সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হঠাৎ ভারতের পিছু হটার আসল কারণ!

full_1940329922_1474865881আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাথে এই মুহূর্তে অন্তত যুদ্ধের পথে যাচ্ছে না ভারত এটা প্রায় নিশ্চিত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বক্তৃতায় সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। প্রথম দিকে ভারতের বিভিন্ন মহল পাকিস্তানকে শায়েস্তার বেশ হুঙ্কার দিয়েছিল। হঠাৎ কেন তারা পিছু হটল?

ভারতের কিছু সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, হাওয়া যাই উঠুক, এই মুহূর্তে কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধের পথে হাঁটবেন না মোদি সরকার। বরং, কূটনৈতিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানকে আরো একঘরে করার দক্ষ চাল চালতে পারে ভারত। যার অনেকটাই দিল্লি ইতোমধ্যে করেও ফেলেছে।

গত শুক্রবার জাতিসংঘের সহ-সচিব রাইজার্ড কারনেকি সাধারণ পরিষদ মঞ্চ থেকে পাকিস্তানের সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বেলুচিস্তানে যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, তাহলে যুগপৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরোপ করা হতে পারে। এ কথা শোনার পরেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সৈয়দ আকবরউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাতিসংঘ মঞ্চ থেকে কার্যত শূন্যহাতেই দেশে ফিরেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি পাকিস্তানের হাত একেবারে শূন্য?

ভারতের কাছে পাকিস্তানের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হলো চীন। উরির ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রীতিমতো প্রেস বিবৃতি দিয়ে ইসলামাবাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে জি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকার। কোনো অবস্থাতেই পাকিস্তানের সঙ্গে তার দেশ যে সম্পর্ক খারাপ করবে না তাও জানিয়েছে চীনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং৷ শুধু তাই নয় কাশ্মীর ইস্যুতেও ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডির সুরই বাজছে বেইজিংয়ের গলায়।

উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার বহু আগে থেকেই পাকিস্তানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের যাবতীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে ইন্দোনেশিয়া। আবার ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করতে যে তারা বদ্ধপরিকর সে কথা জানিয়েছে মাওবাদী প্রচণ্ডর নেপাল সরকার।

এদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের পাশাপাশি পাকিস্তান পাশে পেয়েছে রজব তাইয়েপ এরদোগানের তুরস্ককে। আঙ্কারার দাবি, ভারতই ‘অনৈতিকভাবে’ কাশ্মির দখল করে রেখেছে। আবার উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দা করলেও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কখনই সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেয়া হয়নি। যদিও ভারতের দাবি, সরাসরি নাম না নিলেও এই হামলার পিছনে যে পাকিস্তানের মদত রয়েছে সেই বার্তাই দিয়েছে ওবামা প্রশাসন। অন্যদিকে ভারতের আজীবনের বন্ধু রাশিয়ার সাম্প্রতিক গতিবিধি নিয়েও আশঙ্কা বাড়ছে ভারতের কোনো কোনো মহলে।

ভারতীয় মিডিয়ার ওই খবরে বলা হয়, সুতরাং সব দিক থেকে বিচার করে ভারত কূটনৈতিকভাবে সত্যিই কতটা এগিয়ে তা বলা খুব মুশকিল৷ আর তাই ‘মন কি বাতেঁ’র অনুষ্ঠান হোক কিংবা কোঝিকোড়ে বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠক, সব মঞ্চ থেকে ভারতের শাসকপক্ষ পাকিস্তানকে ধমক দিলেও যুদ্ধের দিকে যে মোদি সরকার পা বাড়াচ্ছে না, তা বলা যেতেই পারে৷ তা ছাড়া কারগিল যুদ্ধের পরে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের পতনের একটা পূর্বস্মৃতিও রয়েছে৷ সেই ইতিহাস বিজেপি ভুলে যায়নি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: