সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট অঞ্চলে হারিয়ে যাচ্ছে ‘গরুবারি’ প্রথা

sherpur1শিপন আহমদ ::
সিলেট অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ‘গরুবারি’ প্রথা। এ সময় সিলেটের প্রতিটি এলাকায় ‘গরুবারি প্রথা চালু ছিল। নিয়মনুযায়ী প্রতিদিন গ্রামের একেক ব্যক্তি ওই গ্রামের সবার গরু একত্রিত করে মাঠে নিয়ে গিয়ে রাখালের দায়িত্ব পালন করতেন। আবার বিকাল হলে নিজ দায়িত্বে গরুগুলোকে তাদের মালিকদের কাছে সমঝে দিতেন। কালের বিবর্তনে আজ গরুবারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে। রাখালের দায়িত্বে গ্রামের সবার গরুগুলোকে একত্রিত করে ঘাস খাওয়ার সেই চিরচেনা চিত্র হয়তো আর কোনোদিনই আমাদের চোখে পড়বে না।

আগেকার দিনে শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিন একজন ব্যক্তির দায়িত্বে ছোটবড় হালের বলদ, দুধের গাভী ও বাচ্চাসহ কয়েক শ’ গরু একত্রিত করে একসাথে খোলা আকাশের নিচে কোনো না কোনো মাঠে ঘাস খাওয়াতেন। একজন ব্যক্তির দায়িত্বে গরুগুলোকে একত্রিত করে ঘাস খাওয়াকে বলা হতো ‘গরুবারি’। গ্রামের সকল গরুকে একত্রিত করে যিনি রাখালের দায়িত্ব পালন করতেন তাকে বলা হতো ‘গরুবারিদার’। তখনকার দিনে গ্রামে গরুবারির নিয়ম ছিল এরকম-বড় গ্রাম হলে গ্রামে গৃহস্থদের বেশি সংখ্যক গরু থাকলে দুই ঘরের দু’জন একসাথে বারিদারের দায়িত্ব পালন করতেন। এভাবে সিলেটের প্রতিটি গ্রামে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে গরুবারি দেয়া হতো। তবে গ্রাম ছোট হলে গরুর সংখ্যা কম হতো। সে ক্ষেত্রে ঐ গ্রামের একজনই বারিদারের দায়িত্ব পালন করতেন। সে নিয়ম অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সবাইকে পর্যায়ক্রমে (যাদের গরু আছে) গরুবারিদারের দায়িত্ব পালন করতে হতো। সকালবেলা গ্রামের গৃহস্থ গোয়াল ঘরের দরজা খুলে গরুগুলোকে ঘর থেকে বের করে নিজ দায়িত্বে বারিদারের কাছে সমঝিয়ে দিয়ে আসতেন। আবার ঠিক সন্ধ্যা হবার পূর্ব মুহূর্তে গরুগুলোকে নিজ দায়িত্বে বারিদারের কাছ থেকে বুঝে আনতেন। বর্তমানে গরুবাড়ির প্রথা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি হাওরাঞ্চল কমে যাওয়া, অনাবাদি জমি প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসা এবং কৃষি জমিতে দালানকোঠা নির্মাণের ফলে হাওরগুলোতে এখন আর খালি মাঠ না থাকায় গবাদি পশুকে উন্মুক্ত স্থানে চরিয়ে ঘাস খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। সেই সাথে হারিয়ে গেছে গরুবারি প্রথা।
অন্যদিকে গরু দিয়ে হাল চাষ বা ধান মাড়াই দেয়ার বিকল্প পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ায় কৃষকদের আগের মতো গরু পালনের প্রয়োজন হচ্ছে না। বর্তমান সময়ে কৃষকেরা জমির উর্বরাশক্তি বাড়ানোর জন্য জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। কিন্তু এক সময় গরুর গোবরই একমাত্র সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার হতো। আবার গ্রামের হতদরিদ্র লোকজন গরুর গোবর দিয়ে ‘গুই’ বানিয়ে (সিলেটি ভাষায় যেটাকে মুটিয়া বলা হতো) বানিয়ে উনুনে জ্বালিয়ে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করতেন।

লেখক : সংবাদকর্মী

image

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: