সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজকের প্রেক্ষাপট ও বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস

01মোঃ কায়ছার আলী:: “এসেছি নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; জীর্ন পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত্যু আর ধ্বংস স্তুপ পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপনে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। অবশেষে সব কাজ সেরে আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে করে যাবো আশির্বাদ, তারপর হব ইতিহাস।” কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের এ অমিয় কবিতার পঙক্তি আবেদন আজ যেন অনেক দূর, বহুদূর, যোজন যোজন দূর। বিভিন্ন দিবস বা সামাজিক সমস্যা নিয়ে, লেখার সময় খুবই আগ্রহ পাই, মনে শক্তি পাই কিন্তু শিশুদের হত্যা সম্পর্কে লিখতে গেলে হাত চলে না। কলম মাঝে মাঝে থেমে যায়। শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্ব তথা সমাজ থেকে বিবেক, মূল্যবোধ, নীতি, মনুষ্যত্ব, মানবতা যেন আজ বিদায় নিতে চলেছে। মাতৃজঠরে কিংবা পিতৃকোলে কোথাও শিশু আজ নিরাপদ নয়। আশ্রয়ের স্থলগুলো মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। গত ২৩ শে জুলাই ২০১৫ মাগুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মা ও তার সাত মাসের পেটের শিশু গুলি বিদ্ধ হওয়ার ঘটনা শুধু দেশজুড়েই আলোচিত নয়, মানব ইতিহাসে এ নতুন পৈশাচিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে গুলি বিদ্ধ হওয়ার পর ঐ দিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাগুরা সদর হাসপাতালে সুরাইয়ার জন্মের পর মা নাজামা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। নিষ্পাপ শিশুটি পৃথিবীতে আসার আগেই জেনে গেল মানুষ কি বর্বর, অসভ্য ও অসহিষ্ণু। যতদিন বেঁচে থাকবে সুরাইয়া শরীরে গুলির দাগ নিয়ে বেঁচে থাকবে এ বাসযোগ্য পৃথিবীতে। একদিনের শিশুকে চৌদ্দ তলার ওপর থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক, সময়ের যথার্থ সন্তান, নিকোলো ম্যাকিয়াভেলীর মতে, “মানুষ প্রকৃতিগত ভাবেই লোভী, অকৃতজ্ঞ, হিংসুটে, অবিশ্বাসী, প্রতিহিংসাপরায়ণ, ধোকাবাজ, মিথ্যাবাদী, আক্রমনাতœক, স্বার্থান্বেষী, স্বার্থপর, ক্ষমতালিপ্সু ও সঞ্চয়কামী।” বর্তমানে মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটেছে যা শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও কঠিন। আজ ঘরে ও বাইরে কোথাও শিশুদের নিরাপত্তা নেই। প্রতিনিয়ত দেশের কোথাও না কোথাও অমানুষিক নির্যাতনের খড়গ নেমে আসছে ফুলের মত নিষ্পাপ শিশুদের ওপর। মনে হচ্ছে আমরা একটা খারাপ সময় অতিক্রম করছি। অনেকেই হয়তো একমত পোষণ করবেন, আমাদের বিবেক ও নৈতিকতা প্রায় বিসর্জিত। সবাই ছুটছে এ যেন ধারাবাহিক পরিক্রমা। কিন্তু এদের গন্তব্যের শেষ কোথায়? হয়তো তারাও জানে না। সমাজও রাষ্ট্রীয় জীবনে ঘুনপোকা বাসা বেঁধেছে। নৃসংশতার খেলায় মেতে উঠেছে নৈতিকতাহীন কিছু মানুষ। যদি প্রশ্ন করা হয়, বিবেক তুমি কোথায়? হয়তো উত্তরে বিবেক বলবে,“আমি এখন কফিনের দোরগোড়ায়।” সেই কফিনের পেরেকে মরীচিকা ধরেছে। আজ ২৯ সেপ্টেম্বর। বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস। শিশুরা পৃথিবীর ভবিষ্যত। প্রতিটি জাতির বা দেশের ভবিষ্যত। আজকের শিশু আগামী দিনের পরিণত মানুষ। তারাই আগামী দিনের কর্ণধার। তারাই আগামীতে বিশ্ব পরিচালনার নেতৃত্ব দেবে, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তাই জাতি গঠনের মূলভিত্তি হচ্ছে শিশু। তারা শুধু পিতা-মাতার পরম আরাধনার ধন নয়, প্রকৃতপক্ষে তারা রাষ্ট্রের সম্পদ বা শ্রেষ্ট বিনিযোগ। শিশুদের সুষ্ঠভাবে লালন-পালনের ওপর পৃথিবীর ভবিষ্যত নির্ভর করছে। শিশুরা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কাছে বা বড়দের তুলনায় অবস্থানগত কারণে বড় অসহায়। তাই তাদের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য বড়দের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিশু অধিকারের জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব বিবেকের মনোযোগ আকৃষ্ট হয়। ১৯২৪ সালে লীগ অব নেশনস ঘোষনা করেছিল মানব জাতির সর্বোত্তম যা কিছু দেয়ার আছে কেবল মাত্র শিশুরই তা পাওয়ার যোগ্য। এ ধারণাকে জনগণের মধ্যে নিবিড়ভাবে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৯ সালে ২০শে নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শিশু অধিকার সনদ নামক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বা কনভেনশন গৃহীত হয়। এ সনদ ১৯৯০ সালের ২রা সেপ্টেম্বব হতে কার্যকর হয়। প্রথমে এ সনদে ২২টি দেশ স্বাক্ষর করে। তন্মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। ১৯৯০ সালের ৩রা আগস্ট বাংলাদেশ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষর করে । শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং তাদের অধিকারের কার্যকর বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করা বিশ্ব শিশু অধিকার দিবসের উদ্দেশ্য। সুতরাং তাদের অধিকার পরিপূর্ণভাবে লালন করা না হলে অধিকার হরণকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দিবসটি এটাই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে দুঃস্থ, এতিম, আশ্রয়হীন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সকল শিশুর কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য শিশু আইন প্রনয়ণ করে । মধ্যযুগীয় বর্বরতায় শিশু হত্যার কথা ইতিহাসে লেখা আছে। যুগে যুগে আরও অতীতে , ফিরে গেলে দেখা যায় দাস যুগে শিশুদের বিক্রি, নির্যাতন, এমনকি বলি দেওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে কন্যা শিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার ঘটনাও আমরা জানি। আমীর”ল ইসলামের লেখা “বিচার নেই” গল্পটিতে জানা যায় কোন এক দেশের বাদশাহর অসুখ। রাজ্যের বড় বড় ডাক্তার কবিরাজ তাঁকে সুস্থ করে তুলতে পারলেন না। এমতাবস্থায় গ্রামের এক চিকিৎসক জানান অল্প বয়স্ক বালকের হৃদপিন্ড দিয়ে তৈরি ওষুধেই কেবল বাদশাহ সুস্থ হতে পারেন। এক পিতা টাকার বিনিময়ে ছেলেকে বিক্রি করে দেয়। কাজী রায় দেয় প্রাণের বিনিময়ে বাদশাহর জীবন রক্ষা করার। বাদশাহ লক্ষ্য করলেন, বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়ার পরও ছেলেটি প্রাণভরে হাসছে। রাজা এর কারণ জানতে চাইলে ছেলেটি বলল, “তার জীবনটাই তো হাসির।” পিতা তাকে বিক্রি করেছে, কাজী তার প্রাণদন্ড দিয়েছে আর বাদশাহ তাকে রক্ষা করার বদলে তার প্রাণ নিতে চাইছে। এর চেয়ে হাস্যকর আর কি হতে পারে? বাদশাহ তার কথায় কাতর হলেন এবং তাকে মুক্ত করে দিলেন। কিছুদিন পর বাদশাহ সুস্থ হয়ে উঠলেন। তখন ছিল রাজার শাসন। রাজা যা বলতেন তা আইন হিসেবে মানতে হত। বর্তমানে আইনের শাসন, মানবাধিকার নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

তাহলে এই সভ্য সমাজে কেন থাকবে শিশু নির্যাতন? বর্তমানে শিশু হত্যা ও নির্যাতনের কৌশল বা পাশবিকতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সিলেটের শিশু রাজন, খুলনার গ্যারেজ কর্মী শিশু রাকিব, বরগুনায় চোখে আঘাতে হত্যা করা হয়েছে শিশু রবিউলকে। প্রতিটি হত্যাই ছিল নৃসংশতায় ভরা। সিলেটের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র রাজন, সবজি বিক্রেতা, হতদরিদ্র পরিবারে পিতা-পুত্র মিলে কষ্টে সংসার চালাত। চুরির মিথ্যা অপবাদে তাকে বাধা হয় বিদ্যুতের খুঁটির সাথে। এরপর শুর” হয় খুচিয়ে খুচিয়ে পায়ের নিচে রড দিয়ে আঘাত করা। আবার নির্যাতনের আঠাশ মিনিটের ভিডিও চিত্র ধারণ করে বীরত্ব প্রকাশের জন্য ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়। নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আঁতকে বা গা শিউরে উঠে অনেকেরই। নির্যাতনের সময় বুনো উল্লাসে মত্ত ছিল পাষন্ডরা। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ‘এই ক(বল) তুই চোর, তোর নাম ক(বল) লগে কারা আছিল?’ এমনটা বলতে শোনা যায় এক নির্যাতনকারীকে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রাজনের হাত, পা, মাথা ও পেটে রোল দিয়ে আঘাত করা ছাড়াও বা হাত ও ডান পা ধরে মোচড়াতেও দেখা যায়। আবার কয়েক মিনিটের জন্য, রাজনকে হাতের বাঁধন খুলে হাঁটতে দেওয়া হয়। এসময় নির্যাতনকারীরা বলতে থাকে, ওর হাড়গোড় তো দেখি সব ঠিক আছে, আরও মার। এরপর খুঁটিতে বেঁধে আবারও শুর” হয় নির্যাতন। ভিডিও চিত্রে দেখা যায় রাজনের কনুই ও হাটুতে লাঠি দিয়ে বার বার আঘাত করো হচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে রাজন বলে, “আড্ডির মাঝে আর মারিও না রে (হাড়ের মধ্যে আর মেরো না)।” কিন্তু রাজনের আকুতি বা মিনতিতে পাষন্ডদের মন গলেনি। এরপরেও বিরামহীন ভাবে চলে নির্যাতন।

এক পর্যায়ে এক নির্যাতনকারী বলে, ওর জিহ্বা কেটে ফেল। লাঠি দিয়ে পেটে ও বুকে গুঁতো দেওয়া হয়। নির্যাতনে কাঁদতে কাঁদতে বাঁচাও বলে চিৎকার করতে করতে মৃত্যুভয়ে চোখ মুখ ফুলে উঠে রাজনের। এক পর্যায়ে পানি পানের জন্য আকুতি জানায়। এ সময় নির্যাতনকারীরা বলে, “পানি নাই ঘাম ঘা”। এ বলে উল্লাসে করতে থাকে। বাবা মায়ের আদরের ধন মূল্যবান বস্তুর চেয়েও দামী যে শরীরে একটু পিঁপড়া কামড়ালে বাবা মা ব্যথা পেত সেই ছোট্ট শরীরে চৌষট্টিটি আঘাতের চিহ্ন নিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে রাজন না ফেরার দেশে চিরতরে চলে যায়। রেখে যায় সভ্য সমাজের কলঙ্কের কালিমায় লিপ্ত এক হৃদয়বিদারক ভিডিও চিত্র। পরের ঘটনা আমরা জানি, শান্তিকামী মানুষেরা বিচার প্রত্যাশা করে। মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলো বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়। আদৌ কি হবে ন্যায় বিচার? হলে হতে পারে। গত ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চার বছরের চাঞ্চল্যেভরা শিশু বড় ভাইয়ের সাথে খেলতে খেলতে শাহাজাহানপুর ঢাকায় ওয়াসার হাজারো মৃত্যু ফাঁদে পরিত্যক্ত তিনশ ফুট গভীরে একটি মৃত্যুকূপে হতভাগ্য জিহাদ পরে যায়। পায়ের নিচে পানি, ঘুটঘুটে অন্ধকার, তেলাপোকা আর টিকটিকির ছোটাছুটি অজানা আতঙ্ক ও ভয় এর মধ্যে প্রাণপন বাঁচার চেষ্টা সবকিছু ব্যর্থ করে সেও চলে যায় মৃত্যুর হীমশীতল ছায়ায়। উদ্ধার কারীদের দাবি উপর থেকে পাঠানো দড়ি ধরার চেষ্টা করেছিল জিহাদ, জানিনা সত্য কি না।

তবে সারারাত টিভিতে উদ্ধার কারীদের কার্যক্রম মানুষ আগ্রহের সাথে দেখেছে। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ গণমাধ্যমের কাছে তাদের মনের অবস্থা জানিয়েছে। শিশুর প্রতি ভালোবাসার জন্য সারাদেশের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও মানুষ তাদের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে। উদ্বেগ, উৎকন্ঠ, আলোচনা ও সমালোচনার দীর্ঘ তেইশ ঘন্টা পর তার নিথর পবিত্র দেহ অবশেষে উদ্ধার করা হয়। যেহেতু আজকের দিনটি “বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস” তাই বিশ্বের একটি শিশুর কথা না লিখে পারছিনা। সারা পৃথিবীর প্রায় সাতশত কোটি মানুষের মন জয় করে বিশ্বজুরে তোলপাড় সৃষ্টি করা ৩ বছরের শিশু আয়লান কুর্দি। শোকে স্তব্ধ বিশ্ববাসী দেখেছে সাগরের পানিতে ভাসা তুরস্ক উপকূলের ভেজা বালিতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা, হয়তো দম্ভ করে নিজেকে আড়াল করে রাখা কোমরের দু’পাশে দুই হাত রেখে ছোট্ট শরীরটা নিয়ে শুয়ে থাকা ছবিটি তুলেছিলেন চিত্র সাংবাদিক নিলুফার দেমি। নিথর দেহটি দেখে যন্ত্রনায় বুকটা মুচড়ে উঠলেও মনকে শক্ত করে নিজ পেশার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে শোকে মুহ্যমান হলেও স্তব্ধ বা ভেঙ্গে না পরে শাটারেই আঙুল দিয়ে দুর্লভ ছবিটি তিনি তুলেছিলেন।

লালটুকটুকে জামা, নীল হাফপ্যান্ট আর জুতা পায়ে সমুদ্রসৈকতে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা আয়লানের নি®প্রাণ ছবি আমাদের শিখিয়েছে আর কত প্রাণ কাড়ার পর চিরতরে বন্ধ হবে যুদ্ধ নামক ভয়ঙ্কর খেলা। তার মৃত্যুর পরেও কি মন গলবে প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকার গুলোর? কোন এক স্বপ্নময় মুহূর্তে এমন রাজপুত্তুর শিশুকে এলোমেলো না রেখে তার মা তাকে সাজিয়েছিল। বিধাতা যে ওকে অসামান্য সৌন্দর্য দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে, তাই তো তার অনাদর করা চলে না। ভুবন ভুলানো মুখে মিষ্টি হাসি সারাক্ষণ চঞ্চলতা, ছুটোছুটি, হুটোপুটি সবকিছু বন্ধ করে সাগরের নুড়ি বিছানো কর্কশ সৈকতে অভিমান করে মনে হয় মুখ লুকিয়ে আছে। অভিমান করেছে অসহিষ্ণু পরিবেশ আর তথাকথিত সভ্যতার উপর। মনে হয় পৃথিবীবাসীকে ডেকে বলছে, তোমাদের স্বার্থ ও হানাহানির জীবন তোমরা ভোগ কর, যে বিশ্ব ভূমিতে আমার মত ছোট্ট শিশুর একটু নিরাপদ জায়গা তোমরা তৈরি করতে পার না, সেখানে আমি থাকব না। তার প্রশ্নের সঠিক জবাব কে দেবে? হয়তো এভাবে তার চলে যাওয়ায় অনেক শরণার্থী (অভিবাসন প্রত্যাশী) পায়ের তলায় একমুঠো করে শক্ত মাটি পাবে। পরিশেষে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে শিশুর যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে তা যেন সারা বিশ্বের শিশুরা পায়। সে জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার অনুরোধ জানাই। মূূল্যবোধ, বিবেক, মনুষ্যত্ব, আইনের শাসন, মানবাধীকার বা বিচার ব্যবস্থা কার্যকর হোক এ প্রত্যাশা করি। মানুষের ¯েœহ ও ভালোবাসা সর্বদা নি¤œগামী (পিতা মাতা সন্তানকে, সন্তান পৌত্র দৌহিত্রকে)। যে সমস্ত পরিবারের অন্ধের যষ্ঠী চিরতরে হারিয়ে গেছে বিশেষ করে আয়লান কুর্দির পিতা আব্দুল্লাহর আহাজারি ও আর্তনাদের দিকে তাকালেই মনে হয় তাঁর জন্যেই কবির কালজয়ী উক্তি, “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে।”

লেখকঃ সহকারী প্রধান শিক্ষক, ফরক্কাবাদ এন.আই স্কুল এন্ড কলেজ, বিরল, দিনাজপুর।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: