সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাংবাদিক নির্যাতনকারী শাল্লার ইউএনও প্রত্যাহার : আজ মানববন্ধন

14434977_1742657329288186_814194651082411282_oসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::
সাংবাদিক পিটিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম আসিফ বিন ইকরামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে তাঁকে শাল্লা থেকে প্রত্যাহার করে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
যোগাযোগ করলে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব মামুনুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনারের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনে পৌঁছানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকালই শাল্লা থেকে ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা ওই ইউএনওকে প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে জনপ্রশাসনমন্ত্রীর কাছে একই দাবিতে স্মারকরিপি দেন তাঁরা। সাংবাদিকেরা ইউএনওকে প্রত্যাহারে সাতদিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।
গত রোববার সকালে শাল্লা উপজেলা বাজারে স্থানীয় সাংবাদিক বকুল আহমেদ তালুকদারকে (৪৭) মারধর করেন ইউএনও ইকরাম। আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বকুল সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক শ্যামল সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক হিজল-করচ-এর শাল্লা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
ইউএনও বকুলকে মারধরের পর পুলিশকে নির্দেশ দেন তাকে গ্রেপ্তারের জন্য। পরে তিনি দৌড়ে সেখান থেকে সরে যান। এরপর উপজেলা পরিষদের গেটের পাশে থাকা বকুল আহমেদের একটি দোকানঘর ভেঙে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন ইউএনও।
পরদিন সোমবার বিকালে স্থানীয় আরেক সাংবাদিক বাদল চন্দ্র দাসের দোকানঘর সেখান থেকে একইভাবে উচ্ছেদ করেন তিনি। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি এমরানুল হক চৌধুরী সংবাদ সংক্রান্ত কাজে মুঠোফোনে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফোন রেখে দেন। এ বিষয়টি জেলা শহরের সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
শাল্লার স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে সরকারের ১০টাকা কেজির চাল বিতরণের উদ্বোধন করেন ইউএনও। বাজারের একজন চাল ডিলারের ঘরে সেই অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু ওই ঘরের বারন্দায় ওঠার স্থানটি কিছুটা নিচু হওয়ায় সেখানে চালভর্তি বস্তা ফেলে সিঁড়ি উঁচু করা হয়। পরদিন এ নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং উপজেলার সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এক মারধর এবং অন্যদের দেখে নেওয়ার হুমকির পর ওই ইউএনওর ভয়ে উপজেলা ছেড়ে জেলা শহরের এসে আশ্রয় নেন সেখানকার সংবাদকর্মীরা।
ইউএনও আসিফ বিন ইকরাম তাঁর আগের কর্মস্থল সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় থাকাকালেও সেখানে এক পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পরিবেশবিধ্বংসী বোমামেশিন চালানোর সুযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩০ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে জামা রেখে দেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়ায় তাঁর দুটি বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বন্ধ রেখেছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দু:খ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ। তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার কাজ যেহেতু আদালতের সেহেতু সাংবাদিক কেন, কোন ব্যক্তিকে এভাবে মারধর করার অধিকার ইউএনও’র আছে বলে আমার মনে হয়না।

মানববন্ধন আজ : পাথর কোয়ারিতে বোমা মেশিন চালাতে ৩০ লাখ টাকার ‘ঘুস’ গ্রহণের অভিযোগ ও সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগে ইউএনও আসিফ ইকবালের শাস্তির দাবিতে আজ সিলেটের চার উপজেলা প্রেসক্লাব সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন করবে। আজ বেলা তিনটায় সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা প্রেসক্লাব মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: