সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দিরাইয়ে নিলুফা হত্যা : এক বছরেও চার্জশিট দাখিল করেনি পুলিশ

01দিরাই সংবাদদাতা : দিরাইয়ে অন্ত:স্বত্তা নিলুফা হত্যা মামলার এক বছর হতে চললেও এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেনি পুলিশ। মামলার প্রধান আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী ও নিলুফার পিতা দিরাই উপজেলার কেজাউড়া গ্রামের জবর আলী এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার জামাতা গিয়াস উদ্দিন ও চাচাতো ভাই আব্দুল কুদ্দুছের সাথে একই গ্রামের মৃত আয়াজ উল্লাহ’র পুত্র আনোয়ার মিয়ার বিরোধ ছিল। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে গ্রামের জাহেদ মিয়া ও আজহারুল মিয়ার বসতবাড়ির আঙ্গিনায় এক সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে তিনি ও তার জামাতা গিয়াস উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক চলাকালীন সময়ে তার জামাতা গিয়াস উদ্দিনের সাথে আনোয়ার মিয়ার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গিয়াস উদ্দিনের উপর আনোয়ার মিয়া আক্রমন করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন আনোয়ার মিয়াকে নিবৃত করেন। এর ২/৩ দিন পর গত বছরের ৮ অক্টোবর আনোয়ার মিয়া তার আত্মীয় স্বজন ও সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে গিয়াস উদ্দিনের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন গিয়াস উদ্দিন। তাকে বাঁচাতে গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা এগিয়ে আসলে আনোয়ার মিয়া ও তার সঙ্গীরা তাকেও এলোপাতাড়িভাবে কুপাতে থাকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অর্ধশত লোকজন ঘটনাটি সচক্ষে দেখেছেন এবং তাদেরকে এ রকম কান্ড থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা কারো কথা শুনেনি। নিলুফা ও গিয়াস উদ্দিনকে মৃত মনে করে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাদেরকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ঘটনার দু’দিনের মাথায় অর্থাৎ ১০ অক্টোবর নিলুফা মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ১১ অক্টোবর দিরাই থানায় তিনি বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় আনোয়ার মিয়াকে। এছাড়া তার সহযোগী একই গ্রামের ওয়ারিশ উদ্দিনের পুত্র জাহেদ মিয়া ও আজহারুল মিয়া, আব্দুল হামিদের পুত্র শিহাব মিয়া, মৃত আলতাব উদ্দিনের পুত্র আমিরুল ইসলাম ও সালাতুল ইসলাম, মছদ্দর আলীর পুত্র সৈয়দুর রহমান, মৃত বরকত উল্লাহর পুত্র জসীম উদ্দিন ও সুলেমান মিয়া, মৃত আইন উদ্দিনের পুত্র নুর ইসলাম, মৃত জমশর উদ্দিনের পুত্র রফিকুল ইসলাম, মাতব্বর আলীর পুত্র ওয়াহাব উদ্দিন, মাহমদ আলীর পুত্র রুবেল মিয়া, মৃত কেরামত আলীর পুত্র আনোয়ার হোসেন, মৃত জয়নব উদ্দিনের পুত্র তাজুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদের পুত্র রায়হান মিয়াকেও আসামি করা হয়।

জবর আলী বলেন, নির্মম এই হত্যাকান্ডের ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলার চার্জশিট দাখিল করেনি পুলিশ। কিংবা আসামি গ্রেফতারেও দিরাই থানা পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করেনি। বরং ১নং আসামি আনোয়ার মিয়াকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির কাছে ন্যাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আনোয়ার মিয়া তাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জবর আলী তার অন্ত:স্বত্তা মেয়ে নিলুফার হত্যাকারী আনোয়ার মিয়াকে অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং মামলার চার্জশিট প্রদানে পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: