সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এরশাদ ও রওশনের আগমনকে ঘিরে সিলেট জাপা তিন গ্রুপে বিভক্ত

dailysylhetnewsleedবিশেষ প্রতিবেদক ::
সিলেট জাতীয় পার্টিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। প্রভাবশালী নেতাদের প্রভাব বিস্তার আর কেন্দ্রে ভালো পদে আসীন হওয়ার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে দলটি তিন বলয়ে বিভক্ত। ওই তিনটি বলয়ই সিলেট জাতীয় পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বলয় নিয়ন্ত্রণের জের ধরে দীর্ঘদিন থেকে সিলেট দলটি ছিল রুগ্ন অবস্থায়। দলের তেমন কার্যক্রমও নেই সিলেটে। মূল সংগঠন জাতীয় পার্টি থেকে শুরু করে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর একই অবস্থা। বর্তমানে দলটি প্রধান বিরোধী দল হলেও নেতাদের কোন্দলে কোনো কর্মসূচিই তারা রাজপথে পালন করেননি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলের এমপিদের বক্তব্য যদিও ছিল, তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতেই রাজনীতি করেন। অস্থিরতার রাজনীতির শিক্ষা তাদেরকে দলের চেয়ারম্যান দেননি। তাদের এমন বক্তব্যে সব সময়ই হতাশ তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

তৃণমূল নেতাদের স্পষ্ট কথা, সমালোচনার আরেক অংশ রাজপথে আন্দোলন। তাদের মতে, দলের সিনিয়র নেতারা বিভক্ত থাকার কারণেই সিলেটে দলের অবস্থান দিন দিন নিষ্ক্রিয় হচ্ছে। তবে এবার দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ সিলেটে আসছেন। আর তাই দলের সিনিয়র নেতা ও এমপিরা দ্বন্দ্ব ভুলে সিলেটের সমাবেশ সফল করতে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। সিলেটের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে বানানো হচ্ছে তোরণ, লাগানো ব্যানার আর ফেস্টুন। এরশাদের আগমনে জাতীয় পার্টিতে যেন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

1423323482দলীয় সূত্র মতে, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে যোগদানের পর সিলেট জাপা তিনটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তিনটি বলয়ই নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন দলের প্রবাসী তিন নেতা। তাদের নেতৃত্বেই জাতীয় পার্টির সকল কার্যক্রমও চলছিল পৃথকভাবে। এক মঞ্চে তিন নেতাকে দেখা যায়নি কখনো। এই তিনটি হচ্ছে, জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিরোধী দলীয় হুইপ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেলিম উদ্দিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুক্তরাজ্য প্রবাসী এটিইউ তাজ রহমান ও দলের যুগ্ম মহাসচিব, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়ার বলয়। বর্তমানে আতিকুর রহমান আতিক আবারো এরশাদের জাতীয় পার্টিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়ে ফেরার পর হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি ও ইয়াহ্ইয়া চৌধুরীকে এক মঞ্চে দেখা গেলেও প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমানের বলয়ের নেতারা ছিলেন দূরে।

বিরোধী দলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিনের বলয়ে রয়েছেন, জেলা জাপার সাবেক সহসভাপতি বাহার খন্দকার, বশির লসকর, মজির উদ্দিন চাকলাদার, আব্দুল হান্নান, আবুল হাসনাত, বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ আলতাফুর রহমান আলতাফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মরতুজা আহমদ চৌধুরীসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমানের বলয়ে রয়েছেন, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ, জেলা জাপার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, সদস্য সচিব উছমান আলী চেয়ারম্যানসহ বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সিংহভাগ নেতাকর্মী।

দলের যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়ার বলয়ে রয়েছেন, দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদ, মহানগর জাপার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কাইয়ুমসহ বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলা জাপার নেতাকর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক বলেছেন, রাজনৈতিক দলে বলয় থাকতেই পারে। জাতীয় পার্টিও বড় দল। বর্তমানে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, এখন সিলেট জাতীয় পার্টিতে আর কোনো বলয় নেই। আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ। দলের চেয়ারম্যানের সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত করতে সবাই কাজ করছেন। তিনি বলেন, আগামী ১ অক্টোবর দলের চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিলেটের সমাবেশে যোগদান করবেন। ওই সমাবেশ প্রমাণ করবে, জাতীয় পার্টি এক ও ঐক্যবদ্ধ।
দলের যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, জাতীয় পার্টির কোনো বলয় নেই। জাতীয় পার্টির নেতারা এক বলয়ের রাজনীতি করেন। তিনি বলেন, দলে প্রতিযোগিতা আছে, আর প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূলত দলের চেয়ারম্যান এরশাদ সিলেট আসছেন মাজার জিয়ারত করতে, আর ১৯৯৪ সালের পর সিলেট আসছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এমপি। তাঁদের আগমনে নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেওয়ায় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে দলের চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলের ২৫ জন এমপি উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রারি মাঠের এই সমাবেশ শুধু নেতাকর্মীদের সমাবেশ। সমাবেশে ৩০ হাজারের অধীক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন।

সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, রাজনীতি করলে বলয় থাকবেই। সিলেট জাপায়ও বলয় রয়েছে। তবে এ সব বলয় এক নেতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি হলেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাঁর আগমন উপলক্ষ্যে এখন সিলেট জাপার রাজনীতিতে কোনো বলয় নেই। সবাই এক ও ঐক্যবদ্ধ। সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন উপজেলায় সভাসমাবেশ চলছে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর আগমনেই সমাবেশ সফল করা হবে।

সিলেট মহানগর জাপার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কাইয়ুম বলেন, জাপায় কোনো কোন্দল নেই। জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও ফার্স্টলেডি, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের আগমনে মহানগর জাপার নেতারা আনন্দিত। সমাবেশ সফল করতে সকলেই কাজ করছেন। তিনি বলেন, সিলেটে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ হবে এরশাদের এই সমাবেশ। আমাদের নেতারা এখন দল এগিয়ে নিতে এরশাদের নির্দেশনা শোনার অপেক্ষায় আছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: