সর্বশেষ আপডেট : ৩৩ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফেসবুকে পুলিশ-আসামী ছবি পোজ : দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, জেহাদী বই ও অস্ত্র উদ্ধার সমাচার

14509431_10154154555449753_1442233251_nতাইসির মাহমুদ::
আমার অনেক বন্ধু, কেউ সম্পর্কে ছোট ভাই, কেউবা আবার বড় ভাই বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করেন। তাঁদের সঙ্গে এখন তেমন যোগাযোগ নেই। মাঝে মধ্যে সোশাল মিডিয়ার বদান্যতায় টুকটাক কথা বার্তা হয়।

তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা-এ কারণে যে তারা মানবসেবার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ একটি পেশা বেছে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সাহসীকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ বাহিনীতে বেশ সুনামও অর্জন করেছেন। সাব ইন্সপেক্টর পদে চাকরি শুরু করে এখন বেশ উচ্চপদে সমাসীনও হয়েছেন। তাদের উত্তরোত্তর পদোন্নতি কামনা করি।

কিন্তু মাঝে-মাঝে আবার তাদের কিছু কর্মকাণ্ড দেখে লজ্জিত হই। যখন দেখি, একজন আসামীকে গ্রেফতার করে দুই পাশে দুইজন পুলিশ অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিতে পোজ দিচ্ছেন । আসামীর বুকে কাগজের সাইন লাগিয়ে তাতে লিখে দেন “দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামী কালা মিয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার”। অনেক আসামীর সম্মুখে আবার একটি টেবিল থাকে। তাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রাখা থাকে। কারো সম্মুখে কিছু ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি আর কিছু বইও রাখা দেখা যায়। এসব আসামীর বুকে লেখা থাকে “বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ রমজান আলী গ্রেফতার”। আবার কোনো কোনো আসামীর ক্ষেত্রে লেখা থাকে “জিহাদী বইসহ গ্রেফতার”।

বাংলাদেশ পুলিশে এটি এখন একেবারেই স্বাভাবিক চিত্র। আসামী আটক করার সাথে সাথে পুলিশ অফিসার নিজ দায়িত্বে তাঁর ফেসবুকে ছবি আপলোড করতে মোটেও দেরী করেন না। আসামী গ্রেফতার যেনো নিজের পেশাগত কাজে মস্তবড় একটি অর্জন । এজন্য তা বিশ্ববাসীকে জানাতে হয়।

কিন্তু এভাবে একজন লোককে গ্রেফতার করার পর আদালতে হাজির করার আগে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার আগে, সোশাল মিডিয়ায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বানিয়ে ছবি দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা কি বাংলাদেশী আইনে বৈধ?

যে কেউ যে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই পারে, থানায় মামলা দিতে পারে- এটা একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে একজন মানুষ আদালতে দোষী সাব্যস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত সে সম্পুর্ণ নির্দোষ।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় “অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক” শীরোনামে বুকে সাইন লাগিয়ে ফেসবুক ও সংবাদপত্রে তার ছবি ছাপা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। বিচারের জন্য বছরের পর বছর জেলে বন্দী থাকতে হয়েছে। কিন্তু শেষতক নির্দোষ হিসেবেই খালাস পেয়েছেন তিনি । তাহলে ওই ব্যক্তিকে যে সন্ত্রাসী বানিয়ে ফেসবুকে ছবি দিয়ে সামাজিকভাবে সন্ত্রাসী চিহ্নিত করা হলো তাঁর বিচার করবে কে? সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার কি ওই ব্যক্তির বুকে “অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমানিত হওয়ায় নির্দোষ হিসেবে মুক্তি লাভ” সাইন লাগিয়ে তা আবার ফেসবুকে আপলোড করবেন? নাহ তিনি কখনো করবেন না। তাহলে এভাবে একজন মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার অর্থ কি?
আজকাল বাংলাদেশ পুলিশে কী হচ্ছে- তা তো আমরা অহরহই দেখতে পাচ্ছি। পুলিশ চাইলে যে কাউকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করতে পারে। এটা পুলিশের জন্য কোনো বিষয়ই নয়। গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার পথে পকেটে একটি অস্ত্র রেখে দিলেই কেল্লাফতে। এই প্রাকটিস তো চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। আর জিহাদী বইয়ের তো অভাব নেই। এখন তো বেহেশতী জেওর, মুকসুদুল মোমিনিন ইত্যাদি চিরায়েত ইসলামি বইও পুলিশের জিহাদী বইয়ের তালিকায় চলে এসেছে। যারা মেসে কিংবা হোস্টেলে থাকেন তারা ঘরে কুরআন শরীফ রাখতেও ভয় পান। কারণ অস্বাভাবিক নয়, কুরআন শরীফ ঘরে পাওয়া গেলেও হয়তোবা বলা হতে পারে তিনি ইসলামিস্ট বা জিহাদী। আর জিহাদী বইয়ের সংজ্ঞা পুলিশ কর্মকর্তরাই ভালো জানেন। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা হয় “জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে”। কিন্তু কী সে জিহাদী বই-তার বর্ণনা বা তালিকা পাওয়া যায়না।
দুই.
ষোল বছর ধরে বৃটেনে আছি। এদেশে আসার পর থেকে সাংবাদপত্রেই কাজ করি । পেশাগত কারণে বৃটিশ পুলিশের সঙ্গে প্রায়শই যোগাযোগ রাখতে হয়। কোথাও কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা, ড্রাগ ডিলিং কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটলে পুলিশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করি। পুলিশ অনেক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগী আসামী গ্রেফতার করে। কিন্তু কোনোদিনও আটক সন্ত্রাসীর নাম-ঠিকানা মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করেনা । প্রায় সময় থানা থেকে প্রেস রিলিজ পাঠানো হয়। কিন্তু এতেও আটককৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়না। প্রেস রিলিজে ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে লেখা হয় “হত্যার ঘটনায় ৩৮ বা ৪০ বছরের এক পুরুষ/মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” ফেসবুকে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করা দূরের কথা, কখনো নামই প্রকাশ করা হয়না। শুধুমাত্র আদালতের রায়ে ওই ব্যক্তি দোষী সাব্যস্থ হলেই তবে নাম প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশে কি পুলিশের কোড অব কন্ডাক্ট অনুযায়ী দোষী সাব্যস্থ হওয়ার আগেই যেকোনো ব্যক্তির বুকে সন্ত্রাসী লিখে ফেসবুকে ছবি দিয়ে তার সম্মানহানীর অধিকার দেয়া হয়েছে?
সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ
লন্ডন, যুক্তরাজ্য

ফেসবুক থেকে নেওয়া

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: