সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে প্রাণিসম্পদ অফিসে কর্মকর্তা সংকটে কার্যক্রম ব্যাহত

prni-ofic-ok-1ছাতক প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের ছাতক প্রাণিসম্পদ অফিসে প্রয়োজনীয় উপকরণ, ওষুধ, চিকিৎসক ও তীব্র জনবল সংকটে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় ৮৫ হাজার পরিবার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাঁস-মোরগ, গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া, কবুতর-কোয়েল খামারসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর মালিকেরা।
প্রাণিসম্পদ অফিসের দেয়া তথ্যে মতে, ১৩ ইউনিয়নও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ছাতক উপজেলায় গরুর (রেজি.) খামার ১৮টি ও ছোট-বড় মিলে আরো রয়েছে ৫০/৬০টি। ছাগলের খামার ৩টি, হাঁেসর খামার ২শ’টি ও মোরগের খামার রয়েছে ৩শ’টি। এছাড়া উপজেলায় মোট গরু রয়েছে প্রায় ২ লাখ, মহিষ ৫হাজার, ছাগল ৬ হাজার, ভেড়া ৩ হাজার, হাঁস ২লাখ, মোরগ ৩ লাখ, কবুতর ৪ হাজারসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুপাখি রয়েছে আরো লক্ষাধিক। সরকারি হিসেবে গৃহপালিত প্রাণীর সংখ্যা মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার হলেও এর চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে এ উপজেলায়।
কিন্তু প্রয়োজনীয় উপকরণ, জনবল, ওষুধ ও ডাক্তার সংকটে পিছিয়ে পড়েছে এখানের ডেইরিও পোল্ট্রি খামারিসহ কৃষকরা। দোলারবাজার, জাউয়া, দক্ষিণ খুরমা, ভাঁতগাঁও, সিংচাপইড় ও ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের একাধিক কৃষক জানান, তারা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমেরিকান ব্রাহমা জাতের গরু উৎপাদন করতে আগ্রহী। কিন্ত এখানে একজন ভেটেরিনারি ডাক্তার বিশাল এলাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউপির কৃষকরা বলেন, সুরমা নদী ও দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার ফলে পশুপাখি নিয়ে হাসপাতালে আসা-যাওয়া যেমনি কষ্টকর ও ব্যয়বহুল, তেমনি সদরে এসে ডাক্তার নেয়া সময়সাপেক্ষ। অনেক সময় দেখা যায়, ডাক্তার নিয়ে বাড়ি পৌঁছার আগেই পশু মারা যায়। এজন্যে তারা প্রত্যেক ইউনিয়নের একজন করে পশু চিকিৎসক ও পরামর্শক নিয়োগের জন্যে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
ছাতকে প্রাণিসম্পদ অফিসে ১১টি পদের মধ্যে ৭টি পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। মাত্র চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই হযবরল অবস্থায় চলছে অফিসের কার্যক্রম। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ১জন, ভেটেরিনারি সার্জন ১জন, ভেটেরিনারি কম্পিউটার ১জন, এফএএআই ১জনসহ ৪জন কর্মরত দায়িত্বরত থাকলেও ভিএফএ ৩জন, ইউএলএ ১জন, অফিস সহকারী ১জন, ড্রেসার ১জন, এমএলএসএস ১জনসহ অফিসের প্রধান ৭টি পদ শূন্য রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার মোর্শেদ উদ্দিন আহমদ ও ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার আব্দুস শহীদ হোসেন জানান, এখানের অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রাণিসম্পদ চিকিৎসায় তারা হিমিশিম খাচ্ছেন। এছাড়া পৌরসভার নিজস্ব প্রাণিসম্পদ অফিসার না থাকায় পৌরবাসীকে তারা অতিরিক্তি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এখানে প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধ খুবই কম বরাদ্দ আসে। আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকটও রয়েছে এখানে। ফিল্ড অফিসার না থাকায় ১৩ইউনিয়নের বিশাল এরিয়ায় গিয়ে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ৭টি পদ শূন্য থাকায় দিন-রাত তারা ব্যবস্থাপত্র, চিকিৎসাসেবা, ওষুধসহ মোবাইলফোনে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: