সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঝাড়ু দিয়ে শিক্ষার্থী পেঠানোর অভিযোগ

2-daily-sylhet-666ছাতক প্রতিনিধিঃ
ছাতকে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বেত্রাঘাতের নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করায় সম্প্রতি এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। এরপরও শাসনের নামে বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরীক নির্যাতন বন্ধ করা যাচ্ছে না। ঘন-ঘন শিক্ষার্থী পেঠানো ঘটনা ঘটছে এ উপজেলায়।

সোমবার পৌর শহরের কুমনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে এমনই একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীকে শাসনের নামে শারীরীক নির্যাতনের করার অভিযোগে পৌর শহরের গণক্ষাই এলাকার মৃত আজর আলীর পুত্র মাহমুদ আলম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দেন। অভিযোগ থেকে জানা যায়, মাহমুদ আলমের আপন ভাতিজা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মিজানুর রহমানকে লঘু পাপে গুরুদন্ড দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমান। হোম ওয়ার্ক দু’বারের স্থলে খাতায় একবার লিখে আনার অপরাধে মিজানকে কানে ধরিয়ে প্রায় ঘন্টা ব্যাপী নীলডাউন করে রাখেন এ শিক্ষক।

নীলডাউন থাকা অবস্থায় তাকে বেধড়ক চর-থাপ্পর মারতে থাকলে মিজান এক পর্যায়ে মাটিতে লুঠে পড়ে। পরে মাথায় প্রচুর পানি ঢালার পর কিছুটা সুস্থ হলে মিজানকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিদ্যালয়ে নির্যাতনের বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে জানিয়ে সে পুনরায় বিদ্যালয়ে চলে আসে। ঘটনাটি জানতে মিজানের চাচা মাহমুদ আলম বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন আবারো তাকে কান ধরিয়ে নীলডাউন করে রাখা হয়েছে। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুটি মিয়াও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। পড়া না পারলে এভাবেই শিক্ষার্থীদের তিনি শাস্তি দিয়ে থাকেন বলে প্রধান শিক্ষক দম্ভোক্তিও করেছেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঝাড়ু দিয়ে পেঠানোর অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমান শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের কথা অপকটে স্বীকার করে আর কখনো তিনি শিক্ষার্থীদের ঝাড়– দিয়ে মারবেন না বলে জানান। সভাপতি কুটি মিয়া জানান, প্রধান শিক্ষক এ শিক্ষার্থীকে কান ধরিয়ে নীলডাউন করে রাখতে দেখেছি। তবে ঝাড়–পেঠা করতে তিনি দেখেননি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি নেছার আহমদ, এলাকার নুর হোসেন, আখতার মিয়া, জামাল উদ্দিন, আব্দুল মতলিব, আফতাব উৃদ্দিন, কুতুব উদ্দিন, বেলাল আহমদ, ইজাজুল হকসহ স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমানের অপসারন দাবী করেছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক অফিসার মানিক চন্দ্র দাস জানান, কুমনা স্কুলের বিষয়টি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি এ প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করে যাচ্ছেন। সুস্থ মানুষের কোন আচরন এ শিক্ষকের মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের জন্য অনেকেই তার অপসারনের দাবী করেছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: