে মনে করেন তারা।

ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তোলনের দৃশ্য পর্যটকরা বেশ উপভোগ করেন। জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বন্যার তোড়ে নদী ও ছড়া দিয়ে প্রচুর পাথর ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে জমা হয়। যা সারা বছর উত্তোলন করে থাকেন শ্রমিকরা। ভোলাগঞ্জের এই পাথুরে রাজ্য চমৎকার। শুষ্ক মওসুমে প্রধানত গর্ত খূঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হয়। এ পদ্ধতিতে শ্রমিকরা প্রথমে কোয়ারীর ওপরের বালি অপসারণ করে। পর্যায়ক্রমে গর্ত খুঁড়ে নিচের দিকে যেতে থাকে। ৭/৮ ফুট নিচু গর্ত খোড়ার পর কোয়ারিতে পানি উঠে যায়।

এসময় শ্যালো মেশিন দিয়ে কোয়ারীর পানি অপসারণ করে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলন করে। এর বাইরে শিবের নৌকা পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা হয়। এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের উপায় হচ্ছে একটি খালি নৌকায় শ্যালো মেশিনের ইঞ্জিন লাগানো হয়। ইঞ্জিনের পাখা পানির নীচে ঘুরতে থাকে। পাখা অনবরত ঘুরতে ঘুরতে মাটি নরম হয়ে পাথর বেরোতে থাকে। এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও খুব উপভোগ্য।

01-2-600x338ভোলাগঞ্জের আর একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হলো ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে। পাথর কোয়ারী, পাহাড়ী মনোলোভা দৃশ্য অবলোকনের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকা ঘুরে দেখতে প্রতিদিনই আগমন ঘটে পর্যটকদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬৪ সালে সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্প। বৃটিশ রোপওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সোয়া ১১ মাইল দীর্ঘ রোপওয়ের জন্য নির্মাণ করা হয় ১২০টি টাওয়ার এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্ট। মধ্যখানে চারটি সাব স্টেশন। এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্টের সাহায্যে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাথর উত্তোলন করা হয়। তবে বর্তমানে এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব ও বিকল ইঞ্জিনের কারণে এক্সক্যাভেশন মেশিন বন্ধ রয়েছে। আগে উত্তোলিত পাথর ভাঙ্গা, ধোয়া ও টুকরোর আকার অনুসারে বালু, স্টোন চিপস ও ট্রাক ব্যালাস্ট ইত্যাদি শ্রেণীতে ভাগ করা হতো। শ্রেণী অনুসারে সেগুলো পৃথক পৃথকভাবে বের হয়ে রোপওয়েতে ঝুলানো চারকোনা বিশিষ্ট ষ্টীলের বাকেটে জমা হতো। পাথর ভর্তি বাকেট পাঠানো হতো ছাতকে।

মজার ব্যাপার হলো, এলাকাটি দেখতে অনেকটা ব-দ্বীপের মতো। ধলাই নদী বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে প্ল্যান্টের চারপাশ ঘুরে আবার একীভূত হয়েছে। রোপওয়ের এরিয়া প্রায় একশ’ একর। আর এ কারণেই স্থানটি পর্যটকদের কাছে এত আকর্ষণীয়।

এদিকে, পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ভারতের পাহাড়ী রাজ্য মেঘালয়ে। ধলাই নদীর উজানে এ রাজ্যের অবস্থান। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় ঘেরা এ রাজ্যের দৃশ্য বড়ই মনোরম। ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় অবস্থান করে পাহাড় টিলার মনোরম দৃশ্যাবলি অবলোকন করা যায়। স্থানীয়দের মতে, রোপওয়ে এলাকায় একটি ‘পয়েন্ট ভিউ’ নির্মাণ করা গেলে পর্যটকরা মুগ্ধ হয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

অন্যদিকে, ভোলাগঞ্জে রয়েছে একটি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন। এ স্টেশন দিয়ে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চলে। এ স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা প্রধানত চুনাপাথর ও কয়লা আমদানী করে থাকেন। চুনাপাথর নিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্তের জিরো লাইনে এ কাস্টমস স্টেশনের অবস্থান। চুনাপাথর আমদানির দৃশ্য অবলোকনের বিষয়টিও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।

সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, দিন যত যাচ্ছে পাল্টে যাচ্ছে ভোলাগঞ্জের মানচিত্র। দানবীয় তান্ডবে বিগড়ে যাচ্ছে প্রকৃতি। তাই এখনই সময় প্রাকৃতিক উৎসকে সম্পদে পরিণত করার কার্যকর উদ্যোগ।

স্থানীয়রা মনে করেন, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য যেসব রূপ বৈচিত্র ও বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সব ক’টিই আছে ভোলাগঞ্জে। তাদের মতে, সরকার চাইলে এখানে পর্যটন শিল্পের কাঙ্খিত বিকাশ ও প্রকাশ ঘটানো সম্ভব। তখন ভোলাগঞ্জ হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয়, দৃষ্টিনন্দন ও উৎকর্ষময়ী পর্যটন স্পট। যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: