সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেড় শতাধিক রাজনীতিক থাকছেন ২৭টি দেশের

1474803201নিউজ ডেস্ক: উপ-মহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ২২ অক্টোবর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাড়ে ৬ সহস্রাধিক কাউন্সিলর, ২৭টি গণতান্ত্রিক দেশের দেড় শতাধিক রাজনীতিক, ৩০ হাজার ডেলিগেট এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনী ভাষণ এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের রিপোর্ট পেশ করার পর বিদেশি অতিথিরা বক্তৃতা করতে পারেন। এ ধরনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। কাউন্সিলে এবারের স্লোগান ‘উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার/এখন সময় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’।

উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ২৩ অক্টোবর সারা দেশ থেকে আসা কাউন্সিলরদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে মূল কাউন্সিল অধিবেশন। এ সময় জেলা নেতাদের বক্তব্য শুনবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এ অধিবেশনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলের ২০তম জাতীয় এ সম্মেলনে আবারো সভাপতি হচ্ছেন। কারণ জাতির পিতা হত্যার পর দলকে সুসংগঠতি করে তৃতীয়বার ক্ষমতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অবদান অপরিসীম। আর তাই তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে দলের নেতাকর্মীরা সভাপতি হিসেবে কল্পনাও করতে পারেন না। কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর কাউন্সিলরদের সম্মতিতে সভানেত্রী শেখ হাসিনা পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেবেন।

জানা গেছে, কাউন্সিলরদের দ্রুত তালিকা পাঠাতে গত সপ্তাহে প্রতিটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তবে ৩৫ জেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় কাউন্সিলরের তালিকা করতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশের ফেরার পর সব জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। আর এর মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পরে তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত করা হবে কাউন্সিলরের তালিকা। এরপর ডাকা হবে দলের জাতীয় কমিটির বৈঠক। জাতীয় কমিটির বৈঠকে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং বার্ষিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, জনসংখ্যা অনুপাতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে ২৫ হাজার মানুষের জন্য একজন কাউন্সিলর হবেন। দেশে যদি সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ থাকেন তাহলে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হবেন ৬ হাজার ৬শ’ জন। যে জেলায় জনসংখ্যা বেশি সেখানে কাউন্সিলরের সংখ্যা বেশি হবে। প্রতিটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলরের এ তালিকা প্রণয়ন করে কেন্দ্রে পাঠাবেন। এরপর দলীয় সভানেত্রীর অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত হবে। দলের প্রবীন ও ত্যাগী নেতাদের কাউন্সিলর করার জন্য কেন্দ্রের নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে স্মরণীয় ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনে জোর প্রস্তুতি চলছে দলটিতে। গতানুগাতিক নয়, জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে দলটির ইতিহাস-ঐতিজ্যের পাশাপাশি সরকারের সাফল্যগাঁথা ইতিহাস এবং বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক পোস্টার-ব্যানার-সিডি-ভিসিডির মাধ্যমে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে দলটি। এছাড়া ইতিমধ্যে দুই ধরনের পোস্টার ছাপা হয়েছে। সম্মেলনের ডাক শিরোনামে পোস্টার শিগগিরই সারা দেশে পাঠানো হবে। সম্মেলনে ব্যবহার করা হবে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। ১০ দিন আগে থেকেই আলোকসজ্জা করা হবে পুরো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ প্রবেশপথ। ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখানো হবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সব উন্নয়ন।

দিন-রাত ধরে বড় বড় এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হবে দলটির ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্জন ও উন্নয়নের চিত্র। এরই মধ্যে সেসব ডকুমেন্টারি নির্মাণ করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূলমঞ্চের সামনে বালি শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকান্ডের দৃশ্য। নৌকা আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হবে। মঞ্চের উচ্চতা হবে মাটি থেকে ২৫ ফুট। মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা থাকবে। মঞ্চের সামনের দিকে স্বচ্ছ কাচের খুঁটিবিহীন একটি গ্যালারি তৈরি করা হবে। যার আকার হবে ২৩০ ফুট বাই ১২৫ ফুট। সেখানে সাত হাজার অতিথির আসন থাকবে। ৪০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যান্ডেল করা হবে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে ১ অক্টোবর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। কাউন্সিলর ও ডেলিগেট দিয়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার লোকের সমাগম ঘটবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। তাদেরও দুই দিন খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার পৃথক পৃথক স্থান থাকবে। এছাড়া দুই দিন ধরেই রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশদ্বারে এবং সম্মেলন স্থলের চতুর্দিকে একাধিক মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ প্রবেশপথগুলোতে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে ২৭টি গণতান্ত্রিক দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের নেতারা যোগ দেবেন। দলীয় সূত্র জানায়, ২২টি দেশের দেড় শতাধিক রাজনীতিবিদকে ইএমএসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্বাক্ষর করা আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আমন্ত্রণ জানানো নেতাদের মধ্যে ভারতের ২০ জন নেতা আছেন। এরমধ্যে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সিপিআইএম নেতা প্রকাশ কারাত ও সীতারাম ইয়েচুরি, পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম নেতা বিমান বসু, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রধান দেবব্রত বিশ্বাস, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআইএম প্রধান মানিক সরকার, ত্রিপুরা কংগ্রেসের সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, আসাম ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল, আসাম গণপরিষদের প্রফুল্ল কুমার মহন্ত, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়ারাম, দিল্লির আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দাওয়াত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মণিপুর পিপলস পার্টি, নাগাল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট, মেঘালয়ের ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, অরুণাচল কংগ্রেস, মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট, বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দল ও উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির সভাপতিকে।

জানা গেছে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টি, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি, অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টি ও রিপাবলিক পার্টি, কানাডার কনজারভেটিভ পার্টি ও নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি, রাশিয়ার ইউনাইটেড রাশিয়া ও রিপাবলিকান পার্টি অব রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, জাপানের ডেমোক্রেটিক পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জার্মানি ও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন, নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি ও নেপালি কংগ্রেস, শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি ও আইটিএকে এবং মালয়েশিয়ার ইউএমএনও, পিপলস জাস্টিস পার্টির প্রধান, সাবেক ক্রিকেটার ও পাকিস্তানের তেহরিক ই-ইনসাফের সভাপতি ইমরান খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে কারা কারা কাউন্সিলে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসছেন। বিদেশি অতিথিদের জন্য আপ্যায়ন, ঘোরাফেরা এমনকি রাতযাপনেও রাজকীয় আতিথেয়তার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশি বিনোদন, রাজনৈতিক দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো পরিদর্শনের ব্যবস্থাও করেছে দলটি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে স্মরণীয় রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সবশেষ জাতীয় সম্মেলন হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। তবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: