সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নদী দিবসে পরিবেশবাদীদের অবস্থান

14425467_1741281859425733_1028366797691014988_oস্টাফ রিপোর্টার::
নগরীর কাজিরবাজার এলাকায় সুরমা নদীতীর দখল করে স্থাপন করা বিলাসী শৌচাগার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভাঙা হবে বলে পরিবেশবাধীদের আশ্বস্ত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন। ‘সুস্থ নদী, সুস্থ নগর’-এ প্রতিপাদ্যে গতকাল রোববার বিশ্ব নদী দিবস উদযাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার যৌথভাবে সুরমা নদীতীর দখল করে শৌচাগার ভাঙার দাবি জানানোয় স্মারকলিপি দিলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এটি নিয়ে আমি নিজেও বিব্রত। বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য বিবেচনায় এটি কোনোভাবেই মানা যায় না। আমি ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি ভাঙার ব্যবস্থা নেব।’
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘কাজিরবাজারে সুরমা নদীতীর দখল করে বিলাসী শৌচাগার ভাঙতে প্রশাসনের নীরবতায় প্রতিবাদী অবস্থান ও স্মারকলিপি পেশ’ শীর্ষক ব্যানার নিয়ে প্রায় আধাঘন্টা প্রতিবাদী অবস্থান চলে। এতে প্রবীণ আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী, টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সিলেট বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা শিরিন আক্তার, মরমি কবি হাসন রাজা গবেষক সামারীন দেওয়ান, দৈনিক সবুজ সিলেটের বার্তা সম্পাদক ও বাপা সিলেটের সংগঠক ছামির মাহমুদ, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি, সহকারী অধ্যাপক প্রণব কান্তি দে, অ্যাডভোকেট শাব্বির আহমদসহ পরিবেশবাদী নাগরিকেরা একাত্ম হন।
প্রতিবাদী অবস্থান চলাকালে বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়টারকিপার আবদুল করিম কিম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি এবার বিশ্ব নদী দিবস পালনে সুস্থ্য নদী, সুস্থ নগর-এ প্রতিপাদ্যের মধ্যে সিলেটের জন্য সবচেয়ে বড় দৃষ্টিকটু সুরমা নদীতীর দখল করে নির্মিত ওই শৌচাগার বলে অভিহিত করে বলেন, সুরমা নদীর তীরে আমার ঠিকানা রে…বলে যে সুরমা নিয়ে গর্ব করে সিলেটের মানুষ, সেই সুরমা নদীর জায়গা দখল করে কাজিরবাজারে শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামান্য দূরে এবং নগর ভবন (অস্থায়ী) ও কোতোয়ালি থানার একেবারেই নিকটে নদী দখল করে বিনা বাধায় উদ্ভট এই স্থাপনা নির্মাণ করে কাজিরবাজার মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি।
এটি অপসারণ করতে জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিতেও এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, অবৈধ এই শৌচাগারটি নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নগরের প্রানকেন্দ্রে নদী দখলের এই রুচিহীন চিত্র দেখে সিলেটের সর্বস্তরের নদীপ্রেমিকরা ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা আশা করেছিলেন সিলেটের প্রশাসন অবিলম্বে ব্যাবস্থা গ্রহণ করে নদীকে তার ভূমি ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার মাস তিনেক পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, এ অবস্থায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের পরিচালক (সমন্বয়) ইকরামুল হক সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর ‘জরুরি চিঠি’ দেন। জেলা প্রশাসক ‘জেলা নদী রক্ষা কমিটি’র আহ্বায়ক হওয়ায় তাঁর কাছে ২২ জুন ওই চিঠি দিয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের এ ভূমিকায় নাগরিকরা আস্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও রুচিহীন দখলদারদের বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। বিলাসী এ শৌচাগার বহাল তবিয়তে আছে। সেখানে নিয়মিত শৌচকর্মও চলছে। যা সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সুরমা নদীকে প্রতিনিয়ত দূষিত করছে । একই সাথে এই অপকর্মকে দণ্ডিত না করায় নদী দখলের সংস্কৃতি উৎসাহিত হচ্ছে।
কর্মসূচি শেষে আবদুল করিম কিম বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি শৌচাগার এখনও অপসারণ না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনিও এবারের নদী দিবসের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে শৌচাগার একটি বিব্রতকর স্থাপনা অভিহিত করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভাঙার ব্যবস্থা করবেন বলে আমাদের আস্বস্ত করেছেন।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: